X
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

ছয় মাসে ভ্যাকসিনের আওতায় জনসংখ্যার আড়াই শতাংশ মানুষ  

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২১, ১৬:৩৭

দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যাপকভাবে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয় চলতি বছর ৭ ফেব্রুয়ারি। এরপর থেকে ছয় মাসেরও কিছু বেশি সময়ে এখন পর্যন্ত টিকা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ১৮ লাখ ৬৬ হাজার ৩৩৭ ডোজ। এগুলো দেওয়া হয়েছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ফর্মুলায় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি কোভিশিল্ড, চীনের তৈরি সিনোফার্ম, ফাইজার এবং মডার্নার ভ্যাকসিন। এরমধ্যে এক ডোজ নিয়েছেন ৭৫ লাখ ৬০ হাজার ৩৭২ জন এবং দুই ডোজ নিয়েছেন ৪৩ লাখ ৫ হাজার ৯৬৫ জন। প্রতিটি টিকাই দুই ডোজ গ্রহণ করতে হয় অর্থাৎ দেশের ৪৩ লাখ মানুষ টিকার দুই ডোজ সম্পন্ন করেছেন, যা মোট জনসংখ্যার আড়াই শতাংশ।

জনসংখ্যার বিপরীতে টিকার পরিসংখ্যান
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২০’-এর হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯১ লাখ। সুতরাং মোট জনসংখ্যার আড়াই শতাংশ মানুষ ছয় মাসে টিকার দুই ডোজ পূর্ণ করেছেন। আর মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ মানুষ প্রথম ডোজের আওতায় এসেছেন। অর্থাৎ সব মিলিয়ে জনসংখ্যার ৭ দশমিক ০১ শতাংশকে টিকার আওতায় আনা গেছে ছয় মাসের বেশি কিছু সময়ে। দেশের ৮০ শতাংশ জনসংখ্যাকে টিকার আওতায় আনতে চায় সরকার। সেই হিসাবে ১৩ কোটি ৫২ লাখ ৮ হাজার মানুষকে টিকা দিতে হবে।   

দেশে টিকা এসেছে ২ কোটি ১১ লাখ ৪৫ হাজার ডোজ
দেশে গত ২১ জানুয়ারি প্রথম আসে ভারত সরকারের উপহারের ২০ লাখ ডোজ টিকা। এসব টিকা ছিল অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ফর্মুলায় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি কোভিশিল্ড। তার ঠিক চারদিন পর আসে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তির প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ কোভিশিল্ড। এই ৭০ লাখ ডোজ হাতে রেখেই দেশে শুরু হয় গণটিকা কার্যক্রম। এরপর উপহার আর কেনা টিকার চালান মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ২ লাখ ডোজ কোভিশিল্ড দেশে এসেছে। ২৬ মার্চের পর টিকার আর কোনও চালান ভারত থেকে আসেনি। ভারতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এবং নিজ দেশের নাগরিকদের টিকা নিশ্চিতে সেরাম ইনস্টিটিউট রফতানি বন্ধ করে দেয়।

এরপর দেশে চীনের তৈরি সিনোফার্মের ভ্যাকসিন ৫ লাখ ডোজ দেশটির সরকার উপহার হিসেবে পাঠায় গত ১২ মে। এখন পর্যন্ত উপহার এবং কেনা টিকাসহ মোট ৫১ লাখ ডোজ এসেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার উপহার হিসেবে কোভ্যাক্সের আওতায় এখন পর্যন্ত মডার্নার ৫৫ লাখ ডোজ টিকা পাঠিয়েছে। এর আগে ১ লাখ ৬২০ ডোজ ফাইজারের টিকা কোভ্যাক্সের আওতায় পাঠানো হয়। এরপর জাপান থেকে ২৪ জুলাই আসে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২ লাখ ৪৫ হাজার ডোজ।

অর্থাৎ সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২ কোটি ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৬২০ ডোজ দেশে এসেছে।

করোনা টিকা

কোন টিকা কতটুকু দেওয়া হয়েছে
দেশে এখন পর্যন্ত চার ধরনের টিকার দুই ডোজ মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ১৮ লাখ ৬৬ হাজার ৩৩৭ ডোজ। এরমধ্যে এক ডোজ নিয়েছেন ৭৫ লাখ ৬০ হাজার ৩৭২ জন এবং দুই ডোজ নিয়েছেন ৪৩ লাখ ৫ হাজার ৯৬৫ জন।

টিকা গ্রহীতাদের মধ্যে কোভিশিল্ড নিয়েছেন ১ কোটি ১ লাখ ১৮ হাজার ১১৯ জন। এরমধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৮ লাখ ২০ হাজার ৩৩ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৮৬ জন। তাই এই মুহূর্তে কোভিশিল্ড টিকা অবশিষ্ট আছে ৮১ হাজার ৮৮১ ডোজ। ভারত থেকে কোভিশিল্ড আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ মানুষের দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে শঙ্কায় পড়তে হয়। কিন্তু জাপান থেকে আড়াই লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসায় তা কিছুটা কমে সাড়ে ১২ লাখের মতো মানুষ দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে সংশয়ে থেকে যায়। এদের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকারই দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। কেননা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনও দুই কোম্পানির দুই ডোজের টিকা গ্রহণের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত দেয়নি।

সিনোফার্ম দেওয়া হয়েছে ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮০৩ ডোজ, ফাইজার দেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার ৫১১ ডোজ এবং মডার্না দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯০৪ ডোজ।

দ্বিতীয় ডোজের ব্যবধান কোন টিকার জন্য কতদিন
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) পাঠানো সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দুই ডোজের ব্যবধান ১২ সপ্তাহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া সিনোফার্ম, ফাইজার এবং মডার্নার ক্ষেত্রে নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ দিন বা চার সপ্তাহ।

টিকার ব্যবস্থা হয়েছে ২১ কোটি
দেশের ৮০ শতাংশ জনসংখ্যাকে টিকার আওতায় আনতে চায় সরকার। সেই হিসাবে ১৩ কোটি ৫২ লাখ ৮ হাজার মানুষকে টিকা দিতে হবে। সেজন্য দুই ডোজের টিকার ক্ষেত্রে প্রয়োজন ২৭ কোটি ৪ লাখ ১ হাজার ৬০০ ডোজ। তবে এক ডোজ টিকার ক্ষেত্রে কিছু কম প্রয়োজন হবে। সরকার জনসন অ্যান্ড জনসনের এক ডোজের টিকা ৭ কোটি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেক্ষেত্রে মোট টিকার প্রয়োজন হতে পারে ২০ কোটি ৪ লাখ ১ হাজার ৬০০ ডোজ।

২১ কোটি টিকার মধ্যে রাশিয়ার ১ কোটি ডোজ স্পুটনিক ভি, চীনের সিনোফার্মের ৩ কোটি ডোজ, অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি, কোভ্যাক্সের আওতায় ৭ কোটি ও জনসন অ্যান্ড জনসনের ৭ কোটি ডোজ টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী ২৬ বা ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা দেশে আসবে। টিকা সংরক্ষণে ২৬টি কোল্ড ফ্রিজার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনা হয়েছে। এগুলোয় মাইনাস ৭০ ডিগ্রিতে রাখার মতো টিকাও সংরক্ষণ করা যাবে। বিভিন্ন দেশ থেকে নতুন করে আরও যে টিকা আসবে, সেগুলো সংরক্ষণ করতে কোনও সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।  

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে কোভিশিল্ডের ৩ কোটি ডোজ টিকা কেনার জন্য গত বছরের শেষ দিকে চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। সেই টিকার প্রথম চালান পাওয়ার পরই গণটিকাদান শুরু হয়। কিন্তু দুই চালানে ৭০ লাখ ডোজ পাঠানোর পর ভারত রফতানি বন্ধ করে দিলে সংকটে পড়ে বাংলাদেশ। পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় ২৫ এপ্রিল দেশে প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। যারা প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া যায়নি। যার ফলে টিকাদান কর্মসূচি গতি হারায়। এমন পরিস্থিতিতে সরকার চীন ও রাশিয়া থেকে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। পাশাপাশি সম্ভাব্য সব উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়।

মাসে এক কোটি টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, আমরা যাচাই করেছি আগামী দিনগুলোতে কোন দেশ থেকে কত ভ্যাকসিন পাবো। সব মিলিয়ে আমাদের হিসাবে ২১ কোটির মতো ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা আছে। এই ২১ কোটি ভ্যাকসিন দেওয়া, সংরক্ষণ করা এবং এজন্য প্রয়োজনীয় জনবলের যে ব্যবস্থা সে বিষয়েও পরিকল্পনা আমরা করেছি। আমাদের সক্ষমতা ৮ কোটি ভ্যাকসিন সংরক্ষণের। আর তাপমাত্রা সেনসিটিভ ভ্যাকসিনও প্রায় ৩০ লাখ সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে। আরও কিছু ফ্রিজের অর্ডার করা হয়েছে। সেগুলো এলে সব মিলিয়ে কোটির কাছে চলে যাবে এই তাপমাত্রা সেনসিটিভ ভ্যাকসিন সংরক্ষণের ব্যবস্থা। আমাদের প্ল্যান হচ্ছে প্রত্যেক মাসে এক কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া।

লক্ষ্য পূরণে লাগবে ২ বছরের বেশি সময়
মাসে এক কোটি টিকা প্রয়োগ করলেও ৮০ শতাংশ জনসংখ্যা ভ্যাকসিনের আওতায় আনার সরকারের লক্ষ্য পূরণ করতে লাগবে দুই বছরের বেশি সময়। এক্ষেত্রে কমাতে হবে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনের দুই ডোজের ব্যবধান। ৩ মাস ব্যবধান থাকলে লক্ষ্য পূরণের এই সময় লাগবে আরও বেশি।

সাধারণ হিসাবেই ১২ কোটি মানুষ টিকার বাইরে আছে বর্তমানে। তাদের এক ডোজ প্রদানে সময় চলে যাবে ১ বছর, যদি মাসে ১ কোটি টিকা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ডোজের জন্য চলে যাবে আরও ১২ মাস, যদি ডোজের ব্যবধান হয় ১ মাস। আর যদি টিকা সরবরাহে দেরি হয় তাতেও সময় আরও বেশি প্রয়োজন হবে।    

বিভিন্ন দেশ থেকে টিকা আসার গতি নিয়ে বেশ কয়েক দিন আগে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। করোনাভাইরাসের টিকা সংগ্রহের গতিতে ‘অসন্তোষ’ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বলেছে, টিকা আসার যে গতি তাতে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষকে টিকা দিতে ২০২৪ সাল লেগে যেতে পারে।

টিকা আসার গতির ওপর নির্ভর করছে কত দ্রুত বেশি সংখ্যক মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা যায়—এমনটা মনে করছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা। টিকা আসতে দেরি হলে সময় আরও বেশি লেগে যাবে বলে ধারণা তাদের। তবে তারা আশাবাদী প্রতিশ্রুতির টিকা সময় মতো বাংলাদেশ পাবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী (ফাইল ছবি)

টিকার সমস্যা কেটে গেছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, দেশের টিকার সমস্যা আল্লাহর রহমতে কেটে গেছে। আগস্ট মাসে কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় ফাইজার-বায়োএনটেকের আরও ৬০ লাখ ডোজ টিকা আসছে। সব মিলিয়ে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে দেড় থেকে পৌনে ২ কোটি ডোজ টিকা বাংলাদেশের হাতে আসবে; যার মধ্যে মডার্না এবং সিনোফার্মের টিকা এরইমধ্যে দুই দফায় চলেও এসেছে।

সেই সঙ্গে টিকাদানের সময়ও কমিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, মাসে এক কোটি করে ভ্যাকসিন দিলেও ২১ মাস সময় লাগবে ৮০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে। আমরা এত সময় নেবো না। সময় আরও কমিয়ে আনার চেষ্টা করবো।

করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, টিকা দেওয়ার গতি কিছুটা বাড়ালে ভালো হতো। টিকা নিয়ে তো অনেক কিছু হলো। এখন টিকা এসে গেছে, এখন একটু গতি বাড়বে। এতদিন তো টিকা প্রাপ্তি অনিশ্চিত ছিল। এখন পর্যন্ত ২ কোটির বেশি কিছু টিকা এসেছে। টিকা প্রয়োজন আরও। মাসে মাসে টিকা ব্যবস্থা করছে সরকার। প্রথম দিকে কিছু জটিলতা ছিল, সেগুলো কাটিয়ে উঠেছে এখন।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে সারা পৃথিবীতেই টিকার সংকট। সেই কথা চিন্তা করলে আমাদের সরকার যে খারাপ কাজ করছে তাও বলা যাবে না। আমরা যতই সমালোচনা করি, অন্য দেশের দিকে তাকালে দেখা যাবে অন্যরা তেমন টিকা পায়নি। এখানে আমরা দোষারোপ করতে চাই না। টিকা যখন আমরা তৈরি করতে পারিনি তখন অন্যদের ওপরই নির্ভর করতে হবে। 

দেশেই টিকা তৈরি করতে পারলে সুবিধা হতো উল্লেখ করে ডা. নজরুল বলেন, টিকা তৈরি করতে গেলে চাইনিজ ম্যাথডে তৈরি করা যায়। কিন্তু এখন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নিয়েই গণ্ডগোল। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট প্রতিরোধ করতে পারে এমন টিকাই আমাদের তৈরি করতে হবে। আমাদের এখন একমাত্র স্ট্র্যাটেজি হওয়া উচিত ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিপরীতে টিকা তৈরি করা এবং সেটা প্রয়োগ করা। আমাদের উচিত ‘হোল ভাইরাস’ ভ্যাকসিনের পথে হাঁটা। সেটা করতে বেশি সময় লাগে না।

/ ইউএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের ভেতর ভারতের কোস্টাল বেসলাইন

বাংলাদেশের ভেতর ভারতের কোস্টাল বেসলাইন

আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৯০৭

আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৯০৭

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা শিথিল

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:৩৯

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করছে যুক্তরাজ্য।

শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক ঘোষণায় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রেড লিস্ট থেকে বাংলাদেশকে এম্বার লিস্টে দেওয়া হচ্ছে।

আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে এটি কার্যকর হবে। এর আগে কেউ যদি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে সফর করে তবে রেড লিস্ট অনুযায়ী সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

এর আগে, করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ২ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলো যুক্তরাজ্য।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিলো যুক্তরাজ্য

/এসএসজেড/এমএস/

সম্পর্কিত

ভারত থেকে ফিরেছেন বিমানের ১২৪ যাত্রী 

ভারত থেকে ফিরেছেন বিমানের ১২৪ যাত্রী 

যুক্তরাজ্যের রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা: ২০ দেশের ওপর থেকে বিধি নিষেধ প্রত্যাহার

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা: ২০ দেশের ওপর থেকে বিধি নিষেধ প্রত্যাহার

শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর অংশগ্রহণ চান প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:০১

আগামী প্রজন্মের জন্য টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে কাজ করতে বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘পরবর্তী প্রজন্মের জন্য টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোকে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিশ্বব্যাপী সব অংশীজনের সঙ্গে কাজ করতে হবে।’

আজ ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ডাকা ‘মেজর ইকোনমিক ফোরাম অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট’ শীর্ষক সম্মেলনে আগে ধারণ করা ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ফোরামের বিবেচনার জন্য ছয় দফা প্রস্তাব রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম প্রস্তাবে প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার লক্ষ্যে তাদের কার্বন নির্গমন হ্রাস করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা তার দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলেন, জলবায়ু তহবিলের জন্য উন্নত দেশগুলোর বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলারের অঙ্গীকার পূরণ এবং অভিযোজন ও প্রশমনের মধ্যে ৫০:৫০ বিতরণ করতে হবে।

তৃতীয় প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের পাশাপাশি সবচেয়ে কার্যকর জ্বালানি সমাধান নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

তার চতুর্থ প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উত্তরণের ক্ষেত্রে, জাতি-রাষ্ট্রগুলোর সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোর হিসাব নেওয়া এবং তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লোকসান ও ক্ষতির বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী তার পঞ্চম প্রস্তাবে বলেছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা ও খরার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনের দায়িত্ব সব দেশকে ভাগ করে নেওয়া দরকার।

তিনি আগামী নভেম্বরে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য কপ-২৬ সম্মেলনে দৃঢ় ও তাৎপর্যপূর্ণ ফলাফল কামনা করেন এবং এ লক্ষ্যে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। তিনি আরও বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা ও খরার প্রভাব ছাড়াও ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা জোরপূর্বক মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার কারণে বাংলাদেশ গুরুতর জলবায়ু প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন ও প্রশমন প্রচেষ্টায় তার সরকারকে অগ্রণী উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও হালনাগাদকৃত এনডিসি জমা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের সর্বাধিক বিস্তৃত অভ্যন্তরীণ সৌরশক্তি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে, যা জলবায়ু ঝুঁকি থেকে জলবায়ু সহিষ্ণুতা এবং তা থেকে জলবায়ু সমৃদ্ধি পর্যন্ত একটি যাত্রা।

জলবায়ু ঝুঁকি ফোরাম (সিভিএফ) এবং ভি-২০’র সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর স্বার্থ তুলে ধরা। তিনি আরও বলেন, ঢাকায় গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশনের দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমেও বাংলাদেশ সেরা অনুশীলন ভাগ করে নেয়।

সূত্র: বাসস

/আইএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

মোদিকে ৭১টি গোলাপে শুভেচ্ছা জানালেন শেখ হাসিনা

মোদিকে ৭১টি গোলাপে শুভেচ্ছা জানালেন শেখ হাসিনা

যা আছে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে

যা আছে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ

বঙ্গবন্ধু ভাষণের দিনকে এবারও 'বাংলাদেশি ইমিগ্রান্ট ডে' ঘোষণা

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩৪

জাতিসংঘে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের দিন ২৫ সেপ্টেম্বরকে এবারও ‘বাংলাদেশি ইমিগ্র্যান্ট ডে’ ঘোষণা করা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে তৃতীয়বারের মতো এই দিবস উদযাপিত হতে যাচ্ছে।

গত ২১ জানুয়ারি সিনেটর স্টেভেস্কি বিলটি নিউ ইয়র্ক স্টেটের আইন পরিষদে উত্থাপন করেন। ২৬ জানুয়ারি সর্বসম্মতভাবে বিলটি পাস হয়। এটির সিনেট রেজ্যুলেশন নম্বর জে-০০১৯৭। নিউ ইয়র্ক স্টেট সেক্রেটারি আলেন্ড্রো এন পলিনো গত ১৪ মার্চ স্টেট গভর্নর স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্রের কপি ২০ জানুয়ারি বিতরণ করেছেন।

১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ছিল নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের ২৯তম সাধারণ অধিবেশন। অধিবেশন কক্ষে সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রনায়ক ও সরকারপ্রধানরা। অধিবেশনে সভাপতির আসনে আলজেরিয়ার মুক্তি সংগ্রামের নেতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা আবদেল আজিজ বুতেফ্লিকা। তিনি 'বাঙালি জাতির মহান নেতা' হিসেবে পরিচিতি দিয়ে বক্তৃতা মঞ্চে আহ্বান করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

বাঙালির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু আরোহণ করলেন বক্তৃতা মঞ্চে। প্রথম এশীয় নেতা, যিনি এই অধিবেশনে সবার আগে ভাষণ দেবেন। দৃপ্ত পায়ে বক্তৃতা মঞ্চে উঠে ডায়াসের সামনে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু বক্তৃতা শুরু করেন মাতৃভাষা বাংলায়। যে ভাষার জন্য ঢাকার রাজপথে বাঙালি বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল, সেই ভাষায় প্রথম ভাষণ দেন জাতিসংঘে।এভাবে বঙ্গবন্ধু বাংলা ভাষাকে বিশ্বদরবারে আবার ঠাঁই করে দিলেন। এর আগে ১৯১৩ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসী জেনেছিল বাংলা ভাষার অমর আবেদন। এর ষাট বছর পর ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে উচ্চারণ করলেন বিশ্বসভায় বাংলা ভাষার অমর শব্দগুচ্ছ।

সূত্র: বিএসএস। 

/এফএএন/এমওএফ/

সম্পর্কিত

এদিন আটক বাঙালিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়

এদিন আটক বাঙালিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়

জাতিসংঘে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তখন আলোচনা ‍তুঙ্গে

জাতিসংঘে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তখন আলোচনা ‍তুঙ্গে

আটকে পড়া বাঙালিদের ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু

আটকে পড়া বাঙালিদের ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু

ভারত-পাকিস্তান চুক্তি: যা বললেন বঙ্গবন্ধু

ভারত-পাকিস্তান চুক্তি: যা বললেন বঙ্গবন্ধু

ফিনল্যান্ড পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২৮

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যাওয়ার পথে ফিনল্যান্ড পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৩টায় তিনি ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি ভানতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। 

ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। 

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ তথ্য উল্লেখ করেছেন।
 
একদিন ফিনল্যান্ডে অবস্থান শেষে রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় হেলসিংকির ভানতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটে  (বিজি-১৯০২) নিউ ইয়র্কে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। 

সেদিন নিউ ইয়র্ক সময় বিকাল ৬টায় জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে  আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী তার সফরকালীন আবাসস্থল লোটে নিউ ইয়র্ক প্যালেসে যাবেন।

 করোনা মহামারির ১৯ মাস পর এই প্রথম কোনও বিদেশ সফরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে সকাল ৯টা ২৩ মিনিটে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।

/ইএইচএস/এনএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা শিথিল

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা শিথিল

শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর অংশগ্রহণ চান প্রধানমন্ত্রী

শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর অংশগ্রহণ চান প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু ভাষণের দিনকে এবারও 'বাংলাদেশি ইমিগ্রান্ট ডে' ঘোষণা

বঙ্গবন্ধু ভাষণের দিনকে এবারও 'বাংলাদেশি ইমিগ্রান্ট ডে' ঘোষণা

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১৪

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতি, লুটপাট ও অপচয়ের সুযোগ করে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, ‘সমাজে দুর্নীতি আছে, এটি নিয়ে আমরা চিন্তিত। অসহিষ্ণুতা নয়, আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি হ্রাস করা হবে। দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকসহ অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।’

শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এফডিসিতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি’র ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানায় ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা ও প্রযুক্তির প্রসার ঘটিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বস্তরের দুর্নীতির প্রতিকার করা জরুরি। হাইটেক পার্কে যেসব ব্যত্যয় ঘটেছে তা দূরীকরণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উচ্চশিক্ষার প্রসারে সরকার আন্তরিক এবং সে জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে, যেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অটোমেশন বা যান্ত্রিকীকরণ প্রক্রিয়ায় পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘বাংলাদেশও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে পথচলা শুরু করেছে। কিন্তু দ্রুতগতির চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে বাংলাদেশ কতখানি যুক্ত হতে পারছে সেটি হচ্ছে আলোচনার বিষয়। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে দ্রুতগতির ইন্টারনেট, মেশিন টু মেশিন যোগাযোগ, বিগ ডাটা, রিয়েল টাইম ডাটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আধুনিক রোবটিক্স, ন্যানো টেকনোলজি, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, থ্রিডি প্রিন্টিং, স্বয়ংক্রিয় গাড়ি ইত্যাদি বিষয় চলে আসে। কিন্তু এগুলোর কোনোটিতেই এখনও আমরা আশানুরূপ অবস্থান তৈরি করতে পারিনি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে যুক্ত হওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ইন্টারনেট সুবিধা। অথচ ইন্টারনেট গতিতে সুদান, লিবিয়া, সিরিয়া, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, উগান্ডার মতো দেশের চেয়েও পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৭টি দেশের মধ্যে ১৩৫তম। ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশের পিছনে রয়েছে শুধু আফগানিস্তান ও ভেনিজুয়েলা। তবে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে অনলাইন সেবা চালু হয়েছে। চালু হয়েছে ৯৯৯ ও ৩৩৩-এর মতো জরুরি সেবা কার্যক্রম, মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স, অনলাইন মার্কেটিং ইত্যাদি কার্যক্রম।’

অনুষ্ঠানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ১০টি সুপারিশ করা হয়। নিম্নে এগুলো উল্লেখ করা হলো:

১। মোবাইল কোম্পানিগুলো প্রতি জিবিতে ৩০০ গুণ মুনাফা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই সারাদেশে সাশ্রয়ী মূল্যে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করা।

২। প্রথাগত শিক্ষার বাইরে বৃত্তিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা। 

৩। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কারণে বিভিন্ন সেক্টরের ওপর যে প্রভাব পড়বে তা নিরূপণ করে নিরসনের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা।

৪। শুধু পোশাক খাতের ওপর নির্ভর না করে রফতানিমুখী শিল্পসহ অন্যান্য সেক্টরে উৎপাদন বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা।

৫। সৃজনশীল ও বুদ্ধিভিত্তিক চর্চার সুযোগ বাড়িয়ে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অধিক হারে গবেষণার সুযোগ প্রদান করা।

৬। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন সমস্যাকে প্রযুক্তি ও বুদ্ধিভিত্তিক উপায়ে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। 

৭। প্রযুক্তিকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো।

৮। হাইটেক পার্কসমূহে যুবক ও যুব মহিলাদের কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা।

৯। প্রযুক্তিতে দক্ষ-অদক্ষ মানুষের মধ্যে সমাজে যেন বৈষম্য তৈরি করতে না পারে তা বিবেচনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা।

১০। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কারণে কর্মসংকোচনের যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে তা নিরসনে ক্রান্তিকালীন কর্মসূচি গ্রহণ করা।

প্রতিযোগিতায় নর্দার্ন ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির বিতার্কিকরা চ্যাম্পিয়ন হয়। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

 

/আরটি/আইএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের ভেতর ভারতের কোস্টাল বেসলাইন

বাংলাদেশের ভেতর ভারতের কোস্টাল বেসলাইন

আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৯০৭

আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৯০৭

টিকে থাকার দাবিতে সিএনজি অটোরিকশাচালকদের মানববন্ধন

টিকে থাকার দাবিতে সিএনজি অটোরিকশাচালকদের মানববন্ধন

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের ভেতর ভারতের কোস্টাল বেসলাইন

বাংলাদেশের ভেতর ভারতের কোস্টাল বেসলাইন

আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৯০৭

আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৯০৭

টিকে থাকার দাবিতে সিএনজি অটোরিকশাচালকদের মানববন্ধন

টিকে থাকার দাবিতে সিএনজি অটোরিকশাচালকদের মানববন্ধন

ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু: নৌ-প্রতিমন্ত্রী

ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু: নৌ-প্রতিমন্ত্রী

যা আছে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে

যা আছে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ

এদিন আটক বাঙালিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়

এদিন আটক বাঙালিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়

সর্বশেষ

ইভ্যালির রাসেল হাসপাতালে

ইভ্যালির রাসেল হাসপাতালে

অভিনেত্রী রিমি করিমের কণ্ঠ পুরুষের মতো!

অভিনেত্রী রিমি করিমের কণ্ঠ পুরুষের মতো!

ফ্রান্সের ২৪টি পুরাতন বিমান কিনতে যাচ্ছে ভারত

ফ্রান্সের ২৪টি পুরাতন বিমান কিনতে যাচ্ছে ভারত

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা শিথিল

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা শিথিল

আফগান নারী মন্ত্রণালয় এখন তালেবানের ‘পাপ ও পুণ্য’ মন্ত্রণালয়

আফগান নারী মন্ত্রণালয় এখন তালেবানের ‘পাপ ও পুণ্য’ মন্ত্রণালয়

© 2021 Bangla Tribune