X
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

শতাধিক সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি

রেজা কিবরিয়া যোগ দিচ্ছেন নুরুল হকের নতুন পার্টিতে

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:১৫

অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি নুরুল হকের গঠিত নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন। দলীয় প্রধান বা উপদেষ্টা— নতুন দলে কোন পদে যোগ দিচ্ছেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হতে শুরু করেছেন রেজা কিবরিয়া। চূড়ান্ত করা হয়েছে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির খসড়াও।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ছেড়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে রেজা কিবরিয়া গণফোরামে যোগ দেন। চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি দলটির সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর জামায়াত ছেড়ে আসাদের সমন্বয়ে গঠিত এবি পার্টির (আমার বাংলাদেশ পার্টি) কিছু অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেখা যায় তাকে। চলতি অর্থবছরের বাজেট নিয়ে দলটির আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যও পাঠ করেন তিনি।

পরে নুরুল হকদের বিভিন্ন প্রোগ্রামে সক্রিয় হন এই অর্থনীতিবিদ। গতকাল শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আংশিক কমিটি বর্ধিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ইউনিটের নেতাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণেও অংশ নেন রেজা কিবরিয়া।

জানতে চাইলে রেজা কিবরিয়া বলেন,‘আমি তাদের সঙ্গে অনেকদিন ধরেই আছি। তাদের চিন্তা পজিটিভ। দল ছোট হলেও জনসমর্থনে বড়। নতুন দলে আমি কী হিসেবে থাকবো, সেটা চূড়ান্ত হয়নি।’

এ প্রসঙ্গে নুরুল হক বলেন,‘আমরা এখনও কনক্রিট সিদ্ধান্তে আসতে পারিনি। কে সভাপতি বা দলীয় প্রধান হবেন ঠিক হয়নি। রেজা কিবরিয়া সাহেব কাজ করছেন। প্যারালালি আরও অনেকের নাম আছে। ঘরোয়াভাবে মিটিং করছি। নিজেদের মধ্যে দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করছি।’

বিভিন্ন দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সম্ভাব্য নতুন দলে মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, রফিকুল ইসলাম বাবলু, হাসনাত কাইয়ূমকেও দেখা যেতে পারে।

নুরুল হক আরও জানান, ‘দলের সম্ভাব্য নাম বাংলাদেশ অধিকার পার্টি (বিআরপি)। স্লোগান হিসেবে থাকছে- জনতার অধিকার, আমাদের অঙ্গীকার।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্ভাব্য নতুন দলের মুখ্য নেতা নুরুল হক নুর। প্রাথমিক আহ্বায়ক কমিটি হবে ১০১ বা ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট। পাশাপাশি ১৫-২০ সদস্যের নীতিনির্ধারণী ফোরামও থাকবে।

নুরুল হক জানালেন, ‘দল গঠনের প্রাথমিক লক্ষ্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের জন্য নিবন্ধন থাকতে হবে। দল প্রতিষ্ঠার পর আবেদন করবো। ইতোমধ্যে নিবন্ধনের শর্ত আমরা পূরণ করেছি। আরও কাজ চলছে।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে আরও বললেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবো। আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হলে আন্দোলন করবো। তবে সরকার ইতোমধ্যে নির্বাচনের বিষয়ে যা বলছে, তাতে মনে হচ্ছে তারা সেফ-এক্সিটের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগ্রহ দেখাচ্ছে।’

তবে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোটের নিশ্চয়তা ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেওয়া যাবে না। নির্বাচনে গেলে পরিস্থিতি আগের মতোই হবে। আসল নির্বাচন হবে না।’

অনুমতি পেলে সোহরাওয়ার্দীতে আত্মপ্রকাশ

নুরুল হক নুর জানান, ‘বাংলাদেশ অধিকার পার্টির সম্ভাব্য আত্মপ্রকাশ হবে ৩০ সেপ্টেম্বর। অনুমতি পেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করা হবে। অনুমতি না পেলে ঘরোয়া আয়োজন করে হবে। সেক্ষেত্রে দিনক্ষণ পেছাতে পারে।’

সংগঠনের একাধিক সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য পার্টির প্রথম সারির অন্তত ১৫-২০ জন বলছেন, আরও সময় নিয়ে আত্মপ্রকাশ করা দরকার। আরেকটি সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘নেতা ঠিক করার আগে আত্মপ্রকাশের বিষয়টি কেন আনা হলো? এতে করে নুরুল হক ম্যাচিউরিটি দেখাতে পারেননি।’

একটি দলের প্রধান জানান, মওলানা ভাসানী অনুসারী পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, ছাত্র-যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদ ও রাষ্ট্র চিন্তার সমন্বয়ে অলিখিত জোটের কোনও কোনও সদস্য নভেম্বরের দিকে দল ঘোষণার পরামর্শ দিয়েছেন। গত বছরের নভেম্বর থেকে এই চার সংগঠন সমন্বিত বিভিন্ন প্রোগ্রাম করছে।

চারটি সংগঠনের একটির সঙ্গে নুরুল হক ও তার অনুসারীদের একীভূত হওয়ার কথা থাকলেও প্রক্রিয়াটি এখন স্থগিত বলে দাবি করেছেন কয়েকজন নেতা।

এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনের কথা হয় গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠক সৈকত মল্লিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সমমনা কয়েকটি সংগঠন মিলে প্রক্রিয়া চালিয়ে নিচ্ছি, প্রোগ্রাম করছি। পরস্পরের নৈকট্য বেড়েছে। বোঝাপড়ার বিষয়টি খোলামেলাভাবেই এগুচ্ছে।’

আরও পড়ুন: জোনায়েদ সাকি ও নুরের নেতৃত্বে নতুন জোট আসছে

/এফএ/

সম্পর্কিত

ঐক্যবদ্ধ দলগঠন হচ্ছে না, পিছিয়েছে নুরদের ‘একক’ পার্টির আত্মপ্রকাশ

ঐক্যবদ্ধ দলগঠন হচ্ছে না, পিছিয়েছে নুরদের ‘একক’ পার্টির আত্মপ্রকাশ

মসজিদ-মাদ্রাসায়ও দলীয়করণ হচ্ছে: নুর

মসজিদ-মাদ্রাসায়ও দলীয়করণ হচ্ছে: নুর

‘লক্ষ্য থেকে সরে গেছে’ অভিযোগ করে নুরের সংগঠন থেকে এক নেতার পদত্যাগ

‘লক্ষ্য থেকে সরে গেছে’ অভিযোগ করে নুরের সংগঠন থেকে এক নেতার পদত্যাগ

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ১৪ দলের

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২২:১৯

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু বলেছেন, দেশের চলমান উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে যারা দেশ ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে সেই অপশক্তিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। রবিবার (১৭ অক্টোবর) ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ১৪ দলের এক সভায় এ কথা বলেন আমু।

কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে জাতি-ধর্ম শ্রেণি-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি

আমির হোসেন আমু বলেন, তারা কেন কুমিল্লাকে বেছে নিলো? কেন তারা নোয়াখালীকে বেছে নিলো?  তা খুঁজে বের করতে হবে। আমি মনে করি, এই কাজ উগ্রবাদী গোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত আর এর পিছনে ইন্ধন দিয়েছে বিএনপি-জামাত চক্র। রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই এদেরকে মোকাবিলা করতে হবে। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। তাই আমাদের সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সহায়ক শক্তিগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক শক্তির সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবেই এই উগ্র-সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে মোকাবিলা করবো। 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, এসব ঘটনা আমরা পাকিস্তান আমল থেকে দেখে আসছি। সেই ৬০-এর দশক থেকে এসব হয়ে আসছে। ইসলাম ‘গেলো গেল ‘ বলে তখন থেকে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে এই অপশক্তি। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে ইসলাম স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, সত্যিকার অর্থে ধর্মবিশ্বাসী কোনও মানুষ এই হামলা করতে পারে না। সারাদেশের অনেক মন্দিরে হামলা হয়েছে। ভাঙচুর হয়েছে। তিনি বলেন, রামু, নাসিরনগর, কুমিল্লা সব ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। সাম্প্রদায়িকতা এতো বেশি বিস্তার লাভ করছে যে, তা সব দলেই আছে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, কুমিল্লার হামলার পিছনে কারা ছিল? ৭১-এর পরাজিত শক্তি বিএনপি-জামাতিরাই। তারা দাঙ্গার জন্য উস্কে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি। সুতরাং এটা আমি জঙ্গি হামলা হিসেবেই দেখবো।

সাম্যবাদী দলের সভাপতি দিলীপ বড়ুয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অর্থনীতিতে ভারত-পাকিস্তানের চয়েও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী তা সহ্য করতে পারছে না। তারা ধর্মের নামে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। কুমিল্লার ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা রাজনৈতিক মদদ পুষ্ট। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এই অপশক্তিকে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবো। 

এসময় তিনি কেন্দ্রীয় ১৪ দলকে  বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সভা ও প্রচারণা চালানোর পরামর্শ দেন। 

গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বলেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দেশকে পিছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কুমিল্লার ঘটনার জন্য যারা দায়ী তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। 

তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী বলেন, বিএনপি-জামাত আর উগ্রবাদ সব একইসূত্রে গাঁথা। আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সচেষ্ট থাকতে হবে। ২০২৩ সালের নির্বাচনের আগে এমন আরও আঘাত আসতে পারে। যা শক্তভাবে প্রতিহত করতে হবে। ধর্মের নামে যা হচ্ছে, ইসলাম তা সমর্থন করে না।
 
জাতীয় পার্টির-জেপি প্রেসিডিয়াম মেম্বার এজাজ আহমেদ মুক্তা বলেন, ৭১-এর পরাজিত শক্তিরা থেমে নেই। তারা সারাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য উন্মাদ হয়ে গেছে। এরা দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নিতে চায়। দেশের দুর্দিনে আমরা কখনো চুপ করে ছিলাম না, থাকবো না। 

গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি-জামাত। এদের আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

/পিএইচসি/এমআর/

সম্পর্কিত

কমিশন হলেই বেরিয়ে আসবে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সব সত্য: আমু

কমিশন হলেই বেরিয়ে আসবে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সব সত্য: আমু

উত্তরাধিকার সূত্রে খুনের রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক বিএনপি ও খালেদা জিয়া: আমু

উত্তরাধিকার সূত্রে খুনের রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক বিএনপি ও খালেদা জিয়া: আমু

সমঝোতা নয় হেফাজতকে শক্তভাবে দমনের দাবি

সমঝোতা নয় হেফাজতকে শক্তভাবে দমনের দাবি

‘মির্জা আব্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার’

‘মির্জা আব্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার’

শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন সোমবার

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২০:১৫

কাল ১৮ অক্টোবর সোমবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। সেদিন অবুঝ শিশু রাসেলকেও হত্যা করে খুনিরা।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, আত্মস্বীকৃত খুনিরা তাকে (শেখ রাসেল) হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সেই অপচেষ্টা শতভাগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। শহীদ শেখ রাসেল আজ বাংলাদেশের শিশু-কিশোর, তরুণ, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের কাছে ভালোবাসার নাম।

শেখ রাসেল সম্পর্কে তার খালাতো ভাই ও জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম বলেছেন, অল্প বয়সে তার বুদ্ধিমত্তা খুবই প্রশংসনীয় ছিল। রাসেলের জীবনের বেশিরভাগ সময় বঙ্গবন্ধু কারাগারেই ছিলেন। এতে সে পিতার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তারপরও আমরা দেখেছি, তার স্বভাব-চরিত্র খুবই সংযত ছিল।

শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ। দলটির দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘শেখ রাসেল দিবস’ উপলক্ষে সোমবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত শহীদ শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্টে নিহত সব শহীদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করা হবে।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে তিনটায় শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা করবে দলটি। সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন।

শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে রয়েছে শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা, আলোচনা সভা।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে রবিবার (১৭ অক্টোবর) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করে যুবলীগ।

শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে রবিবার ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে আলোচনা সভা ও শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

/পিএইচসি/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে: জিএম কাদের

সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে: জিএম কাদের

‘একদল-একনেতা’ ও ‘অনিবন্ধিত’দের ২০ দলীয় জোট, অনেকের অফিসও নেই 

‘একদল-একনেতা’ ও ‘অনিবন্ধিত’দের ২০ দলীয় জোট, অনেকের অফিসও নেই 

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ‘নাম্বার ওয়ান’ পৃষ্ঠপোষক বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ‘নাম্বার ওয়ান’ পৃষ্ঠপোষক বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে: জিএম কাদের

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৯:১২

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, দেশে অস্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে। হিন্দু সম্প্রদায় কখনোই তাদের উৎসব মুখর পূজা বানচাল করতে কোরআনকে অবমাননা করবে না। সামান্যতম ঈমান থাকলে কোনও মুসলিম কোরআনকে অবমাননায় ষড়যন্ত্র করতে পারে না। কোরআন অবমাননার খবর সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ছড়িয়ে দিতে অপচেষ্টা করেছে একটি চক্র। পরিকল্পিতভাবে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।’

রবিবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে পার্টির খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা ও নবনিযুক্ত মহাসচিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, ‘সরকারি সহায়তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাহারার মাঝে কেমন করে পূজামণ্ডপে কোরআন রাখা হলো, তা তদন্ত করতে হবে। কেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ব্যর্থ হলো, এটা বের করতে হবে।’

‘এক প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম মানি না বলে যে উসকানিমূলক বক্তব্য ভাইরাল করেছেন, তার সঙ্গে এই ষড়যন্ত্রের যোগসূত্র আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখতে হবে সরকারকে’ উল্লেখ করেন জিএম কাদের।

তিনি বলেন,‘একজন অর্বাচীন ব্যক্তির মতো ওই প্রতিমন্ত্রী হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে কটূক্তি করেছেন, কটাক্ষ করেছেন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে। আবার সংবিধান পরিপন্থী কথা বলে শপথ ভঙ্গ করেছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের পঞ্চদশ সংশোধনীর বিরুদ্ধে কথা বলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

জাপা চেয়ারম্যান আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘খতিয়ে দেখতে হবে, অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী কেন উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশে কোনোভাবেই সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে দেবো না। এদেশে একই চত্বরে মসজিদ ও মন্দিরে উপাসনা চলছে শত শত বছর ধরে। আমাদের পূর্ব পূরুষরাও একই সঙ্গে ধর্মীয় আচার-আচারণ পালন করেছে।’

‘কখনও কোনও সমস্যা হয়নি, এখন কেন হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্যেশ্যে যেকোনও ষড়যন্ত্রই ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ’ বলেন জিএম কাদের।   

/এসটিএস/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন সোমবার

শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন সোমবার

‘একদল-একনেতা’ ও ‘অনিবন্ধিত’দের ২০ দলীয় জোট, অনেকের অফিসও নেই 

‘একদল-একনেতা’ ও ‘অনিবন্ধিত’দের ২০ দলীয় জোট, অনেকের অফিসও নেই 

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ‘নাম্বার ওয়ান’ পৃষ্ঠপোষক বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ‘নাম্বার ওয়ান’ পৃষ্ঠপোষক বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

যেকোনও শৈথিল্যে জামায়াত-শিবির সুযোগ নেবে: মেনন

যেকোনও শৈথিল্যে জামায়াত-শিবির সুযোগ নেবে: মেনন

‘একদল-একনেতা’ ও ‘অনিবন্ধিত’দের ২০ দলীয় জোট, অনেকের অফিসও নেই 

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২২:৪০

গঠনের পর এখন পর্যন্ত ২০ দলীয় জোট  ৬ বার ভেঙেছে। বেরিয়ে গেছে ৫টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। তবুও ২০ দলীয় জোটে ‘২০ দল’ই থেকে যায়। সেটা কীভাবে? ধরুন, জোটের কোনও শরিক দলের বড় অংশ চলে গেলো, তখন ওই দলেরই একজন নেতাকে নিয়ে দলের নাম একই রেখে জোটের অংশ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ কারণে ২০ দলীয় জোট এখন ‘অনিবন্ধিত দলের জোট’ রূপ নিয়েছে। আর ‘একদল-একনেতা’ নির্ভর এসব দল অনেকটা ‘মৌসুমি রাজনীতি’ নির্ভর। তাদের কর্মসূচি-কার্যক্রম কিছুই নেই। অনেকের কার্যালয়ও নেই। আর যেসব সংগঠনের কার্যালয় আছে, জোটের মতো সেগুলোও নিষ্ক্রিয়।

বিএনপি-জোটের শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৯ সালের ৬ জানুয়ারি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির, মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ত গোলাম আযম এবং ইসলামী ঐক্যজোটের তৎকালীন চেয়ারম্যান আজিজুল হককে সঙ্গে নিয়ে চারদলীয় জোট গঠনের ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

২০০১ সালে সংসদ নির্বাচনের আগে জোট ত্যাগ করেন এরশাদ। তখন জাপা মহাসচিব নাজিউর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে একটি অংশ থেকে যায় জোটে। তাদের মাধ্যমে নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল চারদলীয় জোটের বর্ধিত ‘১৮ দলীয় জোটে’র ঘোষণা দেন খালেদা জিয়া। পর্যায়ক্রমে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ও সাম্যবাদী দল যোগ দিলে তা ২০ দলীয় জোটে পরিণত হয়।

অফিসই নেই, অথচ প্রস্তুতি নিবন্ধনের

২০১৪ সালে এই জোটে প্রথম ভাঙন আসে। প্রয়াত শেখ শওকত হোসেন নিলুর ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) নিবন্ধিত অংশ জোট ছেড়ে বেরিয়ে যায়। এরপর একই নামে ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বে আরেকটি অংশ (অনিবন্ধিত) জোটে থেকে যায়। বিএনপি-জোটের এই শরিক এখন অনেকটাই ‘ওয়ান ম্যান শো’ পার্টি। দলের কার্যালয় নেই। কার্যক্রমও প্রায় নেই বলা চলে।

ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ

২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে কোনও কর্মকাণ্ডে পাওয়া যায়নি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল পিপলস পার্টিকে (এনপিপি)। মতিঝিলে নিজের চেম্বারে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি। তার দলের যুগ্ম মহাসচিব পরিচয়ে ফরিদ উদ্দিন গত ১৪ অক্টোবর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা আগামী নভেম্বরেই অফিস নেবো। পুরানা পল্টন এলাকাতেই নেবো। আগামীতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করবো।’

মাওলানা রকিবের ইসলামী ঐক্যজোটের ‘বৈঠক হয় ভাইস চেয়ারম্যানের বাসায়’

২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারি বিভিন্ন অভিযোগে জোট ত্যাগ করে প্রয়াত মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী (আমির) ও মুফতি ফয়জুল্লাহর (মহাসচিব) নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট। এর পেছনে বড় কাটারা মাদ্রাসার পরিচালনা ধরে রাখার বিষয়টিও ভূমিকা রেখেছিল বলে জানান তাদের আরেক নেতা।

২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারি ঢাকার গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অফিসে সৃষ্ট ‘ইসলামী ঐক্যজোটের’ আত্মপ্রকাশকালীন মুহূর্ত

রাজধানীর একটি মিলনায়তনে যখন জোট ত্যাগের ঘোষণা দেন ঐক্যজোটের নেতারা, সেদিনই সন্ধ্যায় ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘ইসলামী ঐক্যজোটে’র আরেকটি অংশের সূত্রপাত ঘটে। সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যজোটের অনিবন্ধিত অংশের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মাওলানা আবদুর রকিব অ্যাডভোকেট ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মাওলানা আবদুল করিমের নাম ঘোষণা করা হয়। তারা বিএনপি-জোটে প্রতিনিধিত্ব করার ঘোষণা দেন।

পাঁচ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন অবধি দল পরিচালনার জন্য কোনও কার্যালয় নিতে পারেনি ইসলামী ঐক্যজোটে’র এই অংশ। এর নেতৃত্বে থাকা মাওলানা আবদুর রকিব অ্যাডভোকেট একইসঙ্গে নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সাধারণত সিলেটে থাকেন। ঢাকায় সুপ্রিম কোর্টে তার চেম্বার রয়েছে। তবে তার নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট ও নেজামে ইসলাম পার্টির কোনও কার্যালয় নেই। কেন নেই? এর জবাবে আবদুর রকিব অ্যাডভোকেট বাংলা ট্রিবিউনের কাছে দাবি করেন, রাজধানীর পুরানা পল্টনের একটি ভবনে (৫১/৫১) তাদের কার্যালয় ছিল। তার কথায়, ‘আমিই নিয়েছিলাম অফিসটি। কিন্তু ২০১৬ সালে একটি অংশ বিএনপি-জোট ছেড়ে দেওয়ার পর আমরা এটি ব্যবহার করতে পারিনি।’

আবদুর রকিব যোগ করেন, ‘জোট ছেড়ে চলে যাওয়া নেতারা তো সরকারপন্থী। আমরা পরে সেগুনবাগিচায় একটি অফিস নিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার-ঘনিষ্ঠরা অফিস সহকারীদের বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করেছে। এ কারণে আর কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়নি। তাই আমরা ঢাকার মালিবাগে আমাদের ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত আমীনের বাসায় দলীয় বৈঠক করি।’

ঠিকানা আছে, অফিস নেই

২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর বিএনপি, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আত্মপ্রকাশের তিন দিনের ব্যবধানে জেবেল রহমান গানির নেতৃত্বাধীন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) বেরিয়ে যায়। একইদিন গানির সঙ্গে বেরিয়ে যায় খন্দকার গোলাম মোর্তুজার নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি-অনিবন্ধিত)। 

ন্যাপ ও এনডিপি জোট ত্যাগ করার দিনেই একই নামে দুইজনকে দিয়ে দুটি দলের প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখে বিএনপি-জোট। শাওন সাদেকীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অ্যাডভোকেট মশিউর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করে ‘বাংলাদেশ ন্যাপ’ পরিচয়ে জোটের শরিক পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। 

নিবন্ধিত বাংলাদেশ ন্যাপের একজন দায়িত্বশীল নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও বরকত উল্লাহ বুলুর তত্ত্বাবধানে এই অংশটি জোটে শরিক হয়।

জোটের তালিকায় নয়াপল্টন মসজিদ গলির ডানের ভবনটিতে বাংলাদেশ ন্যাপের কার্যালয় উল্লেখ থাকলেও তা পাওয়া যায়নি

জানা যায়, শাওন সাদেকী ন্যাপের মহানগর কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। জোটের তালিকায় এই অংশের ঠিকানা ‘৮৬, নয়াপল্টন মসজিদ গলি’ উল্লেখ থাকলেও এমন কোনও কার্যালয়ের অস্তিত্ব মেলেনি সরেজমিনে। জোটের কাছে ভবনটি ষষ্ঠ তলা জানালেও বাস্তবে এটি চারতলা। ভবনের একজন অধিবাসী জানান, এখানে কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয় নেই। ফ্ল্যাট বাসায় সাধারণ মানুষ বসবাস করেন।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) শাওন সাদেকীকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এদিন মধ্যরাতে তিনি ফিরতি ফোন করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পল্টন এলাকাতেই তার কার্যালয়। এরপর নিজের অনেক কাজের বিবরণ দেন।

খন্দকার গোলাম মোর্তুজার নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির পর যারা এই নামেই বিএনপি-জোটে প্রতিনিধিত্ব করছে, সেই অংশটিরও সন্ধান মেলেনি। এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে কারী আবু তাহের ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে শাহ নেওয়াজের নাম আছে জোটের তালিকায়। তাদের কোনও কার্যালয় নেই। আর তাদের কার্যক্রমের ব্যাপারে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কেউই কিছু জানেন না।

এ প্রসঙ্গে এনডিপি-মোর্তুজা অংশের সাবেক মহাসচিব আবদুল মোকাদ্দিম (বর্তমানে একটি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন) বলেন, ‘কারী আবু তাহের আমাদের মূল কমিটিতে ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ছিলেন। আর শাহনেওয়াজ নামে আমি কাউকে চিনি না।’

বিএনপি-জোট থেকে বেরিয়ে আসা প্রসঙ্গে আবদুল মোকাদ্দিমের বক্তব্য, ‘কিছু দ্বিধাবিভক্ত সিদ্ধান্তের কারণে জোট থেকে বেরিয়ে আসি। এখন তো জোট নিষ্ক্রিয়। আমরা আলাদাভাবে কিছু উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

অফিস আছে, কাজ নেই

২০১৯ সালে ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করেন নিবন্ধিত বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ। এরপর দলটির জায়গায় অন্য কোনও অংশ সৃষ্টি করেনি বিএনপি। ২০২১ সালের ১৪ জুলাই জোট ত্যাগ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মূল অংশ। এর স্থলাভিষিক্ত করার দরকার পড়েনি বিএনপির। একই নামে মুফতি ওয়াক্কাছের নেতৃত্বে আরেকটি অংশ আগে থেকেই জোটে সক্রিয় হয়। তবে তারা জোট-একক উভয় দিকেই নিষ্ক্রিয়।

ঢাকার পুরানা পল্টনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-অনিবন্ধিত অংশের অফিস

চলতি বছরের শুরুর দিকে হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে কওমি মাদ্রাসার রাজনৈতিক আলেমরা গ্রেফতার-আটকের পর আরও নীরবতা পালন করে মুফতি ওয়াক্কাছের অংশটি। মুফতি ওয়াক্কাছের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন মাওলানা মনসুরুল হাসান রায়পুরী ও মহাসচিব পদে আছেন ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম। তবে মহিউদ্দিন ইকরামই জোটে প্রতিনিধিত্ব করেছেন নিয়মিত।

জমিয়তের পুরনো অফিস ১১৬/২, বক্স কালভার্ট রোড, নয়াপল্টনে এই অংশটির কার্যালয়। করোনা সংক্রমণের পর দু’একটি দোয়া মাহফিল ছাড়া কার্যালয়ে তেমন দলীয় কোনও অনুষ্ঠান করেনি জমিয়তের এই অংশ। দলটির একজন নেতা জানান, মুফতি ওয়াক্কাস জীবিত থাকা অবস্থায় গত বছরের ডিসেম্বরে কাউন্সিল হ‌ওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগামীতে কবে হবে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।

গত ১ অক্টোবর ষষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছেড়েছে নিবন্ধিত খেলাফত মজলিস। এই দলটিরও কোনও অংশ সৃষ্টি করেনি বিএনপি।

/জেএইচ/

সম্পর্কিত

শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন সোমবার

শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন সোমবার

সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে: জিএম কাদের

সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে: জিএম কাদের

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ‘নাম্বার ওয়ান’ পৃষ্ঠপোষক বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ‘নাম্বার ওয়ান’ পৃষ্ঠপোষক বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগের পরামর্শ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগের পরামর্শ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ‘নাম্বার ওয়ান’ পৃষ্ঠপোষক বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৫:৩৭

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ‘নাম্বার ওয়ান’ পৃষ্ঠপোষক বিএনপি।

রবিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি আয়োজিত ‘স্বপ্ন ও সম্ভাবনার স্ফুলিঙ্গ শেখ রাসেল’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধা বৃত্তি, দরিদ্র তহবিলে বিশেষ অনুদান ও শিক্ষা উপকরণ প্রদান অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশের সব অপকর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার  জনক ও ঠিকুজি হচ্ছে বিএনপি। অপকর্মকারীদের কোনও দল নেই, এরা হচ্ছে দুর্বৃত্ত।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াত ছাড়া বিএনপি অচল এবং জামায়াতের নির্ভরযোগ্য ছাতা হচ্ছে বিএনপি। ভেতরে ভেতরে জামায়াত- বিএনপি মধুর বন্ধনে আবদ্ধ, যা কোনোদিন বন্ধ হবে না।’

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্ধকারের এই অপশক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে, সুযোগ পেলেই ছোবল মারবে, তাই এখন থেকেই সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

৭১ সালের পরাজিত শক্তিই ৭৫-এর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর এই চক্রের বিষবৃক্ষ অনেক গভীরে ছড়িয়ে পড়েছে, এদের নিষ্ক্রিয় মনে হলেও এরা তলে তলে এখনও সক্রিয়। এখন থেকেই আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য  মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর মো. আবদুল হালিম। সভাটি সঞ্চালনা করেন দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির সদস্য সচিব সুজিত রায় নন্দী।

পরে নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধাবৃত্তি ও দরিদ্র তহবিলে অনুদান এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন ওবায়দুল কাদের।

/পিএইচসি/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন সোমবার

শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন সোমবার

সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে: জিএম কাদের

সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে: জিএম কাদের

‘একদল-একনেতা’ ও ‘অনিবন্ধিত’দের ২০ দলীয় জোট, অনেকের অফিসও নেই 

‘একদল-একনেতা’ ও ‘অনিবন্ধিত’দের ২০ দলীয় জোট, অনেকের অফিসও নেই 

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ঐক্যবদ্ধ দলগঠন হচ্ছে না, পিছিয়েছে নুরদের ‘একক’ পার্টির আত্মপ্রকাশ

ঐক্যবদ্ধ দলগঠন হচ্ছে না, পিছিয়েছে নুরদের ‘একক’ পার্টির আত্মপ্রকাশ

মসজিদ-মাদ্রাসায়ও দলীয়করণ হচ্ছে: নুর

মসজিদ-মাদ্রাসায়ও দলীয়করণ হচ্ছে: নুর

‘লক্ষ্য থেকে সরে গেছে’ অভিযোগ করে নুরের সংগঠন থেকে এক নেতার পদত্যাগ

‘লক্ষ্য থেকে সরে গেছে’ অভিযোগ করে নুরের সংগঠন থেকে এক নেতার পদত্যাগ

সর্বশেষ

আমেরিকান মিশনারি অপহরণে হাইতির গ্যাং জড়িত: কর্মকর্তা

আমেরিকান মিশনারি অপহরণে হাইতির গ্যাং জড়িত: কর্মকর্তা

প্রাণঘাতী বন্যায় ভারতে বহু মানুষ নিখোঁজ

প্রাণঘাতী বন্যায় ভারতে বহু মানুষ নিখোঁজ

ফাতির নৈপুণ্যে পিছিয়ে পড়েও বার্সেলোনার দুর্দান্ত জয়

ফাতির নৈপুণ্যে পিছিয়ে পড়েও বার্সেলোনার দুর্দান্ত জয়

হাসপাতাল ছাড়লেন বিল ক্লিন্টন

হাসপাতাল ছাড়লেন বিল ক্লিন্টন

ভারতের প্রথম অ্যালকোহল জাদুঘরের যাত্রা শুরু

ভারতের প্রথম অ্যালকোহল জাদুঘরের যাত্রা শুরু

© 2021 Bangla Tribune