X
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

বিদেশের কাছে দেনা বাড়ছেই

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৫৬

দেশের উন্নয়নে বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে অনেক। কিন্তু রাজস্ব ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ প্রয়োজনের তুলনায় কম। ঘাটতি পূরণে তাই বাড়ছে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকার বৈদেশিক ঋণ নিয়েছে ৬৭৭ কোটি ডলার।

নতুন অর্থবছরের ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার যে বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, তাতে ১ লাখ ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। আগের অর্থবছরে ঋণ পাওয়া গিয়েছিল ৬৭৪ কোটি ডলার।

এখন বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৪ হাজার ৯৪৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ২৯২ দশমিক ১১ মার্কিন ডলার।

এদিকে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দশ বছরে বিদেশি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। ২০০৯ সালে বাংলাদেশে বিদেশি ঋণ ছিল ২৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। ২০১৯ সাল শেষে যা দাঁড়ায় ৫৭ বিলিয়ন ডলারে।

দুশ্চিন্তা নেই, বলছেন অর্থনীতিবিদরা

অবশ্য ঋণ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ দেখেন না অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, বিদেশি ঋণ বাংলাদেশের দুর্বলতা নির্দেশ করে না। কারণ, অর্থনীতির আকার বড় হয়েছে ১০ বছরে। ঋণ পরিশোধের ক্ষমতাও বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘১০ বছরে রফতানি ও প্রবাসী আয় বেড়েছে কয়েকগুণ। এছাড়া এ পর্যন্ত বাংলাদেশ খেলাপি হয়নি। তাই দুশ্চিন্তার কিছু নেই।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বড় প্রকল্পের জন্য স্বল্প সুদে বৈদেশিক ঋণের প্রয়োজন আছে। তবে ওই ঋণ দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে না পারলে অর্থনীতির জন্য মারাত্মক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে বাজেট বাস্তবায়ন, রিজার্ভ ও বিনিময় হারের ওপর চাপ বাড়বে।’

অর্থমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থার সঙ্গে গত ৩০ জুন পর্যন্ত ঋণচুক্তির পরিমাণ ছিল ৯৫ হাজার ৯০৮ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এরমধ্যে ৫৯ হাজার ৪৫৮ মিলিয়ন ডলার ছাড় হয়েছে। অপেক্ষায় আছে ৪৬ হাজার ৪৫০ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, ২০০৯ সালে বিদেশি ঋণ ছিল ২৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। ২০১৯ সাল শেষে দাঁড়ায় ৫৭ বিলিয়ন ডলারে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের মার্চে এসে বিদেশি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭২ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে।

বেড়েছে ঋণ-রফতানি অনুপাত

২০১৫ সালে রফতানির বিপরীতে বৈদেশিক ঋণ ছিল ১১৭ দশমিক ৮ শতাংশ। গত বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯১ দশমিক ২ শতাংশে। অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণ ও চলতি হিসাবের অনুপাতও বাড়ছে। ২০১৫ সালে চলতি হিসাবের তুলনায় বৈদেশিক ঋণ ছিল ৭৪ দশমিক ৮ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ১১১ শতাংশ হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কৌশলী হতে হবে। রাজস্ব আয় বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি কর-জিডিপি অনুপাত কম থাকলে বৈদেশিক ঋণনির্ভরতা আরও বাড়বে।’

জানা গেছে, বর্তমানে বৈদেশিক ঋণনির্ভর বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ। এ প্রকল্পে ১৩ হাজার ১১৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণে জাইকা দিয়েছে ১২ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে জি-টু-জির মাধ্যমে ২১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে চীন। এ ছাড়া ঢাকার প্রথম মেট্রোরেল (উত্তরা-মতিঝিল, এআরটি লাইন-৬) প্রকল্পেও ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে জাইকা। এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ১১ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে এডিবি। কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্পে ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা দিচ্ছে চীন।

এই বছরের মার্চ পর্যন্ত তথ্যানুযায়ী, দেশে দ্বিপক্ষীয় দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ১ হাজার ৭৭১ কোটি ৭১ লাখ ডলারের বেশি। এরমধ্যে সরকারের ঋণ ১ হাজার ৭৫১ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। বেসরকারি খাতে ২০ কোটি ২৮ লাখ ডলার।

রাশিয়া, চীন ও ভারতের বড় ধরনের ঋণ প্রস্তাব রয়েছে। এগুলো গৃহীত হলে সামনের দিনগুলোয় বৈদেশিক ঋণ আরও বাড়বে।

এবারের এডিপিতে ১ হাজার ৫৩৮টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। এরমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে বাস্তবায়নাধীন বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প আছে ৩৬৫টি।

২০১৫ সালের ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৭৬ ডলারে। ঋণ গ্রহণে জটিলতা, বিভিন্ন সারচার্জ এবং অবকাঠামো সমস্যার কারণে বেসরকারি উদ্যোক্তারা এখন বৈদেশিক ঋণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

২০২০-২১ অর্থবছরের ঋণ-অনুদান মিলে মোট ৭১১ কোটি ডলার বিদেশি সহায়তা পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। এরমধ্যে ঋণ ৬৭৭ কোটি ডলার।

২০১৯-২০ অর্থবছরে ঋণ-অনুদান মিলে পাওয়া গিয়েছিল ৭২৭ কোটি ডলার। এরমধ্যে ঋণ ছিল ৬৭৪ কোটি ডলার, বাকিটা অনুদান।

বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ বহুপক্ষীয় এবং দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাংলাদেশ বিদেশি সহায়তা পায়। বহুপক্ষীয় সংস্থার মধ্যে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ঋণ দেয় বিশ্বব্যাংক। দ্বিপক্ষীয়র মধ্যে বেশি ঋণ দেয় জাপান।

/এফএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

আবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

আবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

২০ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ

২০ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ

পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে কারসাজি: এফবিসিসিআই

পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে কারসাজি: এফবিসিসিআই

পণ্যের মান রক্ষায় বিসিএসআইআর’র ল্যাব ব্যবহার করবে বেঙ্গল হারবাল

পণ্যের মান রক্ষায় বিসিএসআইআর’র ল্যাব ব্যবহার করবে বেঙ্গল হারবাল

আবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২১:২১

আবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়াতে চায় ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী মিল মালিকরা। আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে তারা বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৭ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী ও সচিব এই প্রস্তাব অনুমোদন দিলে ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী মিল মালিকরা তা জানিয়ে দেবে।

 রবিবার (১৭ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত নিত্যপণ্যের মজুত পরিস্থিতি, আমদানি ও দাম নির্ধারণ নিয়ে বৈঠকে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর এই প্রস্তাব করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য (আইআইটি) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

তিনি বলেন, ‘সয়াবিন তেল পরিশোধনকারী মিল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তাব ছিল বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১৬৮ টাকা করার। ট্যারিফ কমিশন একাধিকবার বসে অ্যানালাইসিস করে ১৬২ টাকা (বোতলজাত সায়াবিন তেল) করার সুপারিশ করেছে। এটা ছিল সেপ্টেম্বর মাসের অ্যাভারেজ রিপোর্ট। আজকে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করে প্রতি লিটার বোতলজাত তেলের দাম ঠিক করা হয়েছে ১৬০ টাকা, যেটার আগে দাম ছিল ১৫৩ টাকা।

সভায় খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৩৬ টাকা, বোতলজাত ৫ লিটার তেলের দাম ৭৬০ টাকা, আর পাম অয়েল প্রতি লিটার ১১৯ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী ও সচিব এই প্রস্তাব অনুমোদন দিলে তা বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে সয়াবিনের দাম জানাবে।

বৈঠকে ভোজ্যতেল উৎপাদন ও বিতরণকারী কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমানে নির্ধারিত দাম হচ্ছে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১২৯ টাকা, ৫ লিটারের বোতল ৭২৮ টাকা ও পাম তেল প্রতি লিটার ১১৬ টাকা।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘চিনির রেগুলেটরি ডিউটি কবে থেকে কার্যকর হচ্ছে, তা অ্যাসেসমেন্ট করে মানুষকে জানিয়ে খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

/এসআই/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

২০ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ

২০ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ

পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে কারসাজি: এফবিসিসিআই

পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে কারসাজি: এফবিসিসিআই

পণ্যের মান রক্ষায় বিসিএসআইআর’র ল্যাব ব্যবহার করবে বেঙ্গল হারবাল

পণ্যের মান রক্ষায় বিসিএসআইআর’র ল্যাব ব্যবহার করবে বেঙ্গল হারবাল

শেয়ার বিক্রির চাপে বড় দরপতন  

শেয়ার বিক্রির চাপে বড় দরপতন  

২০ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৭:০৯

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আগামী ২০ অক্টোবর দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এর আওতায় দেশের সব ব্যাংক এবং শেয়ারবাজারে কোনও কার্যক্রম হবে না। রবিবার (১৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ১৯ অক্টোবর ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ঘোষিত ছুটি ১৯ অক্টোবরের পরিবর্তে ২০ অক্টোবর নির্ধারণ করা হলো।

গত ১৪ অক্টোবর ব্যাংকগুলোর জন্য পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) ছুটি সংক্রান্ত আরেকটি সার্কুলার জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

/জিএম/জেএইচ/

সম্পর্কিত

আবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

আবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে কারসাজি: এফবিসিসিআই

পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে কারসাজি: এফবিসিসিআই

পণ্যের মান রক্ষায় বিসিএসআইআর’র ল্যাব ব্যবহার করবে বেঙ্গল হারবাল

পণ্যের মান রক্ষায় বিসিএসআইআর’র ল্যাব ব্যবহার করবে বেঙ্গল হারবাল

শেয়ার বিক্রির চাপে বড় দরপতন  

শেয়ার বিক্রির চাপে বড় দরপতন  

পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে কারসাজি: এফবিসিসিআই

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৭:৪০

পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে একটি মহল কাজ করেছে এবং তাদের কারসাজিতে দাম বেড়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। রবিবার (১৭ অক্টোবর) নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মজুত, আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমদানিতে শুল্ক কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পরপরই পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫ টাকা কমে এসেছে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে ১৫ টাকা কমে কি? কমে না। এর মানে দাঁড়ায়, দাম বাড়ানোর পেছনে কারসাজি ছিল।’

তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম নির্ধারণে বাজারে একটা সমস্যা ছিল। এটি না হলে একদিনে এত টাকা কমে না। আমরা সম্মানের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করতে চাই, কোনও কারসাজির প্রশ্রয় মানা হবে না। এখানে সংশ্লিষ্টদের যদি কোনও সমস্যা থাকে আমাদের জানান। আমরা আলোচনার মাধ্যমে আপনাদের সমস্যার সমাধান করবো।’

অনুষ্ঠানে পাইকার ও আড়তদার পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘আমদানির একটা বড় অংশ প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আসে। সেখানে সম্প্রতি অতিবৃষ্টি আর বন্যায় পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। আমাদের দেশেও এর প্রভাব পড়েছে।’

তবে শুল্ক কমানোর ঘোষণার একদিনের মাথায় দাম কমা নিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতির প্রশ্নের যৌক্তিক উত্তর দিতে পারেননি পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা।

এ সময় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘ব্যবসায় লাভ-লোকসানের হিসাব থাকে। তাই বলে সুযোগ পেলেই দাম বাড়াবেন এটা হতে পারে না। এসব কারণে কতিপয় ব্যবসায়ী কিছু অর্থ পেলেও প্রকৃতপক্ষে আমাদের (ব্যবসায়ী) জন্য খুবই অসম্মানজনক।’

শ্যামবাজার ও কাওরান বাজার অপেক্ষা অন্যান্য কাঁচাবাজারে দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখা হয়, এর কারণ কী? এই প্রশ্নে ব্যবসায়ীরা এফবিসিসিআই সভাপতিকে জানান, এলাকাভেদে দোকান ভাড়া বেশি। গুলশান আর কাওরান বাজারের ভাড়ার পার্থক্য অনেক। এছাড়া বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি মূল্য বেশি ও ট্রেড লাইসেন্সের খরচ বৃদ্ধিকে দায়ী করেন তারা।

 

/জিএম/আইএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

আবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

আবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

২০ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ

২০ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ

পণ্যের মান রক্ষায় বিসিএসআইআর’র ল্যাব ব্যবহার করবে বেঙ্গল হারবাল

পণ্যের মান রক্ষায় বিসিএসআইআর’র ল্যাব ব্যবহার করবে বেঙ্গল হারবাল

শেয়ার বিক্রির চাপে বড় দরপতন  

শেয়ার বিক্রির চাপে বড় দরপতন  

পণ্যের মান রক্ষায় বিসিএসআইআর’র ল্যাব ব্যবহার করবে বেঙ্গল হারবাল

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৭:৩৩

বেঙ্গল হারবাল গার্ডেন লিমিটেড তাদের পণ্য উৎপাদনের গুণগত মান রক্ষায় বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের গবেষণাগার ব্যবহার করবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের সঙ্গে চু্ক্তি করেছে জেমকন গ্রুপের প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল হারবাল গার্ডেন লিমিটেড। রবিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে  বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের এ চুক্তি সাক্ষরিত হয়।

বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের সচিব শাহ আবদুল তারিক এবং বেঙ্গল হারবাল গার্ডেন লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার কৃষ্ণ কান্ত গোলদার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই  করেন। এ সময় দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের সচিব শাহ আবদুল তারিক এবং বেঙ্গল হারবাল  গার্ডেন লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার কৃষ্ণ কান্ত গোলদার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই  করেন

এ চুক্তির আওতায় বেঙ্গল হারবাল গার্ডেন লিমিটেড তাদের পণ্য উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের গবেষণাগারে পণ্যের উপদান পরীক্ষা করে মান নিয়ন্ত্রণ করবে।

এ প্রসঙ্গে বেঙ্গল হারবাল গার্ডেন লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার কৃষ্ণ কান্ত গোলদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের পণ্য উৎপদানের জন্য কাঁচামাল নিজস্ব ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। গুণগত মান নিশ্চিত করেই পণ্য উৎপাদন করা হয়। এখন আমরা নিজস্ব ল্যাবের পাশাপাশি  বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের ল্যাব ব্যবহার করবো। ফলে পণ্যের গুণগত আরও নিশ্চিত হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা শুরু করে বেঙ্গল হারবাল  গার্ডেন লিমিটেড।

/সিএ/এমআর/

সম্পর্কিত

আবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

আবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

২০ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ

২০ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ

পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে কারসাজি: এফবিসিসিআই

পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে কারসাজি: এফবিসিসিআই

শেয়ার বিক্রির চাপে বড় দরপতন  

শেয়ার বিক্রির চাপে বড় দরপতন  

শেয়ার বিক্রির চাপে বড় দরপতন  

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৬:৩২

বিক্রেতাদের শেয়ার বিক্রির চাপে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার (১৭ অক্টোবর) দেশের পুঁজিবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। এদিন বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। এতে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ৫৬ পয়েন্ট। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সূচক কমেছে ৯৪ পয়েন্ট। সূচকের পাশাপাশি কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারের দামও। এর ফলে টানা পাঁচ দিন পুঁজিবাজারে দরপতন হয়েছে।  বিশেষ করে অতিমূল্যায়িত কোম্পানির শেয়ারের দাম এখন কমতে শুরু করেছে। এই দুই কারণে পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। আর দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মাঝে বাজার নিয়ে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তারা হঠাৎ করেই শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রবিবার ব্যাংক খাতের ৩২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৮টির, কমেছে সাতটির, আর অপরিবর্তিত  রয়েছে সাতটির। এর বিপরীতে বিমা খাতের ৫১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম কমেছে ৪৮টির। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম কমেছে ২১টির। বস্ত্র খাতের ৫৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে সাতটি প্রতিষ্ঠানের। এদিকে দাম কমেছে ওষুধ, রসায়ন এবং বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতসহ প্রায় সব খাতের শেয়ারের। 

ফলে রবিবার ডিএসইতে ৩৭৬টি কোম্পানির ৩৭ কোটি ৪৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৮টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ২৮৭টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টির।

দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৫৬ পয়েন্ট কমে ৭ হাজার ১৮৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। প্রধান সূচকের পাশাপাশি ডিএসইর অন্য সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ২১ দশমিক ১১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫৪৬ পয়েন্টে ও ডিএসই-৩০ সূচক ১৪ পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার ৭০৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ৩৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪৩৩ কোটি ৮৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ, আগের দিনের চেয়ে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে।

এদিন ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ফরচুন সুজের শেয়ারের। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার। তৃতীয় স্থানে ছিল ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার।

এদিকে  পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৯৪ পয়েন্ট কমেছে। সূচক এখন ২১ হাজার ২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন করা ৩১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৮টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ২০৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

 

/জিএম/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

আবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

আবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

২০ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ

২০ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ

পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে কারসাজি: এফবিসিসিআই

পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে কারসাজি: এফবিসিসিআই

পণ্যের মান রক্ষায় বিসিএসআইআর’র ল্যাব ব্যবহার করবে বেঙ্গল হারবাল

পণ্যের মান রক্ষায় বিসিএসআইআর’র ল্যাব ব্যবহার করবে বেঙ্গল হারবাল

সর্বশেষ

প্রাণঘাতী বন্যায় ভারতে বহু মানুষ নিখোঁজ

প্রাণঘাতী বন্যায় ভারতে বহু মানুষ নিখোঁজ

ফাতির নৈপুণ্যে পিছিয়ে পড়েও বার্সেলোনার দুর্দান্ত জয়

ফাতির নৈপুণ্যে পিছিয়ে পড়েও বার্সেলোনার দুর্দান্ত জয়

হাসপাতাল ছাড়লেন বিল ক্লিন্টন

হাসপাতাল ছাড়লেন বিল ক্লিন্টন

ভারতের প্রথম অ্যালকোহল জাদুঘরের যাত্রা শুরু

ভারতের প্রথম অ্যালকোহল জাদুঘরের যাত্রা শুরু

এবার মরুর বুকে ক্ষত-বিক্ষত মাহমুদউল্লাহরা

এবার মরুর বুকে ক্ষত-বিক্ষত মাহমুদউল্লাহরা

কাশ্মিরে বন্দুকযুদ্ধে পাকিস্তানি কমান্ডোদের হাত দেখছে ভারত: এনডিটিভি

কাশ্মিরে বন্দুকযুদ্ধে পাকিস্তানি কমান্ডোদের হাত দেখছে ভারত: এনডিটিভি

গিটার সঙ্গী স্বপনের স্মৃতিতে আইয়ুব বাচ্চু

গিটার সঙ্গী স্বপনের স্মৃতিতে আইয়ুব বাচ্চু

‘রাসেল নামটি শুনলেই যে ছবি সামনে ভেসে আসে...’

‘রাসেল নামটি শুনলেই যে ছবি সামনে ভেসে আসে...’

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

আবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

আবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

২০ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ

২০ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ

পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে কারসাজি: এফবিসিসিআই

পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে কারসাজি: এফবিসিসিআই

পণ্যের মান রক্ষায় বিসিএসআইআর’র ল্যাব ব্যবহার করবে বেঙ্গল হারবাল

পণ্যের মান রক্ষায় বিসিএসআইআর’র ল্যাব ব্যবহার করবে বেঙ্গল হারবাল

শেয়ার বিক্রির চাপে বড় দরপতন  

শেয়ার বিক্রির চাপে বড় দরপতন  

© 2021 Bangla Tribune