X
শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩১ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

করোনা মোকাবিলায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৩১

করোনাভাইরাসকে অভিন্ন শত্রু উল্লেখ করে তা মোকাবিলায় ছয়টি প্রস্তাব তুলে ধরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অতীতের যেকোনও সময়ের চেয়ে এখন আমাদের অনেক বেশি নতুন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে বারোটায় বাংলায় ভাষণ প্রদানকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, এই মহামারিও এমন একটি সঙ্কট যেখান থেকে বহু মানুষের টিকে থাকার অনুপ্রেরণামূলক এবং উদারতার উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। দুঃখজনক হলেও এই মহামারি আরও বেশ কিছুদিন স্থায়ী হবে বলে মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সব ধরনের মতভেদ ভুলে গিয়ে আমাদের অবশ্যই ‘অভিন্ন মানবজাতি’ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে; সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য আবারও এক সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে।

সরকার প্রধান বলেন, কোভিডমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে টিকার সার্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। গত বছর এ মহতী অধিবেশনে আমি কোভিড-১৯ টিকাকে ‘বৈশ্বিক সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। বিশ্বনেতাদের অনেকে তখন এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেছিলেন।

তিনি বলেন, সে আবেদনে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং আমরা ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে টিকা বৈষম্য বাড়তে দেখেছি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, এ যাবত উৎপাদিত টিকার ৮৪ শতাংশ উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের কাছে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের দেশগুলো ১ শতাংশেরও কম টিকা পেয়েছে।

টিকা বৈষম্য দূর করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লক্ষ লক্ষ মানুষকে টিকা থেকে দূরে রেখে কখনোই টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। আমরা পুরোপুরি নিরাপদও থাকতে পারবো না। সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে প্রযুক্তি হস্তান্তর টিকার সমতা নিশ্চিত করার একটি উপায় হতে পারে। প্রযুক্তি সহায়তা ও মেধাস্বত্ত্বে ছাড় পেলে বাংলাদেশও ব্যাপক পরিমাণে টিকা তৈরি করতে সক্ষম।

আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা এ ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, এ মহামারি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে অধিকমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক 'ইন্টারগভর্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ'র ওয়ার্কিং গ্রুপ-১ এর প্রতিবেদনে আমাদের এ গ্রহের ভবিষ্যতের এক ভয়াল চিত্র ফুটে ওঠেছে।

তিনি বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। ধনী অথবা দরিদ্র - কোন দেশই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে নিরাপদ নয়। তাই আমি ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নিঃসরণের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং টেকসই অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তরের আহ্বান জানাচ্ছি।

মহামারির প্রকোপে শিক্ষাব্যবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে বলে জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, জাতিসংঘ শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, করোনাকালে আংশিক বা পুরোপুরি বিদ্যালয় বন্ধের কারণে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর দূরশিক্ষণে অংশগ্রহণের সক্ষমতা ও প্রযুক্তি না থাকায় ভর্তি, স্বাক্ষরতার হার ইত্যাদি অর্জনগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল সরঞ্জামাদি ও সেবা, ইন্টারনেটের সুযোগ-সুবিধার সহজলভ্যতা ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে। এ জন্য আমরা জাতিসংঘকে অংশীদারিত্ব ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাই। 

সরকার প্রধান বলেন, করোনা মহামারির নজিরবিহীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছি। তবে, এ মহামারি অনেক দেশের উত্তরণের আকাঙ্ক্ষাকে বিপন্ন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের টেকসই উত্তরণ ত্বরান্বিত করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আমরা প্রণোদনাভিত্তিক উত্তরণ কাঠামো প্রণয়নে আরও সহায়তা আশা করি।

মহামারিকালে প্রবাসীরা অপরিহার্য কর্মী হিসেবে স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরাও সম্মুখসারির যোদ্ধা। তবুও তাঁদের অনেকে চাকরিচ্যুতি, বেতন কর্তন, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক সেবার সহজলভ্যতার অভাব ও বাধ্যতামূলক প্রত্যাবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সংকটকালে অভিবাসীগ্রহণকারী দেশগুলোকে অভিবাসীদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করার এবং তাঁদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং কল্যাণকে নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান করছি।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার পঞ্চম বছরে পড়লো। কিন্তু এখন পর্যন্ত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করি। মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে তাদের সাময়িক অবস্থানকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে কিছু সংখ্যক বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে আমরা ‘ভাষানচর’-এ স্থানান্তর করেছি। আশ্রয় শিবিরে কোভিড-১৯ মহামারির বিস্তাররোধে টিকালাভের যোগ্য সকলকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই কেবল এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

আসিয়ানের নেতারা বাস্তুচ্যূত মিয়ানমার নাগরিক ইস্যুতে গৃহীত প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়িদের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণে গৃহীত সকল কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতে হবে।

সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারির প্রকোপ আশঙ্কার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে আমাদের শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া, এ মহামারি মোকাবিলায় আমাদের সময়োচিত, সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য রক্ষা করতে শুরুতে আমাদের বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।

তিনি বলেন, অতি দরিদ্র, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, বিদেশ-ফেরত প্রবাসী ও অসহায় নারীদের মতো সমাজের দুর্বলতর জনগোষ্ঠীর জন্যে পর্যাপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। গত বছর মহামারির প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে আমরা প্রায় ৪ কোটি মানুষকে নগদ অর্থসহ অন্যান্য সহায়তা দিয়েছি। সময়োচিত পদক্ষেপ ও আমাদের জনগণের বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতার কারণে ২০২০ সালেও আমরা ৫ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি।

বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন দেখে বলে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আফগানিস্তানের বিনির্মাণ এবং ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণ দেশটির জনগণের ওপরই নির্ভর করে। তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য দেশটির জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করে যেতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শান্তি। ‘শান্তির সংস্কৃতি’ প্রস্তাবনার প্রধান প্রবক্তা হিসেবে আমরা শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের করাল থাবায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই আমরা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ বজায় রেখেছি।

তিনি বলেন, শীর্ষস্থানীয় শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় অবদানের জন্য আজ আমরা গর্ববোধ করি। মহামারির নজিরবিহীন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বজুড়ে কঠিনতম পরিবেশে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের আলোকে আমরা সর্বদা সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের অবিচল সমর্থক। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, পারমাণবিক ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সম্পূর্ণ নির্মূলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই প্রত্যয় থেকেই আমরা ‘পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি’ অনুস্বাক্ষর করেছি। এ বছরের শুরুতে চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।

তিনি বলেন, করোনা মহামারি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর বৈশ্বিক উদ্যোগের ঘাটতির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। একইসঙ্গে এটি বৈশ্বিক সংহতি ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপরেও আলোকপাত করেছে। সার্বজনীন বিষয়গুলোতে আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নতুন নতুন অংশীদারিত্ব ও সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে ‌ওঠে বিভিন্ন অঞ্চলের সদস্য দেশগুলো এই জাতিসংঘের মঞ্চ থেকেই তা শুরু করতে পারে। তবেই আমরা সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উত্তরণের লক্ষ্যে একটি অর্থবহ সহযোগিতা অর্জন করতে পারবো।

/পিএইচসি/এমএস/

সম্পর্কিত

দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না: প্রধানমন্ত্রী

দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না: প্রধানমন্ত্রী

খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়ে সাড়ে ৪ কোটি মেট্রিক টন: প্রধানমন্ত্রী

খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়ে সাড়ে ৪ কোটি মেট্রিক টন: প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের শিগগিরই বিচারের আওতায় আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ২১:০৩

কুমিল্লার ঘটনা কী কারণে ঘটেছে, সে প্রশ্ন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের। তিনি বলেছেন,  এ ঘটনার পেছনের কারণ খোঁজা হচ্ছে। যারা এ ঘটনায় জড়িত শিগগিরিই তাদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচার শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালায় আয়োজিত   ডকু ড্রামা ‘দুটি যুদ্ধের একটি গল্প’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

এ ঘটনার কারণে যারা ক্ষুব্ধ হয়েছে তাদেরকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সবাইকে চিহ্নিত করে সবার সামনে হাজির করা হবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, পবিত্র কোরআন আমরা মুসলমানরা হৃদয়ে ধারণ করি। কোরআনের অবমাননা যেভাবে দেখানো হয়েছে আমি বিশ্বাস করি সেরকম ঘটেনি।

এ ঘটনার পর যারা অহেতুক ভাঙচুরে জড়িয়ে পড়ছে তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

/আরটি/এমআর/

সম্পর্কিত

কুমিল্লার ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাশের দেশে কী হয়েছে, সেটা দেখার বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাশের দেশে কী হয়েছে, সেটা দেখার বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কারাগারে বন্দি বেশিরভাগই মাদক মামলার আসামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কারাগারে বন্দি বেশিরভাগই মাদক মামলার আসামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৩০ অক্টোবরের মধ্যেই আমদানির চাল বাজারে ছাড়ার নির্দেশ

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ২০:০১

সরকার আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যেই আমদানির চাল বাজারে আনার চূড়ান্ত নির্দেশনা দিয়েছে। আমদানির চাল বাজারে আনার সময় আর না বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) সরকারি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে- বেসরকারিভাবে চাল আমদানির জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যেসব আমদানিকারক এলসি খুলেছেন কিন্তু এখনও চাল বাজারজাত করতে পারেননি তাদের এলসিকৃত চাল বাজারজাত করার লক্ষ্যে আগামী ৩০ তারিখ পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হলো। এই সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না। 

উল্লেখ্য, চালের বাজারের লাগাম টানতে শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। চাল আমদানিতে শুল্ককর কমানোর অনুরোধ জানিয়ে গত ৬ জুলাই এনবিআরকে চিঠি দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। এরপর গত ১২ আগস্ট চাল আমদানির শুল্ক কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চালের আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করে এনবিআর। এ সুবিধা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে।

গত ১৭ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৪১৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৬ লাখ ৯৩ হাজার টন সেদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির অনুমতি দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ লাখ টন চাল আমদানি করা হয়েছে। 

/এসআই/এমআর/

সম্পর্কিত

‘বিলাসিতা’য় বছরে নষ্ট হয় ৬ লাখ টন চাল

‘বিলাসিতা’য় বছরে নষ্ট হয় ৬ লাখ টন চাল

১৭ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি

১৭ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি

খাদ্য ঘাটতি ঠেকাতে প্রয়োজনে চাল আমদানির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

খাদ্য ঘাটতি ঠেকাতে প্রয়োজনে চাল আমদানির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বেসরকারি পর্যায়ে ১০ লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত

বেসরকারি পর্যায়ে ১০ লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত

২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৯৩

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১৭:৪৬

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ছয়জন। তাদের নিয়ে দেশে সরকারি হিসেবে করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন ২৭ হাজার ৭৫২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২৯৩ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনাতে সরকারি হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৪ জন। 

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪৪২জন, তাদের নিয়ে দেশে করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মোট সুস্থ হলেন ১৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৩ জন। 

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে রোগী শনাক্তের হার এক দশমিক ৮৮ শতাংশ আর এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। 

শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ আর শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যহার এক দশমিক ৭৭ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৫ হাজার ২৫১টি আর নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৫ হাজার ৫৮০টি।  দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ কোটি ৭৬ হাজার ৮২৫টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায়  পরীক্ষা হয়েছে ৭৩ লাখ ৮০ হাজার ৬৯৬ টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ২৬ লাখ ৯৬ হাজার ১২৯টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে পুরুষ চারজন আর নারী দুইজন। দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে পুরুষ মারা গেছেন ১৭ হাজার ৭৭৯ জন আর নারী নয় হাজার ৯৭৩ জন। 

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ৭১ থেকে ৮০ বছর বয়সী দুজন,  ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সী  দুজন আর ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে আছেন দুজন।  মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের আর চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট বিভাগের আছেন একজন করে। তারা সবাই সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন।

 

/জেএ/এমআর/

সম্পর্কিত

পাঁচ মাস পর সর্বনিম্ন শনাক্ত

পাঁচ মাস পর সর্বনিম্ন শনাক্ত

পিছিয়ে যাচ্ছে সরকারিভাবে করোনা টিকা উৎপাদন

পিছিয়ে যাচ্ছে সরকারিভাবে করোনা টিকা উৎপাদন

করোনায় বেড়েছে মৃত্যু

করোনায় বেড়েছে মৃত্যু

আবারও মৃত্যু বেড়েছে, শনাক্ত কমেছে

আবারও মৃত্যু বেড়েছে, শনাক্ত কমেছে

দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১৩:৫৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দেইনি বলে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি। দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না, এটাই বাস্তব।’

শনিবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২১’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারলাম না। গ্যাস বিক্রি করার মুচলেকা দেইনি বলেই আমাকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হলো না। বৃহৎ দুটি দেশ আর প্রতিবেশি দেশের চাহিদা পূরণ করতে পারিনি।’

সেসময় ক্ষমতায় না আসার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমার কথা ছিল- আগে আমার দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ হবে, অন্তত ৫০ বছরের মজুত থাকবে। তারপর যেটা অতিরিক্ত থাকবে সেটা আমি বেচতে পারি। তাছাড়া এই দেশের সম্পদ আমি বেচতে পারি না। এই কথা আসলে একটা বিশাল দেশ আমেরিকা আর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পছন্দ হয়নি। কাজেই আমি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি।’

এ সময় খাদ্য উৎপাদন ও কৃষির আধুনিকায়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মহামারি শুরুর দিকেই আমি আহ্বান জানিয়েছি যে, আমাদের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে। সারাবিশ্বের অনেক দেশে এখন খাদ্যের অভাব। অনেক দেশ দুর্ভিক্ষ অবস্থার দিকে চলে যাচ্ছে। জাতির পিতার ভাষায় বলতে হয়, বাংলাদেশের মাটি আছে, মানুষ আছে, আমরা যেনো খাদ্যের অভাবে আর কখনও না ভুগি। উত্তরবঙ্গ আওয়ামী লীগ সরকার আমলেই মঙ্গা মুক্ত হয়, মঙ্গা মুক্তই থাকবে। বাংলাদেশে কখনও যেন আর দুর্ভিক্ষ হতে না পারে।’

কৃষিজমি রক্ষার তাগিদ দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘কৃষিজমি কোনও মতেই যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয়; আমরা উৎপাদন করবো, উন্নয়ন করে যাবো। তবে সে উন্নয়নটা আমাদের কৃষি জমি সংরক্ষণ করেই করতে হবে।’

সারাবিশ্বে প্রচুর খাদ্য অপচয়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যের অপচয়টা কমাতে হবে, অপচয় যেন না হয়। সারা বিশ্বে কিন্তু একদিকে খাদ্যের অভাব অপর দিকে কিন্তু প্রচুর খাদ্যের অপচয় হয়। এই অপচয় যেন না হয়। বরং যে খাদ্যগুলো অতিরিক্ত থাকে সেটাকে আবার পুনর্ব্যবহার করা যায় কীভাবে; সেটার বিষয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে। সে ধরনের ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। উদ্বৃত্ত যে খাদ্যটা থাকবে বা আপনি খেতে বসেও যে খাবারটা বেশি থাকবে সেটাও কীভাবে পুনর্ব্যবহার করা যায়, অন্য চাহিদা পূরণ করা যায় কি না- সেটাকেও গবেষণার মধ্যে রাখা দরকার।’

কৃষি সম্প্রসারণ ও খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা, খাদ্য চাহিদা ইনশাল্লাহ আমরা পূরণ করে যাবো। হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বিনামূল্যে খাদ্য দিয়েও তাদের খাদ্য চাহিদা আমরা পূরণ করবো। আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’

উৎপাদিত খাদ্যের মান ঠিক রাখার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খাদ্য শুধু উৎপাদন না খাদ্যের মানটা যেন ঠিক থাকে।’

বীজ উৎপাদনে বিভিন্ন গবেষণা করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বীজ আমরা উৎপাদন করবো, আমরা অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকবো না। ... সরকারিভাবে উৎপাদন করবে, বীজ মানসম্পন্ন বীজ সংগ্রহ এবং যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক উদ্ভাবিত ‘বঙ্গবন্ধু ধান-১০০’ অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কৃষিতে সফলতার জন্য বাংলাদেশী কৃষি বিজ্ঞানী ও গবেষকদের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সফলতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আমরা চাহিদার উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। বিশ্বে বাংলাদেশ এখন ধান উৎপাদনে তৃতীয়, শাকসবজি উৎপাদনে তৃতীয়, চা উৎপাদনে চতুর্থ, আম ও আলু উৎপাদনে সপ্তম এবং পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে তৃতীয় এবং ইলিশ মাছ উৎপাদনে প্রথম স্থান অর্জন করেছি।’

কৃষিক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষি বাতায়ন, কৃষক বন্ধু ফোন সেবা (৩৩৩১), কৃষকের জানালা, কৃষি কল সেন্টার (১৬১২৩) মাধ্যমে কৃষকদের সাথে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা, প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান, ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খোলার সুবিধা, উন্নত বীজ ও সার সরবরাহ, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, কৃষি যান্তিকীকরণসহ কৃষি সম্প্রসারণে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্ব খাদ্য দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য- ‘আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ, ভালো উৎপাদনই ভালো পুষ্টি, ভালো পরিবেশই উন্নত জীবন।’

অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম।

/পিএইচসি/ইউএস/

সম্পর্কিত

খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়ে সাড়ে ৪ কোটি মেট্রিক টন: প্রধানমন্ত্রী

খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়ে সাড়ে ৪ কোটি মেট্রিক টন: প্রধানমন্ত্রী

গ্লাসগো, লন্ডন ও প্যারিস যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

গ্লাসগো, লন্ডন ও প্যারিস যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

১৯৭৩ সালের এই দিন

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সিরিয়ায় চিকিৎসক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ১৬ অক্টোবরের ঘটনা।)

১৯৭৩ সালের এই দিন জানানো হয়, দুই-একদিনের মধ্যে ২৮ সদস্যের একটি বাঙালি চিকিৎসক দল সিরিয়ায় যাচ্ছে। এই প্রথম আরবের বাইরের একটি এশীয় দেশ মধ্যপ্রাচ্যে সাহায্যকারী দল পাঠাচ্ছে। সিরিয়ার অনুরোধে দুই-একদিনের মধ্যে এই চিকিৎসক দল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে যাচ্ছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধরত মিসর ও সিরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের একাত্মতা প্রকাশ করে চিকিৎসক দল পাঠানোর প্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে সিরিয়া বাংলাদেশের কাছে দ্রুত চিকিৎসক দল পাঠানোর অনুরোধ জানায় বলে জানা গেছে।

সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় সফরে বঙ্গবন্ধুর জাপান যাত্রা

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানের উদ্দেশে ১৭ অক্টোবর রওনা দেবেন। বঙ্গবন্ধুর এই সফরের ফলে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সুস্পষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করে কূটনৈতিক মহল। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ, পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, মুখ্য সচিব রুহুল কুদ্দুস, স্বরাষ্ট্র সচিব এনায়েত করিমসহ আরও অনেকে সেখানে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পূর্বদেশ সম্পাদক এতেশাম হায়দার চৌধুরী, ইত্তেফাক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত স্টাফসহ একটি সাংবাদিক প্রতিনিধি দল, প্রধানমন্ত্রীর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ও ছোট ছেলে শেখ রাসেল জাপান সফরে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ বিমানের ৭০৭ বোয়িং সন্ধ্যা সাতটায় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ঢাকা ত্যাগ করবে, পরদিন বেলা ১০টায় (টোকিও সময়) জাপানে পৌঁছাবে।

১৯৭৩ সালের ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা

তবে জ্বালানি নিতে উড়োজাহাজটির মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে দুই ঘণ্টা অবস্থান করার কথা। বিমানবন্দরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানানোর কথা রয়েছে। জাপানে অবস্থানকালে বঙ্গবন্ধু ১৯ অক্টোবর সে দেশের সম্রাটের সঙ্গে শুভেচ্ছামূলক সাক্ষাতে মিলিত হবেন। এর আগে বঙ্গবন্ধু জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবেন। এ ছাড়া ১৮ অক্টোবর রাতে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-জাপান সমিতির সম্মেলনে যোগ দেবেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৩ অক্টোবর দুপুরে জাপানের জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবর্ধনা সভায় যোগ দেবেন।

কর্নেল মাসুদ খানকে ক্ষমা করে দেওয়া হলো

দিল্লি চুক্তি মোতাবেক ত্রিমুখী লোকবিনিময় শুরু হওয়ার পর ১৯৭৩ সালের এদিন পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার বাঙালি পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। তাদের মধ্যে নৌ, সেনা ও বিমান বাহিনীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থায় কর্মরতরা ছিলেন।

কর্নেল ইয়াসিনও যেকোনও দিন বাংলাদেশে ফিরবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। দু’জন অফিসার এবং সেনাবাহিনীর একজন বাঙালি অফিসার কর্নেল মাসুদ খানের সঙ্গে একযোগে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে দখলদার বাহিনীর আনা কতগুলো বানোয়াট অভিযোগ এবং বিচারের নামে এক প্রহসন করে এদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বঙ্গবন্ধুকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে।

ডেইলি অবজারভার, ১৭ অক্টোবর ১৯৭৩ ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের সময় মাসুদ খানকে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে দেখা যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরে আসার পর বিশেষ করে কর্নেল মাসুদ খানকে ক্ষমা করে দেন।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো মধ্যপ্রাচ্য সফরে রওনা হচ্ছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এই সফরকালে তিনি তিনটি দেশ সফর করবেন। এই দেশ তিনটি হলো—ইরান, তুরস্ক ও সৌদি আরব। তবে তিনি কী মতলব নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সেটি বলেননি। পর্যবেক্ষক মহল এই লোকটির আচরণ লক্ষ করছে বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়। আরব-ইসরাইলের সে সময়কার চলমান যুদ্ধের পটভূমিতে ইসরায়েলের বড় মুরুব্বি আমেরিকার ভূমিকা ও এই সফর নিয়ে নানা মুনির মনে নানা রকম প্রশ্ন সৃষ্টি করে।

/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ

ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা কেন?

ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা কেন?

চালের দাম বেশি হলেও জনগণ অস্বস্তিতে নেই: কৃষিমন্ত্রী

চালের দাম বেশি হলেও জনগণ অস্বস্তিতে নেই: কৃষিমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু আরবদের সম্ভাব্য সব সাহায্য দিতে আবারও প্রতিশ্রুতি দিলেন

বঙ্গবন্ধু আরবদের সম্ভাব্য সব সাহায্য দিতে আবারও প্রতিশ্রুতি দিলেন

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না: প্রধানমন্ত্রী

দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না: প্রধানমন্ত্রী

খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়ে সাড়ে ৪ কোটি মেট্রিক টন: প্রধানমন্ত্রী

খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়ে সাড়ে ৪ কোটি মেট্রিক টন: প্রধানমন্ত্রী

গ্লাসগো, লন্ডন ও প্যারিস যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

গ্লাসগো, লন্ডন ও প্যারিস যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

এসডিজি অর্জনে মানসম্মত খাদ্য ও পণ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী

এসডিজি অর্জনে মানসম্মত খাদ্য ও পণ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী

অভিনেতা ইনামুল হকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

অভিনেতা ইনামুল হকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে রাশিয়ার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে রাশিয়ার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সর্বশেষ

মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের কাছে জান্তা সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর আত্মসমর্পণ

মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের কাছে জান্তা সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর আত্মসমর্পণ

এই স্কটল্যান্ডের কাছে কিন্তু হেরেছে বাংলাদেশ!

এই স্কটল্যান্ডের কাছে কিন্তু হেরেছে বাংলাদেশ!

ওয়ারীতে নারীর মরদেহ উদ্ধার

ওয়ারীতে নারীর মরদেহ উদ্ধার

দুই ডোজ টিকার আওতায় ১ কোটি ৮৯ লাখ মানুষ

দুই ডোজ টিকার আওতায় ১ কোটি ৮৯ লাখ মানুষ

ইয়েমেনে সৌদি জোটের হামলায় ১৬০ হুথি বিদ্রোহী নিহত

ইয়েমেনে সৌদি জোটের হামলায় ১৬০ হুথি বিদ্রোহী নিহত

© 2021 Bangla Tribune