X
রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

যশোর রোডে সুবাতাসের পদযাত্রা শুরু

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪:৫১

ঐতিহাসিক যশোর রোডের বাংলাদেশ অংশের ৩৮ কিলোমিটার পথ হেঁটে যাবেন সুবাতাস (সুন্দর বাংলাদেশ ও তারুণ্যের সমন্বয়) নামে একটি সংগঠনের সাত সদস্য। সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে যশোর শহরের মুজিব সড়ক থেকে পদযাত্রা শুরু করেছেন তারা।

এতে অংশ নিয়েছেন সুবাতাসের আহ্বায়ক সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী হাসান আহমেদসহ ঢাকা থেকে আগত চলচ্চিত্রনির্মাতা শাহীনুর আক্তার শাহীন, সাংবাদিক মাহমুদ এইচ খান, কলেজছাত্রী মারজানা আক্তার, যশোরের সাংবাদিক নিশাত বিজয়, শিক্ষার্থী শাখাওয়াত খান ও মিঠুন চক্রবর্তী মাহি। যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ সুবাতাসের পদযাত্রার পৃষ্ঠপোষকতা করছেন।

পদযাত্রার আগে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক হাসান আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যশোর রোডের একটা ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। পদযাত্রার প্রধান উদ্দেশ্য, মুক্তিযুদ্ধে কোটি বাঙালির বেদনাদায়ক সেই ঐতিহাসিক পদযাত্রাকে স্মরণ।

পদযাত্রা শুরুর আগে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সুবাতাস

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচতে যুদ্ধের শুরু থেকে সেপ্টেম্বর মাসেও যশোর রোড ধরে কোটি মানুষ শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেন ভারতে। এই রাস্তাটিই ছিল সেই সব মানুষের বেঁচে থাকার একমাত্র পথ। চলার পথে সেই সময় অনেকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এই পথের প্রতিটি ধূলিকণা শরণার্থী সেই মানবস্রোতের ক্লান্তি, দুর্ভোগ আর বয়ে বেড়ানো স্বপ্নের সাক্ষী। 

তিনি বলেন, সেই সময় মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ শরণার্থীদের দুর্দশা আর বেঁচে থাকার আকুতি দেখে লেখেন বিখ্যাত কবিতা ‍‌‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’, যা বিশ্ব দরবারে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামকে তুলে ধরে। তার উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে আয়োজন করা হয় ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। পণ্ডিত রবিশঙ্কর ও তার বন্ধু জর্জ হ্যারিসন নিউইয়র্কে কনসার্টটি আয়োজন করেন। দুই বছরের বিরতি চলাকালে বব ডিলান পারফর্ম করেন সেই কনসার্টে। পরবর্তীতে সেই কবিতার বাংলা অনুবাদ করে খুব যত্ন করে গান মৌসুমী ভৌমিক। 

হাসান আহমেদ জানান, এই পদযাত্রা আগামীকাল মঙ্গলবার শেষ হবে। প্রথমদিন যশোরের ঝিকরগাছা পর্যন্ত হাঁটবেন তারা। রাতে সেখানেই রাত্রিযাপন এবং পরদিন সকালে ফের শুরু হয়ে বেনাপোলে গিয়ে শেষ হবে। চলার পথে তারা ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাবেন। সেখানে করোনা ও ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতার বিষয়ে কথা বলবেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাঝে মহান মুক্তিযুদ্ধে এই সড়কের গুরুত্ব বিষয়ে আলোচনা এবং মাস্কও স্যানিটাইজার সামগ্রী সরবরাহ করবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে হাসান আহমেদ বলেন, আমরা চাই, যশোর রোডটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে যেন বিশ্বের দরবারে আসন পায়। সে লক্ষ্যে প্রতিবছর যশোর রোডে এভাবে পদযাত্রা করারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

ভেজাল সার জব্দ, দোকানিকে লাখ টাকা জরিমানা

ভেজাল সার জব্দ, দোকানিকে লাখ টাকা জরিমানা

স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় একজনের ১৪ বছর কারাদণ্ড

স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় একজনের ১৪ বছর কারাদণ্ড

লালনের তিরোধান দিবস আজ, বসেনি সাধুর হাট

লালনের তিরোধান দিবস আজ, বসেনি সাধুর হাট

হট্টগোলে কালিয়ায় আ.লীগের বর্ধিত সভা পণ্ড 

হট্টগোলে কালিয়ায় আ.লীগের বর্ধিত সভা পণ্ড 

নতুন জাতের আমন উদ্ভাবন, কম সময়ে বেশি ফলন

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৩৮

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় নতুন জাতের আমন ধান উৎপাদন করেছেন জিন বিজ্ঞানী ও ধান গবেষক ড. আবেদ চৌধুরী। নতুন জাতের আমন ধানের চারা রোপণের পর নির্ধারিত সময়ের দেড়মাস আগেই এ ধান কাটা সম্ভব বলে দাবি উদ্ভাবকের।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) এই নতুন জাতের আমন ধান কেটে ঘরে তোলা শুরু করেন বিজ্ঞানীর নিয়োগকৃত কুলাউড়ার হাজীপুর ইউনিয়নের কৃষক রাসেল মিয়া। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞানী ও ধান গবেষক ড. আবেদ চৌধুরীর নিয়োগকৃত কৃষক রাসেল মিয়া ৩০ শতক জমিতে প্রদর্শনী হিসেবে কানিহাটি-১ থেকে কানিহাটি-১৬ আমন ধান চাষ করেন। জীন বিজ্ঞানীর নিজ গ্রামের নামে নতুন জাতের ধানের নাম রাখেন কানিহাটি। সাধারণত আমন ধানের বীজতলা তৈরি থেকে ফসল কাটা পর্যন্ত সময় লাগে প্রায় সাড়ে চার মাস। এরপর আমন কেটে ঘরে তুলতে হয়। অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান কাটা হয়। 

রাসেল মিয়া জানান, এ বছর আমন প্রদর্শনী মাঠে ৩০ শতক জমিতে ১৪ মণ ধান হয়েছে। এ ধানে চিটা'র পরিমাণ নেই। এলাকার কৃষকরা এই জাতের আমন ধানের ফলন দেখে আগামী মৌসুমে চাষাবাদ করতে আগ্রহী হয়েছেন। কম সময়ে ভালোমানের ধান উৎপাদন সম্ভব বলেও জানান তিনি।

অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী জিন বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী বলেন, আমার উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাতের ধানের নাম আমার গ্রামের নামে কানিহাটি ১ থেকে ১৬ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। আউশের সময় একজমি থেকে তিন বার ধান কেটে ঘরে তোলা হয়েছে। সঠিক পরিচর্যায় ও অল্প সার প্রয়োগে তিন বার ফসল কেটে ঘরে তোলা সম্ভব। সে জমিতে এখন চতুর্থবারের মতো ফসল এসেছে। এই পদ্ধতিতে সারা বছর ধান চাষ করলে ভালো ফলন হবে।

/এএম/

সম্পর্কিত

গরুকে ধাক্কা দেওয়ার জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

গরুকে ধাক্কা দেওয়ার জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

কাঠের গুঁড়া ও বিষাক্ত কেমিক্যালে হচ্ছে ‘শ্রীমঙ্গলের চা পাতা’

কাঠের গুঁড়া ও বিষাক্ত কেমিক্যালে হচ্ছে ‘শ্রীমঙ্গলের চা পাতা’

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বদলালেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বদলালেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি

পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত মারমা নারীরা

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৪৫

খাগড়াছড়ি জেলায় বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও জীবনধারা। এসব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির অধিকারী মারমা জনগোষ্ঠী। তাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি দেখে মুগ্ধ হন পর্যটকরা। তবে দীর্ঘকাল থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত মারমা নারীরা।

জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বাঙালি, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল ও গারোসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। পাহাড়ি জনসংখ্যার হিসাবে খাগড়াছড়িতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মারমা সম্প্রদায়। নিজেদের ঐতিহ্যময় সংস্কৃতি থাকায় গর্ববোধ করলেও উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি না পাওয়ার অভিযোগ মারমা নারীদের। তারা কৃষ্টি, সংস্কৃতি রক্ষার পাশাপাশি উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার মহিলা কলেজ এলাকার নারীনেত্রী সুইচিংথুই মারমা জানান, মারমা পরিবার মাতৃপ্রধান পরিবার। পরিবারের সব কাজেই মারমা নারীদের অংশগ্রহণ থাকে। মারমাদের নিজস্ব ভাষা আছে, নিজস্ব কৃষ্টি-সংস্কৃতি আছে, নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক আছে। শত বছরের বর্ণাঢ্য জীবনাচার থাকলেও নেই উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পাবার সুযোগ। বাবা-মা জীবদ্দশায় সম্পত্তি দিয়ে দখল হস্তান্তর না করলে মারমা নারীরা সম্পত্তি পায় না। তিনি আইন করে মারমা নারীদের উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পাওয়ার দাবি জানান।

পানছড়ি এলাকার ২৪২নং পুজগাং মৌজার প্রয়াত মৌজা প্রধান সুইহলাপ্রু চৌধুরীর মেয়ে ইখিন চৌধুরী। তিনি বলেন, আমার বাবা স্থানীয় মৌজা প্রধান ছিলেন। তিনি মারা যাবার পর বাবার স্থলাভিষিক্ত হতে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছিলাম। তবে এখানকার স্থানীয় প্রতিনিধিরা ‘নারীরা পিতার উত্তরাধিকারী নয়’ মর্মে আপত্তি করায় জেলা প্রশাসক এখনও তার আবেদন গ্রহণ করেননি। তাকে মৌজাপ্রধান হিসেবেও নিয়োগ দেননি। মাতৃপ্রধান পরিবারের সদস্য হয়েও তিনি বাবার উত্তরাধিকার মনোনীত না হওয়ার বিষয়টি মানতে নারাজ। প্রয়োজনে আইন করে মারমা নারীদের উত্তরাধিকার নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, পার্বত্য খাগড়াছড়িতে প্রচলিত প্রথা-সংস্কৃতিসহ অনেক কিছু অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। এখানে হেডম্যান নিয়োগ করতে হলে সার্কেল চিফের পরামর্শ নিতে হয়। সার্কেল চিফ সুইলাপ্রু চৌধুরীর মেয়েকে না দিয়ে তার বড় ভাইকে হেডম্যান নিয়োগ দিতে চান। তাছাড়া দেশের প্রচলিত আইনের সঙ্গে প্রথাগত আইনের জটিলতা রয়েছে বিধায় উত্তরাধিকার নির্ণয়ে জটিলতা রয়েছে। তবে এই বিষয়ে কাজ চলছে এবং সমস্যার সমাধান হবে বলেও মনে করেন জেলা প্রশাসক।

খাগড়াছড়ি সার্কেলের চিফ সাচিং প্রু চৌধুরী বলেন, হাজার বছরের প্রচলিত প্রথা, রীতি-পদ্ধতি একদিনে পরিবর্তন সম্ভব নয়। বর্তমানে মারমা বাবা-মা জীবদ্দশায় সম্পত্তি দিয়ে গেলে নারীরা তা পাচ্ছেন। না দিয়ে গেলেও অনেক সময় পারিবারিকভাবে বসে দেওয়া হচ্ছে। তবে এই সংক্রান্তে কোনও আইন নেই। এসব বিষয়ে কাজ চলছে। অচিরেই হয়তো মারমা নারীদের উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পাবার বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

/এমআর/এমওএফ/

সম্পর্কিত

বাংলাদেশ ছাড়ছে মুহিবুল্লাহর পরিবার?

বাংলাদেশ ছাড়ছে মুহিবুল্লাহর পরিবার?

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির শাস্তি দাবি রানা দাশগুপ্তের

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির শাস্তি দাবি রানা দাশগুপ্তের

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম ছিনতাই

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম ছিনতাই

পচা মাংসের বিরিয়ানি বিক্রি, দোকান সিলগালা

পচা মাংসের বিরিয়ানি বিক্রি, দোকান সিলগালা

গরুকে ধাক্কা দেওয়ার জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৩৪

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে গরুকে ধাক্কা দেওয়ার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে লালু মিয়া (৪৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। রবিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জয়কলস গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। লালু মিয়া ওই গ্রামের মৃত খুরশিদ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার দুপুরে জয়কলস গ্রামের আমির আলীর ছেলে হেলাল মিয়া প্রতিবেশী শহীদ মিয়ার গরুকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে ধাক্কা দেন। এতে শহীদ মিয়া ও আবুল লেইছের লোকজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। আজ সকালে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রামবাসীর উদ্যোগে জয়কলস পয়েন্টে উভয়পক্ষের লোকজন নিয়ে সালিশ বৈঠকে বসেন। এ সময় উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে লিলু মিয়া গুরুতর আহত হন। আহত হন উভয়পক্ষের অন্তত নয় জন।

আহতদের সুনামগঞ্জ আড়াইশ শয্যা হাসাপাতালের চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত লিলুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বিকালে তার মৃত্যু হয়েছে।

আহতরা হলেন- জয়কলস গ্রামের আবুল লেইছ পক্ষের মৃত নোয়াজ আলীর ছেলে আমির আলী (৫৫), আমির আলীর ছেলে হেলাল মিয়া (৩৫), রইছ উদ্দিনের ছেলে ছালে আহমদ ও সাইদ আহমদ (২২), একই গ্রামের শহীদ মিয়ার পক্ষের হোসেন আহমদের ছেলে সৈয়দুর রহমান (২৮)। 

শান্তিগঞ্জ থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক আলাউদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। 

শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মোক্তাদির হোসেন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

নতুন জাতের আমন উদ্ভাবন, কম সময়ে বেশি ফলন

নতুন জাতের আমন উদ্ভাবন, কম সময়ে বেশি ফলন

কাঠের গুঁড়া ও বিষাক্ত কেমিক্যালে হচ্ছে ‘শ্রীমঙ্গলের চা পাতা’

কাঠের গুঁড়া ও বিষাক্ত কেমিক্যালে হচ্ছে ‘শ্রীমঙ্গলের চা পাতা’

দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, নিহত ২

দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, নিহত ২

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বদলালেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বদলালেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি

বাংলাদেশ ছাড়ছে মুহিবুল্লাহর পরিবার?

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:১৮

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গাদের শীর্ষস্থানীয় নেতা মো. মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল তার পরিবারের সদস্যরা। মুহিবুল্লাহর পরিবারসহ ৯ পরিবারকে অন্যত্র একটি সেন্টারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে তারা বাংলাদেশ-মিয়ানমার ছাড়া ছাড়া অন্য কোনও দেশে (থার্ড কান্ট্রি) আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সম্প্রতি সংশ্লিষ্টদের কাছে এই আবেদন করেছেন তারা। তবে তারা কোন দেশে যাচ্ছেন যা যেতে চান—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

মুহিবুল্লাহর পরিবার ছাড়াও আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ নওখিমসহ সংগঠনের কিছু সদস্য এবং মুহিবুল্লাহর ঘনিষ্ঠসহ মোট ১১টি পরিবার বাংলাদেশ-মিয়ানমারের বাইরে অন্য কোনও দেশের আশ্রয় নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে রবিবার (১৭ অক্টোবর) শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) শাহ রেজওয়ান হায়াত বলেন, আমাদের কাছে মুহিবুল্লাহর পরিবার কোনও আবেদন করেনি। তাছাড়া বিষয়টি আমাদের এখতিয়ারের বাইরে। তবে যদি তারা কোনও দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানে যেতে চায় সেক্ষেত্রে সেদেশের সঙ্গে সকল প্রক্রিয়া শেষে কাগজপত্রগুলো পররাষ্ট্র দফতর থেকে আমাদের কাছে আসবে। তারপরই বলা সম্ভব, তারা অন্য কোনও দেশে যাচ্ছেন কিনা।

এদিকে মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করার পর থেকে তার ছোট ভাই হাবিব উল্লাহ, স্ত্রী নাসিমা খাতুনসহ অন্যান্য আত্মীয়স্বজনদের অপরিচিত নম্বর থেকে মোবাইলে টেক্সট ও ভয়েজ মেসেজ পাঠিয়ে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে পুলিশ বলছে, এসব হুমকির ঘটনা কেন এবং কারা ঘটাচ্ছে তা নিয়েও কাজ করছেন মামলাটির তদন্তকারীরা।

মুহিবুল্লাহর পরিবার ও এআরএসপিএইচ সংগঠনে নেতারা জানান, মুহিবুল্লাহ হত্যার পর তারা সবাই ক্যাম্পের খুব ভয়ভীতির মধ্য ছিলেন। এরপর তারা নিরাপত্তার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এরপরও মুহিবুল্লাহর পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার তাদের ক্যাম্প থেকে সরিয়ে অন্য একটি জায়গায় নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যেই মুহিবুল্লাহ পরিবার, আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) সংগঠনের কিছু সদস্যসহ মোট ১১টি পরিবার বাংলাদেশ-মিয়ানমার ছাড়া ছাড়া অন্য কোনও দেশে বসতি স্থাপন করতে চেয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়, জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার এবং যুক্তরাষ্ট্র বরাবর আবেদন করেন। আবেদনে তারা যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া বা কানাডা নাম উল্লেখ করেছেন। এসব বিষয়ে আলোচনায় লিড করছেন এআরএসপিএইচ-এর অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ নওখিম। তবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

তবে মুহিবুল্লাহর ভাগনে এবং আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ)-এর মুখপাত্র রশিদ উল্লাহ বলেন, জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে দুই দফায় ১১টি পরিবার থার্ড কান্ট্রি যেতে চেয়ে ত্রাণ শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়, জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার এবং যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন করেছি। তার মধ্য আমরা তিন দেশের কথা উল্লেখ করেছি। এসব দেশের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। তবে এখনও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তাছাড়া ইতোমধ্য আমাদের ক্যাম্প থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে আমরা ক্যাম্প থেকে ভালো আছি।

‘থার্ড কান্ট্রি’-তে  যাবার বিষয়টি আমাদের জানা নেই উল্লেখ করে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক পুলিশ সুপার নাঈমুল হক বলেন, মুহিবুল্লাহর পরিবারসহ কয়েকজনকে ক্যাম্পের ভেতরে একটি সেন্টারে সরিয়ে রাখা হয়েছে। বিষয়টি এমন-না যে, নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের সরিয়ে রাখা হয়েছে। মূলত মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল থেকে তাদের সরিয়ে রাখা হয়। যেহেতু ‘ক্রাইম সিন’ এলাকায় লোকজন যাওয়া আসা নিষিদ্ধ। তাদের সেখানে আমরা পূর্ণ-নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছি।

/এমআর/

সম্পর্কিত

পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত মারমা নারীরা

পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত মারমা নারীরা

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির শাস্তি দাবি রানা দাশগুপ্তের

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির শাস্তি দাবি রানা দাশগুপ্তের

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম ছিনতাই

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম ছিনতাই

পচা মাংসের বিরিয়ানি বিক্রি, দোকান সিলগালা

পচা মাংসের বিরিয়ানি বিক্রি, দোকান সিলগালা

কাঠের গুঁড়া ও বিষাক্ত কেমিক্যালে হচ্ছে ‘শ্রীমঙ্গলের চা পাতা’

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:০৯

নিম্নমানের চা পাতার সঙ্গে কাঠের গুঁড়া ও বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে ‘শ্রীমঙ্গলের বিখ্যাত চা পাতা’ তৈরি করা হচ্ছে। এই চা পাতা কিনে ঠকছেন দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকরা। এতে বিপাকে পড়েছেন প্রকৃত চা ব্যবসায়ীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একটি চক্র চা গাছের পরিত্যক্ত শুকনো পাতা, অন্যান্য গাছের পাতা, কাঠের গুঁড়া ও চা কারখানার ময়লা সংগ্রহ করে। এসব উপকরণের সঙ্গে কেমিক্যাল মিশিয়ে বিষাক্ত চা পাতা তৈরি করা হয়। ওই চা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

এ অবস্থায় ভেজাল চা পাতার ব্যবসায়ীদের ধরতে শনিবার (১৬ অক্টোবর) বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত সিন্দুরখান ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তবর্তী ১৯৪৫ পিলার এম সংলগ্ন সিক্কা গ্রামে অভিযান চালান ৫৫ বিজিবির সদস্যরা। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল চা পাতা উদ্ধার হয়।

শ্রীমঙ্গল ৫৫-বিজিবির অধিনায়ক এস এন এম সামীউন্নবী চৌধুরী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সীমান্তবর্তী সিক্কা গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে মো. নুরু মিয়া ও মৃত আব্দুল বারীর ছেলে আব্দুর রহিম এবং একই গ্রামের আব্দুল মজিদের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ পরিত্যক্ত চা পাতা উদ্ধার করা হয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল চা পাতা দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছিলেন। অভিযানের সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ওই চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যান।

৫৫ বিজিবির সহকারী পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পচা পাতা, চা পাতার গুঁড়া ও কয়লার গুঁড়াসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে চা পাতা তৈরি করা হয়। এসব চা পাতা হকার ও দেশের বিভিন্ন এলাকার কিছু চা ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গলের ফিনলে টি কোম্পানির পরিবেশক ফাহিম এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে স্বনামধন্য কোম্পানির প্যাকেটজাত ফিনলে চাসহ বিভিন্ন চা বাগানের মানসম্মত চা বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ক্রেতারা ভেজাল চা পাতা কিনে প্রতারিত হওয়ার কারণে দ্বিতীয়বার চা কিনতে দ্বিধা করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুন শ্রীমঙ্গল সেক্টরের নিয়ন্ত্রণাধীন ৫৫ বিজিবির সদস্যরা উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের হামিদপুরের মৃত ছাবু মিয়ার ছেলে ভুটু মিয়ার বাড়িতে ও একই গ্রামের আবু ছায়েদ মিয়ার ছেলে সুহেল মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ছোট-বড় ২৪টি বস্তায় প্রায় ৫০০ কেজি ভেজাল চা ও ২০০ কেজি কাঠের গুঁড়া জব্দ করেছিলেন।

/টিটি/

সম্পর্কিত

নতুন জাতের আমন উদ্ভাবন, কম সময়ে বেশি ফলন

নতুন জাতের আমন উদ্ভাবন, কম সময়ে বেশি ফলন

গরুকে ধাক্কা দেওয়ার জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

গরুকে ধাক্কা দেওয়ার জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বদলালেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বদলালেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ভেজাল সার জব্দ, দোকানিকে লাখ টাকা জরিমানা

ভেজাল সার জব্দ, দোকানিকে লাখ টাকা জরিমানা

স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় একজনের ১৪ বছর কারাদণ্ড

স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় একজনের ১৪ বছর কারাদণ্ড

লালনের তিরোধান দিবস আজ, বসেনি সাধুর হাট

লালনের তিরোধান দিবস আজ, বসেনি সাধুর হাট

হট্টগোলে কালিয়ায় আ.লীগের বর্ধিত সভা পণ্ড 

হট্টগোলে কালিয়ায় আ.লীগের বর্ধিত সভা পণ্ড 

নিজ ঘরে মিললো ভ্যানচালকের অর্ধগলিত লাশ 

নিজ ঘরে মিললো ভ্যানচালকের অর্ধগলিত লাশ 

পুনরায় হামলা-লুটপাটের আতঙ্কে গ্রাম ছাড়ছেন তারা

মাগুরায় চার খুনপুনরায় হামলা-লুটপাটের আতঙ্কে গ্রাম ছাড়ছেন তারা

আবাসিক হোটেলে গার্মেন্টসকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ, স্বামী আটক

আবাসিক হোটেলে গার্মেন্টসকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ, স্বামী আটক

বাগেরহাটে ১৮টি হরিণের চামড়াসহ আটক ২

বাগেরহাটে ১৮টি হরিণের চামড়াসহ আটক ২

মাগুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৪

মাগুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৪

মাটিতে পড়ে থাকা বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে কৃষকের মৃত্যু

মাটিতে পড়ে থাকা বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে কৃষকের মৃত্যু

সর্বশেষ

আইস ও অস্ত্রসহ আটক দু’জন ৯ দিনের রিমান্ডে

আইস ও অস্ত্রসহ আটক দু’জন ৯ দিনের রিমান্ডে

১৫ নভেম্বর মুক্তি পাচ্ছে ঢাকাই মিথিলার বলিউড ছবি

১৫ নভেম্বর মুক্তি পাচ্ছে ঢাকাই মিথিলার বলিউড ছবি

রাশিয়ায় ভেজাল মদ পানে ১৮ জনের মৃত্যু

রাশিয়ায় ভেজাল মদ পানে ১৮ জনের মৃত্যু

ভাইবার নিয়ে আসছে অনেক ফিচার

ভাইবার নিয়ে আসছে অনেক ফিচার

শেখ রাসেল দিবসে দেওয়া হচ্ছে ১০টি স্বর্ণপদক ও ৪ হাজার ল্যাপটপ 

শেখ রাসেল দিবসে দেওয়া হচ্ছে ১০টি স্বর্ণপদক ও ৪ হাজার ল্যাপটপ 

© 2021 Bangla Tribune