গাইবান্ধার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে সদ্য নির্বাচিত ইউপি সদস্য আবদুর রউফ মাস্টারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত আরিফ মিয়া। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘন্টা পর শনিবার (১৩ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে সদর থানায় নিহতের বড় বোন মমতাজ বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয় লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর মাগুরাকুটি গ্রামের হায়দার মিয়ার ছেলে আরিফ মিয়াকে (৩৮)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আরও ৬/৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি মো. মাসুদার রহমান। তিনি বলেন, রাতে নিহতের বড় বোন মমতাজ বেগম বাদী হয়ে থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেন। পরে রাতেই এজাহারটি আমলে নিয়ে মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। মামলার প্রধান আসামি আরিফকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া অজ্ঞাত আসামিদের চিহ্নিত করাসহ তাদের গ্রেফতারেও পুলিশ তৎপর রয়েছে।
নিহত আব্দুর রউফ মাস্টার দ্বিতীয় ধাপের অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি লক্ষ্মীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। আব্দুর রউফ গোবিন্দপুর মাগুরাকুটি গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে।
এরআগে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আব্দুর রউফ মোটরসাইকেলে করে লক্ষ্মীপুর বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ভাঙা ব্রিজ এলাকায় আরিফ মিয়া লোহার রড দিয়ে আব্দুর রউফের মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যান। পরে আব্দুর রউফকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, হত্যা ঘটনার পর আব্দুর রউফের কর্মী-সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে দুই দফায় অভিযুক্ত আরিফ ও তার চাচার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। এছাড়া হত্যাকারী আরিফকে গ্রেফতারের দাবিতে শনিবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর বাজারে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিক্ষুব্ধ জনতা।
আরও পড়ুন:
সদ্য নির্বাচিত ইউপি মেম্বারকে পিটিয়ে হত্যা, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন
ইউপি সদস্যকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা








