নেই কোনও শিক্ষার্থী, তবু মাদ্রাসা চালাচ্ছেন সুপার!

কামাল মৃধা, নাটোর
১৯ নভেম্বর ২০২১, ২২:০০আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২১, ২২:২৪

নামে মহিলা মাদ্রাসা। কাগজে-কলমে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চললেও বাস্তবে নেই কোনও শিক্ষার্থী। চলতি বছরের এসএসসি সমমান দাখিল পরীক্ষায় ওই প্রতিষ্ঠানের ১৫ পরীক্ষার্থীর নাম দেখানো হলেও অনুপস্থিত সবাই। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমে দেড় বছর আগেই সত্যতা পেয়েছিল প্রশাসন। ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছিল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। তবে কাজ হয়নি, নানা কৌশলে প্রতিষ্ঠানটি চালাচ্ছেন মাদ্রাসার সুপার।

প্রতিষ্ঠানটি হলো নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার বাগাতিপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই মাদ্রাসা সুপারের নাম আব্দুর রউফ। স্থানীয় পেড়াবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ওই পরীক্ষার্থীদের অনুপস্থিত দেখানো হয়।

পেড়াবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার কেন্দ্র সচিব ইব্রাহিম হোসাইন ও কেরানি আনোয়ার হোসেন জানান, ওই কেন্দ্রের অধীনে পাঁচটি মাদ্রাসার মোট ১১৮ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। অনেকেই পরীক্ষা দিলেও বাগাতিপাড়া মহিলা মাদ্রাসার ১৫ পরীক্ষার্থীর সবাই অনুপস্থিত। গত বছরও ওই মাদ্রাসা থেকে কেউ দাখিল পরীক্ষা দেয়নি। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাগাতিপাড়া মহিলা মাদ্রাসা সুপার আব্দুর রউফ জানান, ২০০৩ সালে তিনি মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১১ সালে পাঠদানের অনুমোদন পেয়েছিলেন। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ছেলেমেয়ে উভয়ে পড়লেও ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে শুধু মেয়ে শিক্ষার্থী। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে ১৩১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এ বছর ১৫ জন দাখিল পরীক্ষার্থী ছিল, কিন্তু বিয়ে হয়ে যাওয়ায় কেউ পরীক্ষা দেয়নি।

মাদ্রাসার পাশের অধিবাসী ও গ্রামপ্রধান জামাল জানান, শুরুতে কিছু শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে কোনও শিক্ষার্থী আছে বলে তারা জানেন না। কোনও শিক্ষার্থীকে যাতায়াত করতেও দেখেন না।

মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান মিঠু জানান, তিনি ২০০৫ থেকে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন। ২০২০-এর ডিসেম্বর মাস থেকে প্রতিষ্ঠানে যাওয়া বন্ধ করে দেন। শুরুতে ওই প্রতিষ্ঠানে কিছু শিক্ষার্থী থাকলেও গত ২-৩ বছর ধরে কোনও শিক্ষার্থী নেই।

এ শিক্ষকের দাবি, প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে সুপার রউফ প্রতি বছরই অন্য প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষার্থী ও তার আপন-পরিচিতদের নাম দিয়ে রেজিস্ট্রেশন ও ফরম ফিলআপ করায়। এদের কেউ কেউ পরীক্ষা দেয়। তবে এ বছর প্রশাসন কঠোর হওয়ায় কেউ অংশ নেয়নি। এমনকি তার আপন মেয়েও পেড়াবাড়িয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হিসেবে দাখিল পরীক্ষা দিচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফিজুর রহমান মিঠু বলেন, ‘মাদ্রাসা সুপার বিভিন্ন সাবেক শিক্ষার্থীসহ তার মেয়ে ও স্বজনদের নামে উপবৃত্তির টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন- এমন নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে প্রশাসনে জমা রয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহাদ আলী জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দেবী পাল জানান, প্রায় এক থেকে দেড় বছর আগে একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করা হয়। ওই সময় নিশ্চিত হওয়া যায় ওই প্রতিষ্ঠানে কোনও শিক্ষার্থী নেই। প্রতিষ্ঠানটি চলমান রাখতে সুপার নানা কৌশল অবলম্বন করেন। পরে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে কাদের নাম দিয়ে মাদ্রাসা সুপার ১৫ শিক্ষার্থীর ফরম ফিলআপ করেছেন তদন্ত করে দেখা হবে।

/এফআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
বেসরকারি মাদ্রাসা-কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইনে বদলির সুযোগ 
সর্বশেষ খবর
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগে উদ্বেগ
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগে উদ্বেগ
এক ধাপে নবম পে-স্কেলের দাবিতে কর্মচারীদের আল্টিমেটাম
এক ধাপে নবম পে-স্কেলের দাবিতে কর্মচারীদের আল্টিমেটাম
জেলেনস্কির বৈঠকের প্রস্তাবকে ‘অভদ্র’ বললেন পুতিন
জেলেনস্কির বৈঠকের প্রস্তাবকে ‘অভদ্র’ বললেন পুতিন
তরুণীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৩
তরুণীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৩
সর্বাধিক পঠিত
নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল
নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল
বাংলাদেশকে যে আহ্বান জানালো ভারত
বাংলাদেশকে যে আহ্বান জানালো ভারত
১ লাখ নিষিদ্ধ তেলাপোকার চালান জব্দ
১ লাখ নিষিদ্ধ তেলাপোকার চালান জব্দ
বিএনপির সমর্থনে মেয়র হওয়া মনজুর ছাত্রলীগের মিছিলের মামলার আসামি
বিএনপির সমর্থনে মেয়র হওয়া মনজুর ছাত্রলীগের মিছিলের মামলার আসামি
তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে পারেন ২৩ এমপি
তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে পারেন ২৩ এমপি