X
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ৭ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

শিবিরের সাবেক সভাপতি আহমদ আবদুল কাদের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৬, ১৯:২৬


আহমদ আবদুল কাদের আহমদ আবদুল কাদের—গত শতকের ৯০ সালের গোড়ার দিকে যুক্ত হন খেলাফত মজলিসে। বর্তমানে  খেলাফত মজলিসের মহাসচিব। ১৯৮২ সালে ছিলেন ছাত্র শিবিরের সভাপতি। রাজনৈতিক দর্শন দিয়ে ইতোমধ্যে নিজকে দলে নির্ভরযোগ্য ও প্রভাবশালী হিসেবে পোক্ত করেছেন।১৯৮২ সালে ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি হয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর  ভূমিকা নিয়ে। সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত আলাপে উঠে এসেছে রাজনীতির নানা প্রসঙ্গ।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি এক সময় ছাত্র শিবির করতেন, জামায়াতের রাজনীতিতে যোগ না দিয়ে সরে এলেন কেন?

আহমদ আবদুল কাদের: ১৯৮২ সালে আমি ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলাম। তখন শিবিরের আদর্শ ছিল, শিবির কোনও দলের পক্ষে অবস্থান নেবে না। শিবির স্বতন্ত্র সংগঠন হিসেবে ছাত্রদের নিয়ে কাজ করবে। আমি সভাপতি হওয়ার পর জামায়াতের পক্ষ থেকে চাপ এলো, শিবিরকে জামায়াতের পক্ষে কাজ করতে হবে। এক সময় শিবির মানেই ছিল ভালো ছাত্রদের সংগঠন। অভিভাবকরাও চাইতেন, তাদের ছেলে শিবিরের করুক। শিবির জামায়াতের কর্মসূচিতে যোগ দিত না। কিন্তু জামায়াত চাইল শিবির জামায়াতের হয়ে কাজ করুক। আমরা প্রকাশ্যে মিটিংয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করার দাবি জানালে তারা (জামায়াত) তা করেনি।
আরেকটা ইস্যু ছিল, আমরা বলেছিলাম,  ৭১ সালের জামায়াতের ভূমিকা ঠিক ছিল না। এসব বিষয়ে আলোচনা হওয়া উচিত, রিভিউ করা উচিত। রিভিউ করার জন্য কিছু তথ্য সংগ্রহ করা দরকার । তখন রিভিউ ব্যবস্থা করার জন্য শিবির থেকে একটি কমিটি করা হয়েছিল। সেই কমিটিতে আমি সদস্য ছিলাম।এ উদ্যোগ নেওয়ার পর জামায়াতের মনোভাব বোঝা গেল। জামায়াত ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রিভিউ করা হবে এটা খুব সিরিয়াসলি নিল।আমি শত্রু হয়ে গেলাম, তখন জামায়াত আমাকে সরানোর জন্য তৎপর হয়ে উঠল। এরপর আমরা যারা রিভিউয়ের পক্ষে ছিলাম, তারা সরে আসি শিবির থেকে। 

 বাংলা ট্রিবিউন:  জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রিভিউ বলতে মূলত আপনারা কী চেয়েছিলেন?
আহমদ আবদুল কাদের: রিভিউ বলতে কয়কটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা। প্রায় ২০/২৫ টি প্রশ্ন ছিল আমাদের। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে জামায়াতের অবস্থানের সিদ্ধান্ত জামায়াতের ফোরামে হয়নি।আমারা প্রশ্ন করেছিলাম, এ সিদ্ধান্ত কোথায় হয়েছে? কার সভাপতিত্বে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।২৬ মার্চ পর্যন্ত জামায়াত শেখ মুজিবকে ক্ষমতা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাহলে এটা চাওয়া কিভাবে ঘুরে গেল? তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান জামায়াতের নায়েবে আমির ছিলেন মাওলানা আব্দুর রহিম, তার সঙ্গে আমার  আলাপ হয়েছিল। উনি আমাকে বলেছেন, মার্চের আগে মূল জামায়তের শূরা সদস্যদের মিটিং হয়। তখন কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতারা বলেছেন, দেশ এক থাকবে না, কারণ ভুট্টো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন না। তখন কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতারা বলেছেন, আমরা পশ্চিম পাকিস্তানে আছি। আমাদের এখানেই থাকতে হবে। আপনারা পূর্ব পাকিস্তানে থাকবেন, আপাদের সিদ্ধান্ত আপনাদের নিতে হবে। তখন জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে না হলেও ভাগ হয়ে যায়। আমরা প্রশ্ন তুলেছিলাম, আপনারা ৭১ সালের  এপ্রিলে যে বিবৃতি দিলেন, কোন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দিলেন? আমরা প্রশ্ন তুলেছিলাম আপনারা আলবদর বাহিনী গঠন করলেন, এটা কোথায় করলেন, কে এই সিদ্ধান্ত নিলেন? এসব জামায়াত পছন্দ করেনি। জামায়াত ভুল করেছে। জামায়াত নাম-ই থাকা  উচিত ছিল না। গোলাম আযম  বুঝতে পারেননি এ অবস্থা হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: শোনা যাচ্ছে আপনার ২০ দলীয় জোট ছাড়ছেন?
আহমদ আবদুল কাদের: স্থায়ী কোনও জোট কার্যত হয় না। জোট হয় কোনও ইস্যু বা নির্বাচনকেন্দ্রিক সাময়িকভাবে। আমাদের দেশে ২০০১ সালে স্থায়ী জোট হয়ে গেছে। যদিও স্থায়ী জোটের প্রয়োজন হয় না। বিএনপি এখন জোটে সক্রিয় না, তারা এখন নিজেদের দল নিয়ে ব্যস্ত। বিএনপি নিয়ে ক্ষোভ জোটের অনেকের মধ্যে আছে। তারপরও আমরা বৃহ্ৎ ঐক্যের জন্য জোটে আছি, থাকব।

বাংলা ট্রিবিউন: ক্ষোভের কথা বলছেন, কিন্তু কেন এ ক্ষোভ?
আহমদ আবদুল কাদের: বিএনপির ভেতরেও বিভিন্ন মানসিকতার লোক আছে, তাদের মধ্যে কেউ-কেউ ইসলামি দলগুলোকে পছন্দ করেন না, অনীহা দেখান। আবার কেউ-কেউ মনে করেন, জোটে ইসলামি দল থাকা ভালো। ফলে সব মিলিয়ে সুষম আচরণ বিএনপি থেকে পাওয়া যায় না। মিটিং হয় না, ফোন করেও তাদের পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ক্ষোভ তৈরি হয় নির্বাচনের সময়। সিটি করপোরশেনের নির্বাচনের সময় বলা হলো, সমন্বয় করা হবে, কার্যত হয়নি। দলকে যেভাবে মোকাবেলা করা যায় জোটকে করা যায় না। যেহেতু স্থায়ী জোট হয়েছে, ফলে অনেকের কাছে অবহেলা মনে হয়। বিএনপি হয়ত তাদের দল নিয়ে ব্যস্ত, তারা জোটের শরিকদের বলছেন, জোটের মিটিং ঢাকা দরকার, কিন্তু মিটিং হচ্ছে না। এ নিয়ে মতপার্থক্য হয়। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তার আগেও নানা আভাস-ইঙ্গিত ছিল সবাই মিলে সরকার গঠন করবে। কিন্তু বিএনপি শুধু জামায়াতে ইসলামিকে নিয়ে সরকার গঠন করে। ক্ষোভ তৈরি হওয়া মানে এই নয় জোট ভেঙে যাচ্ছে।

বাংলা ট্রিবিউন: সম্প্রতি ইসলামী ঐক্যজোট তো ২০ দলীয় জোট ছাড়ল, আলাদা করে ধর্মভিত্তিক দলের ঐক্যের আহবান করছে, আপনারা তাদের ঐক্যে শরিক হবেন?
আহমদ আবদুল কাদের: ইসলামী ঐক্যজোট তো ক্ষোভের কারণে ২০ দলীয় জোট ছাড়েনি। তারা সরকারের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে। আমি তাদের সব কাহিনি জানি। ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান লতিফ নেজামী জোট ছাড়তে চাননি। যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত জোট ছাড়লেন। এতে ২০ দলীয় জোটের কোনও ক্ষতি হবে না। তারা জোটের কথা বলছেন, আসলে কিছুই হবে না। তারা এসব বলছেন আত্মরক্ষার জন্য। তারা আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন—এ প্রশ্ন ঠেকাতে তারা এসব ঐক্যের কথা বলছেন।

বাংলা ট্রিবিউন: বিএনপি জোটে থাকার কারণ কী?
আহমদ আবদুল কাদের: আমারা চার দলীয় জোটের শুরু থেকেই আছি। তখন ইসলামী ঐক্যজোট ভুক্ত হয়ে খেলাফত মজলিস জোটভুক্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে যখন ইসলামী ঐক্যজোট দল হিসেবে নিবন্ধন নেয়, তখন  খেলফত মজলিসও আলাদা দল হিসেবে জোটের শরিক হয়। মূলত আওয়ামী লীগ দেশ শাসন করলে দেশেরে মানুষ ভালো থাকবে না, আলেমদের ওপর নির্যাতন হয়। এ জন্য তাদের নির্বাচনে প্রতিহত করতে বিএনপি জোটে শরিক হওয়া। এখন আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, এখন জোট ভাঙার প্রশ্নই আসে না। এখন জোট ভাঙা মানে যাকে ঠেকাতে জোট, তার পক্ষে অর্থাৎ সরকারের পক্ষে যাওয়া।

আলাপরত আহমদ আবদুল কাদের ও চৌধুরী আকবর হোসেন

বাংলা ট্রিবিউন: ধর্মভিত্তিক দলগুলো ঐক্যের কথা বলে, কিন্তু বরাবরই এসব দলে ঐক্যের চেয়ে ভাঙন বেশি। এর কারণ কী বলে মনে করেন?
আহমদ আবদুল কাদের: সব ধরনের দল-ই ভাঙে। তবে আর্দশিক দলগুলো বেশি ভাঙে। শুধু ইসলামি দল নয়, বামপন্থী দলগুলোও বেশি ভাঙে। বিভিন্ন সময়ে ভাঙতে ভাঙতে দেশে এখন অসংখ্য বামদল। সব দেশেই দেখা গেছে, আদর্শিক দলগুলো ভাঙছে। এসব দলের নেতারা মনে করেন, কোনও সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা মানে তিনি নীতিচ্যুত হয়ে যাচ্ছেন। ইসলামি দলগুলোর মূল লক্ষ্য খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা। এই খেলাফত প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। আর এই পদ্ধতি নিয়ে আর্দশিক মত পার্থক্য থেকে ভাঙে।আর অন্য দলগুলোর মুখ্য বিষয় ক্ষমতায় যাওয়া, নীতির পরির্বতন হলেও তাদের কোনও সমস্যা হয় না।

আরকটি বিষয় দল যত বড়, দল ভাঙে কম। কারণ বড় দলগুলোয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তি হয়। এছাড়া, নেতাকর্মীরা দলীয় পরিচয় নিয়ে থাকতে চান। ফলে বড়দল ভাঙলেও খুব বেশি প্রভাব পড়ে না। অন্যদিকে ইসলামি দল, বাম দলগুলো ছোট আকারের। তাই ভাঙলে প্রভাব পড়ে।

বাংলা ট্রিবিউন: জঙ্গিবাদ এখন বিশ্ব জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রেবিন্দুতে।দেশে ধর্মের নামে জঙ্গিবাদের যে উত্থান ঘটছে, এটা ধর্মভিত্তিক রাজনীতির জন্য কি হুমকি হবে?
আহমদ আবদুল কাদের: সন্ত্রাসের জন্ম বামপন্থীরা প্রথম দিয়েছে। বিগত একশ বছরের সন্ত্রাসের ইতিহাস বামদের দখলে ছিল। ভয় দেখিয়ে শাসন করতে হবে, নির্বিচারে মানুষ মেরে ফেলা হতো। বামদের এক গ্রুপ গড়ে উঠল নৈরাজ্যবাদী রূপে। সর্বশেষ ইসলামপন্থীদের কিছু ব্যক্তি ইসলামের নামে আল কায়দা গড়ে তোলে। তারা ইসলামের জন্য ক্ষতিকর। সারাবিশ্বে মূলধারার যারা ইসলামি রাজনীতি করেন, তারা এই জঙ্গিদের সমর্থন করেন না। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, এই সুযোগ ব্যবহার করছে তারা, যারা আমাদের শত্রু। যখন ইসরাইয়েল-আমেরিকা দেখল এ বিষয়ের মাধ্যমে শত্রুদের ঘায়েল করা যাবে, তখন তারা অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে। আমাদের দেশে যারা করছেন, তারা টাকা কোথায় পান? অস্ত্র কে দেন? এখানে সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য জড়িত। কূট-কৌশলে ধর্মের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদের দেশে আলেমরা এসবের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। এ বিষয়ে সবাইকে সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করতে হবে। আর সরকারকেও ভিন্ন মতকে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। সরকারকে অপবাদ দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: জঙ্গিবাদ রোধে সরকার খুতবা নিয়ন্ত্রণ, মসজিদ কমিটি অনুসন্ধান, ওয়াজ মাহফিল পরর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, অনেকেই বিরোধিতা করছেন এসব সিদ্ধান্তের, আপনাদের অবস্থান কী?
আহমদ আবদুল কাদের: আমরাও সরকারের এসব সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করি। এসবের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ দূর হবে না। এর মাধ্যমে সবস্থানে আওয়ামী সমাজের সর্বস্তরে তাদের বিরোধীদের দমন করার চেষ্টা করছে। সরকার খুতবা নিয়ন্ত্রণের অধিকার রাখে না, খুতবা নিয়ন্ত্রণ হবে ধর্মের মাধ্যমে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সরকারের পারফাস সার্ভ করছে। ইসলামে বলা আছে, জালেম শাসকের বিরুদ্ধে কথা বলতে। এখন কোনও ইমাম মসজিদে এ কথা বললে, সরকার ভাববে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছে।  

বাংলা ট্রিবিউন: লাখো আলেমের ফতোয়া কার্যক্রম শুরু হয়েছে, এটা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কতটা প্রভাব ফেলবে?
আহমদ আবদুল কাদের: এ কার্যক্রম শুরু করেছেন ফরীদ উদ্দীন মাসউদ, তিনি আওয়ামী ঘরানার। কোনও নিরপেক্ষ আলেম এ কাজ করলে ভালো হতো। ফরীদ উদ্দীন মাসউদের ভূমিকা আওয়ামী লীগের স্বার্থে, ধর্মের স্বার্থে নয়। তারপরও এটার কিছু সুফল আসবে, তবে ধর্মীয় আবেদন কম হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: সম্প্রতি ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি উঠছে,এটা কিভাবে মোকাবেলা করবেন?
আহমদ আবদুল কাদের: জনগণ কি আসলেই চায় ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ হোক, নাকি কোনও গোষ্ঠীর চাওয়া? কোনও ব্যক্তির চাওয়া জনদাবি হবে পারে না। বাম মতবাদে বিশ্বাসীরা এ দাবি করছেন। আমাদের দেশে বামপন্থী যারা নষ্ট হয়ে গেছেন, তারা জিদ মেটাতে ইসলামের ওপর অপবাদ দিচ্ছেন। বামপন্থীরা আদর্শগতভাবে মনে করেন, ইসলাম তাদের শত্রু। বামপন্থীরা বাংলাদেশে সফল না হওয়ারও মূল কারণ তাদের এ ইসলামবিরোধী মনোভাব।

বাংলা ট্রিবিউন: ওয়াজ মাহফিল আর ধর্মভিত্তিক দলের সমাবেশের মধ্যে পার্থক্য নেই।বরাবরই ধর্মীয় ইস্যু ছাড়া জাতীয় ইস্যুতে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর কর্মসূচি কম, সেটা কেন?
আহমদ আবদুল কাদের: এটার সঙ্গে আমিও একমত। আমাদের ধর্মীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট বুঝতে হবে।আমাদের দেশে আলেম যারা আছেন, মাদ্রাসা শিক্ষিত যারা আছেন, তারা দীর্ঘদিন পর্যন্ত রাজনীতিকে হারাম বলতেন। তারা প্রচলিত রাজনীতিকে দুনিয়াদারি কাজ মনে করতেন। ধীরে ধীরে তারা রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। যখন আমাদের কমিউনিতে কোনও সমস্যা হয়, তখন প্রতিবাদ আসে, আওয়াজ ওঠে, প্রেসার তৈরি করি। কিন্তু ধর্মীয় ইস্যুর বাইরে বড় আকারে বের হতে পারছি না। ফলে আমাদের আশা অনুযায়ী প্রতিফলন ঘটছে না। তবে যদি জনকল্যাণ ও দেশের জন্য রাজনীতি করতেই হয়, তাহলে এপ্রোচ বদলাতে হবে। মূল ধারার রাজনীতি করতে হবে।

 

ছবি: নাসিরুল ইসলাম

/এমএনএইচ/  

সম্পর্কিত

বাড্ডার আগুন নিয়ন্ত্রণে

বাড্ডার আগুন নিয়ন্ত্রণে

জাতিসংঘ দিবস আজ

জাতিসংঘ দিবস আজ

বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক ও মহাসচিব দীপ আজাদ

বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক ও মহাসচিব দীপ আজাদ

বাড্ডায় ফার্নিচার গোডাউনে আগুন

বাড্ডায় ফার্নিচার গোডাউনে আগুন

বাড্ডার আগুন নিয়ন্ত্রণে

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:২৪

রাজধানীর উত্তর বাড্ডার সাতারকুল এলাকায় একটি গোডাউনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। শনিবার (২৩ অক্টোবর)  রাত সাড়ে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে রাত ৯টা ৫৮ মিনিটের দিকে এ আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভাতে কাজ করে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া শাখার কর্মকর্তা মো. রায়হান এসব তথ্য জানান।

রায়হান বলেন, ‘রাজধানীর উত্তর বাড্ডা সাতারকুল রোডের সাত তলা ভবনের নিচ তলায় আগুন লাগার সংবাদ পাই আমরা। ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। পরে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো যাবে।’

ফায়ার সার্ভিস জানায়, সাতারকুলের জিএম বাড়ি এলাকার তিন তলা ভবনের নিচ তলায় জ্যোতি লিকার স্টোরের কেমিক্যাল হতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। আগুনে দ্বিতীয় তলার কাপড়ের দোকান এবং তৃতীয় তলার ইলেকট্রনিক ওয়ার্কসপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

 

 

/আইটি/আইএ/

সম্পর্কিত

বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক ও মহাসচিব দীপ আজাদ

বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক ও মহাসচিব দীপ আজাদ

বাড্ডায় ফার্নিচার গোডাউনে আগুন

বাড্ডায় ফার্নিচার গোডাউনে আগুন

জাতিসংঘ দিবস আজ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:০৫

আজ জাতিসংঘ দিবস। ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে জাতিসংঘ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য গঠিত এই সংস্থা কালের পরিক্রমায় কলেবরে অনেক বেড়েছে। ৫১টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে ১৯৪৫ সালে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ১৯৩। সারা পৃথিবীব্যাপী বিভিন্ন দ্বন্দ্ব নিরসনে, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ও উন্নয়নের জন্য কাজ করছে জাতিসংঘ। ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ ভবন

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার জন্য চেষ্টা করে বাংলাদেশ। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের আবেদন চীনের ভেটোর কারণে বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ সদস্যপদ লাভ করে। ওই বছরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবারের মতো বাংলায় জাতিসংঘে বক্তব্য রাখেন।

প্রথম থেকেই বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সমর্থক বাংলাদেশ সবসময় জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে এবং করছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে অবদান রাখছে এমন দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তবে একই সঙ্গে সংস্থাটির বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে যেমন সমালোচনা রয়েছে তেমনি অনেক কাজ করতে সফল হয়নি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে জেনেভাতে রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সমালোচনা ও অসফলতা থাকলেও জাতিসংঘের কোনো বিকল্প নেই।

এটি একমাত্র বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান যেখানে ধনী-গরিব, ছোট-বড় সব দেশই সদস্য এবং একমাত্র প্ল্যাটর্ফম যেখানে সবাই একসঙ্গে আলোচনা করতে পারে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ছোট বা কম শক্তিশালী দেশগুলো এখানে তাদের কথা বলতে পারে যা অন্য জায়গায় বলা সম্ভব হয় না।

জাতিসংঘকে কিভাবে আরও সফল করা যায় ‑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতিসংঘ একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং এটি ততটুকু সফল হবে যতটুকু এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো চাইবে।

জাতিসংঘের সফলতা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব তাদের।

/এসএসজেড/এমএস/

সম্পর্কিত

বাংলাদেশে ‘সাম্প্রদায়িক হামলা’র নিরপেক্ষ তদন্ত চায় জাতিসংঘ

বাংলাদেশে ‘সাম্প্রদায়িক হামলা’র নিরপেক্ষ তদন্ত চায় জাতিসংঘ

মালিতে ১৪০ পুলিশ সদস্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদকে ভূষিত

মালিতে ১৪০ পুলিশ সদস্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদকে ভূষিত

করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রশংসায় ইউএনডিপি এবং আইওএম

করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রশংসায় ইউএনডিপি এবং আইওএম

বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক ও মহাসচিব দীপ আজাদ

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ২৩:৫২

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে’র কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার উপপ্রধান বার্তা সম্পাদক ওমর ফারুক এবং মহাসচিব পদে নাগরিক টিভির হেড অব নিউজ দীপ আজাদ নির্বাচিত হয়েছেন। খায়রুজ্জামান কামাল নির্বাচিত হয়েছেন কোষাধ্যক্ষ পদে।

শনিবার (২৩ অক্টোবর) রাতে ফল ঘোষণা করা হয়। এ দিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া, সহসভাপতি পদে মধুসূদন মণ্ডল, যুগ্ম মহাসচিব পদে শেখ মামুনুর রশিদ ও দফতর সম্পাদক পদে সেবিকা রানী নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাহী পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন চার জন; তারা হলেন, উম্মুল ওয়ারা সুইটি, উৎপল কুমার সরকার, নূরে জান্নাত আখতার ও শেখ নাজমুল হক সৈকত। 

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহজাহান সরদার। নির্বাচনে ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য শ্রম অধিদফতরের প্রতিনিধি নিযুক্ত ছিলেন।

 

/এসটিএস/আইএ/

সম্পর্কিত

বাড্ডার আগুন নিয়ন্ত্রণে

বাড্ডার আগুন নিয়ন্ত্রণে

বাড্ডায় ফার্নিচার গোডাউনে আগুন

বাড্ডায় ফার্নিচার গোডাউনে আগুন

ফেসবুকের ‘ভুয়া খবরেই’ দেশের সব সাম্প্রদায়িক হামলা

ফেসবুকের ‘ভুয়া খবরেই’ দেশের সব সাম্প্রদায়িক হামলা

বাড্ডায় ফার্নিচার গোডাউনে আগুন

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:১০

রাজধানীর উত্তর বাড্ডার সাতারকুল এলাকায় একটি ফার্নিচার গোডাউনে আগুন লেগেছে। শনিবার (২৩ অক্টোবর) রাত ৯টা ৫৮ মিনিটের দিকে এ আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভাতে কাজ করছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া শাখার কর্মকর্তা মো. রায়হান এসব তথ্য জানান।

রায়হান বলেন, ‘রাজধানীর উত্তর বাড্ডা সাতারকুল রোডের সাত তলা ভবনের নিচ তলায় আগুন লাগার সংবাদ পাই আমরা। এখন পর্যন্ত ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে পরে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো যাবে।’

ফায়ার সার্ভিস জানায়, সাতারকুলের জিএম বাড়ি এলাকার তিন তলা ভবনের নিচ তলায় জ্যোতি লিকার স্টোরের কেমিক্যাল হতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। আগুনে দ্বিতীয় তলার কাপড়ের দোকান এবং তৃতীয় তলার ইলেকট্রনিক ওয়ার্কসপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

 

/আরটি/আইএ/

সম্পর্কিত

বাড্ডার আগুন নিয়ন্ত্রণে

বাড্ডার আগুন নিয়ন্ত্রণে

বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক ও মহাসচিব দীপ আজাদ

বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক ও মহাসচিব দীপ আজাদ

ফেসবুকের ‘ভুয়া খবরেই’ দেশের সব সাম্প্রদায়িক হামলা

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ২৩:৩০

দেশে গত দশকে যত সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে তার নেপথ্যে কলকাঠি নাড়িয়েছে নানা প্রকারের গুজব। একটি চক্র ভুয়া খবর ও ষড়যন্ত্রমূলক পোস্ট ফেসবুকে ছড়িয়ে দিতেই সংখ্যালঘুদের ওপর একই ছকে হামলা হয়। প্রতিবারই এসব ঘটনা মোকাবিলায় হিমশিম খায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গত এক দশকে গুজব ছড়ানোতে বেশি ‘অবদান’ ছিল ফেসবুকের। এর গতি এত তীব্র ছিল যে সেটা দমানোর মতো প্রযুক্তি আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও নেই। গুজবের পাশাপাশি একটি মহল থেকে আবার বক্তব্য বিবৃতি দিয়ে উসকানিও চালানো হয় সমানতালে। বেশ কয়েকটি ঘটনা পর্যালোচনা করে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি চক্রের উদ্দেশ্যই হলো দেশকে অস্থিতিশীল করা। তারাই এসব গুজবের হোতা।

ভোলায় আইডি হ্যাক করে গুজব

ভোলার বোরহানউদ্দিনে ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর হিন্দুদের একটি এলাকায় সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে মন্দির, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়। অভিযোগ করা হয়, বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য নামের এক তরুণ তার ফেসবুকের মেসেঞ্জারে মহানবীকে (সা.) নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য ছড়িয়েছে। সেই মেসেঞ্জার-বার্তার স্ক্রিনশট ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর চালানো হয় হামলা। পুলিশ ও জনতার সংঘর্ষে নিহত হয় পাঁচজন। আহত হন অনেকেই। হিন্দুদের অসংখ্য বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়।

অথচ হামলার দুদিন আগে ১৮ অক্টোবর নিজের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে বলে বোরহানউদ্দিন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন বিপ্লব চন্দ্র। পুলিশ বিপ্লবের অ্যাকাউন্ট হ্যাকের প্রমাণও পায় এবং দুজনকে গ্রেফতার করে।

ভুয়া আইডির কারণে হামলা

২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রসরাজ দাস নামের এক দরিদ্র জেলের নামে একটি আইডি খুলে ফেসবুকে ইসলাম নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার খবর ছড়িয়ে জেলার নাসিরনগরের হরিপুরে হামলা করা হয়। রসরাজকে মারধর করে পুলিশেও দেওয়া হয়। পরে জানা গেলো, ফেসবুক কী, সেটাই জানেন না অক্ষরজ্ঞানহীন রসরাজ। তার নামে থাকা আইডিও ভুয়া। এমনকি ফরেনসিক রিপোর্টেও পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে রসরাজের মোবাইল থেকে ফেসবুকে কোনও স্ট্যাটাসও দেওয়া হয়নি। এটা জানার আগেই তছনছ হয়ে যায় নাসিরনগরের হিন্দুদের ৫টি মন্দির ও কয়েক শ’ বাড়ি। নাসিরনগরে হামলার ঘটনায় মোট আটটি মামলা হয়। বেশিরভাগ মামলার তদন্ত এখনও চলছে।

. বৌদ্ধ তরুণের নামে গুজব ছড়িয়ে রামুতে হামলা

উত্তম বড়ুয়া নামের এক বৌদ্ধ তরুণ ফেসবুকে ইসলাম অবমাননাকর কন্টেন্ট আপলোড করেছে—এমন অভিযোগ করে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর একদল দুষ্কৃতকারী সংঘবদ্ধ হয়ে কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধপল্লীতে হামলা চালায়। তবে আজও উত্তম বড়ুয়া নামে সেখানে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অথচ, এ নিয়ে স্থানীয়রা রীতিমতো সমাবেশ করে হামলা চালিয়েছিল।

ওই হামলায় বৌদ্ধপল্লীর ১৯টি বৌদ্ধমন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ ছাড়াও বৌদ্ধদের অসংখ্য বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। সরকারের পক্ষ থেকে পরে মন্দির ও মূর্তি নির্মাণ করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় রামু, উখিয়া ও টেকনাফে ১৯টি মামলা হয়। এরমধ্যে একটি মামলা প্রত্যাহার হয়। তবে কোনওটির বিচার শেষ হয়নি।

. ফেসবুকের কথিত পোস্ট নিয়ে রংপুরে হামলা

ফেসবুকের কথিত স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে ২০১৭ সালের ১০ নভেম্বর রংপুরের গঙ্গাচড়ায় হিন্দু এলাকায় হামলা চালায় সংঘবদ্ধ মুসলিম সম্প্রদায়। নারায়ণগঞ্জে থাকা টিটু রায় নামে এক ব্যক্তির ফেসবুকের আইডি থেকে অবমাননাকর পোস্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। যার জেরে মিছিল নিয়ে হিন্দুদের বাড়িতে হামলা করা হয়।

সর্বশেষ কুমিল্লা

গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লার নানুয়াদিঘির পাড় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখাকে কেন্দ্র করে দেশের রংপুর, চাঁদপুর, সিলেট, কিশোরগঞ্জসহ বেশকয়েকটি জেলার হিন্দুদের ঘরবাড়ি ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে নিহত হয় পাঁচজন। মামলা হয়েছে অন্তত ৭২টি। এখন পর্যন্ত গ্রেফতার পাঁচ শতাধিক।

কুমিল্লা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ইকবাল নামের এক তরুণ একটি মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন নিয়ে মণ্ডপের মূর্তির পায়ের কাছে রেখে আসে। পরের দিন ওরাই আবার ফেসবুকে লাইভ করে সবাইকে উত্তেজিত করে। এরপর সারাদেশে উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

ফেসবুক কেন এসব ঘটানো হচ্ছে?

বাংলাদেশে গত একযুগে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা পর্যালোচনায় দেখা যায়, দুই-এক বছর পরপরই এমন গুজব বা ষড়যন্ত্রমূলক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কেন এসব ঘটানো হয় জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ বলেন, ‘একটি চক্র পরিকল্পনা করে এই অস্থিরতা সৃষ্টি করে। ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কোনও কিছু ছড়ালে তাতে মানুষ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে। অনেক মানুষ সম্পৃক্ত হয়। এই অস্থিরতার মধ্যে একটি গোষ্ঠী ফায়দা নিতে চায়। তারা এটা পরিকল্পনা করেই করে।’

এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক আরও বলেন, ‘মানুষের মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারের সংখ্যা বাড়ছে। ষড়যন্ত্রকারীদের বানানো তথ্য দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে সবার কাছে। এমনভাবে তারা খবর বানায় যা সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে। যাচাই করতেও যায় না।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারও ব্যক্তিগত পোস্ট বা অখ্যাত কোনও ওয়েবসাইটের খবরকে বিশেষ প্রাধান্য না দেওয়ার কথাই বলেছেন আব্দুর রশীদ।

তিনি বলেন, ‘জনগণকে সচেতন হতে হবে। ফেসবুকে যা আসবে সব তো সত্য নয়। মূলধারার গণমাধ্যম ছাড়া অন্য যেকোনও মাধ্যমের তথ্য বিশ্বাস করার আগে তা যাচাই করে নিতে হবে।’

দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল

সাম্প্রদায়িক হামলায় যে মামলাগুলো হচ্ছে সেগুলোর বিচার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘পুলিশ প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বিচার শুরু হবে। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ তুলে ধরা হবে। চার্জশিট দেওয়া হলেই সেটা দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে দেওয়া হবে।’

/এফএ/

সম্পর্কিত

বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক ও মহাসচিব দীপ আজাদ

বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক ও মহাসচিব দীপ আজাদ

বাড্ডায় ফার্নিচার গোডাউনে আগুন

বাড্ডায় ফার্নিচার গোডাউনে আগুন

সৌদিতে বাংলাদেশির কারাদণ্ড: আইনজীবী নিয়োগে টাকা দিচ্ছে কল্যাণ বোর্ড

সৌদিতে বাংলাদেশির কারাদণ্ড: আইনজীবী নিয়োগে টাকা দিচ্ছে কল্যাণ বোর্ড

সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদে সারা দেশে কর্মসূচি অব্যাহত

সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদে সারা দেশে কর্মসূচি অব্যাহত

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বাড্ডার আগুন নিয়ন্ত্রণে

বাড্ডার আগুন নিয়ন্ত্রণে

জাতিসংঘ দিবস আজ

জাতিসংঘ দিবস আজ

বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক ও মহাসচিব দীপ আজাদ

বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক ও মহাসচিব দীপ আজাদ

বাড্ডায় ফার্নিচার গোডাউনে আগুন

বাড্ডায় ফার্নিচার গোডাউনে আগুন

ফেসবুকের ‘ভুয়া খবরেই’ দেশের সব সাম্প্রদায়িক হামলা

ফেসবুকের ‘ভুয়া খবরেই’ দেশের সব সাম্প্রদায়িক হামলা

সৌদিতে বাংলাদেশির কারাদণ্ড: আইনজীবী নিয়োগে টাকা দিচ্ছে কল্যাণ বোর্ড

সৌদিতে বাংলাদেশির কারাদণ্ড: আইনজীবী নিয়োগে টাকা দিচ্ছে কল্যাণ বোর্ড

সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদে সারা দেশে কর্মসূচি অব্যাহত

সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদে সারা দেশে কর্মসূচি অব্যাহত

ইউজিসির খণ্ডকালীন সদস্য হলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

ইউজিসির খণ্ডকালীন সদস্য হলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নারীবাদী সংগঠনের মশাল সমাবেশ

সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নারীবাদী সংগঠনের মশাল সমাবেশ

বাসের কনডাক্টর থেকে ৫০ কোটি টাকার মালিক

বাসের কনডাক্টর থেকে ৫০ কোটি টাকার মালিক

সর্বশেষ

এটা প্রযোজনা সংস্থা নয়, অনন্যাকে তিরস্কার এনসিবির

এটা প্রযোজনা সংস্থা নয়, অনন্যাকে তিরস্কার এনসিবির

বাড্ডার আগুন নিয়ন্ত্রণে

বাড্ডার আগুন নিয়ন্ত্রণে

জাতিসংঘ দিবস আজ

জাতিসংঘ দিবস আজ

বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক ও মহাসচিব দীপ আজাদ

বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক ও মহাসচিব দীপ আজাদ

বাড্ডায় ফার্নিচার গোডাউনে আগুন

বাড্ডায় ফার্নিচার গোডাউনে আগুন

© 2021 Bangla Tribune