বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে মানহানিকর সংবাদ পরিবেশন করায় তিনি মামলা করেননি। অথচ সাংবাদিক হয়েও তানভীর আলম রিমন নামে একজন অপর চার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করায় নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও ডেইলি নিউনেশন পত্রিকার উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিনিধি তানভীর আলম রিমন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ৩২ বছর পর প্রতিমন্ত্রী পেয়েছি। তাকে নিয়ে মিথ্যাচার করলে এলাকা উন্নয়ন বঞ্চিত হবে। তাই উন্নয়ন বঞ্চিত বগুড়ার মানুষ হিসেবে মামলাটি করেছি; এখানে তার অন্য কোনও উদ্দেশ্য নেই। এতে মিথ্যা রিপোর্টকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।’
বাদীপক্ষে মামলার আইনজীবী বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব বলেন, ‘যে কেউ সংক্ষুব্ধ হয়ে মামলা করতে পারেন। এখানে মামলার বাদী তানভীর আলম রিমনের কোনও লাভক্ষতি নেই। প্রতিমন্ত্রীর মানহানি হওয়ায় তিনি সংক্ষুব্ধ হয়ে মামলাটি করেছেন।’
মামলার আসামিরা হলেন- দৈনিক ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার এবং বগুড়া প্রতিনিধি শামস।
তানভীর আলম রিমন মামলার আরজিতে উল্লেখ করেছেন, বিবাদীরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন।
গত ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘সাংবাদিক’ ছিলেন দাবি করে এবার সাংবাদিকদের উপদেশ দিলেন ‘রাস্তাকাণ্ডে’ বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম’ শিরোনামে একটি পোস্ট প্রচার করা হয়। এ ছাড়া ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গত সোমবার বিকালে ওই মামলার পর বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান শুনানি শেষে বিবাদীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং সদর থানায় মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী তানভীর আলম তার আবেদনে উল্লেখ করেন, বিবাদীরা কোনও ধরনের নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব তথ্য প্রচার করেছেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪ ও ১০৯ ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রবীণ সাংবাদিক জানান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির মানহানি হওয়ায় তার পরিবারের বা দলের কেউ মামলা করতে পারতেন। কিন্তু সাংবাদিক হয়ে অপর চার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ মামলা পেশাজীবী সাংবাদিকদের হতবাক করেছে।
তারা মন্তব্য করেন, সাংবাদিক রিমন প্রতিমন্ত্রীর আস্থাভাজন হওয়া বা অন্যকোনও উদ্দেশে এ মামলায় বাদী হয়েছেন। সাংবাদিকরা মামলার বিবাদী চার সাংবাদিককে হয়রানি না করার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে এই মামলায় ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়েছে। বগুড়া ডিবি পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে গাজীপুর উপজেলার গাছা উপজেলার বোর্ড বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার (১৯ জুন) তাকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

আলোচিত প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে সংবাদ করায় কারাগারে সম্পাদক







