কিউবার রাস্তা থেকে প্রায় হারিয়েই গেছে দেশটির ঐতিহ্যবাহী পুরোনো মডেলের ভিনটেজ গাড়িগুলো। তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে সেগুলোর জায়গা করে নিয়েছে ছোট ছোট বৈদ্যুতিক ট্রাইসাইকেল (তিন চাকার যান), যার সিংহভাগই চীনে তৈরি। তবে এগুলো সাধারণ কোনও বৈদ্যুতিক যান নয়; কিউবার ভঙ্গুর বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর নির্ভরতা এড়াতে অনেক চালকই এখন নিজেদের ট্রাইসাইকেলে বসিয়ে নিয়েছেন সোলার প্যানেল বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা। ফলে তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যেও সূর্যের আলোয় চার্জ দিয়ে রাস্তায় অনায়াসে ছুটছে এই যানগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ায় দেশটির জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। নিজেদের চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ তেল উৎপাদন করা এই দ্বীপরাষ্ট্রে আগে মাসে গড়ে ৮টি তেলের ট্যাংকার এলেও, গত মার্চের শেষের পর মাত্র একটি তেলের ট্যাংকার পৌঁছেছে। এর ফলে দেশটিতে খাদ্য-ওষুধের অভাব, তীব্র লোডশেডিং এবং গণপরিবহন সংকট চরমে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে বাসের রুটগুলোতে যাত্রী পরিবহন থেকে শুরু করে মালামাল টানা, এমনকি হাভানার কিছু এলাকায় ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের কাজেও এখন প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে এই ট্রাইসাইকেলগুলো।
জোনসেন ও জিনপেংয়ের মতো চীনা ব্র্যান্ডের এই বৈদ্যুতিক যানগুলো সাধারণত পানামা থেকে কিনে কিউবায় পাঠানো হয়। এ ছাড়া চীনের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ভেদকা ব্র্যান্ডের ট্রাইসাইকেল এখন কিউবাতেই সংযোজন করা হচ্ছে। এগুলো ২ হাজার থেকে ৪ হাজার ডলারে বিক্রি হওয়ায় সাধারণ কিউবানদের নাগালের বাইরে হলেও, অনেকে পুরোনো তেলচালিত গাড়ি বিক্রি করে বা প্রবাসীদের সহায়তায় এগুলো কিনছেন।
হাভানার মধ্যাঞ্চলের এক দোকানের কর্মী বের্তা ফেরের (৫২) জানান, যাতায়াতের জন্য তিনি প্রতি ট্রিপে ৫০০ কিউবান পেসো (১ ডলারের কম) ভাড়া দেন। সরকারি চাকরিজীবীদের গড় মাসিক বেতন যেখানে মাত্র ১০ ডলার এবং বেসরকারি খাতে ৪০ ডলার, সেখানে এই ভাড়া বেশ চড়া হলেও হেঁটে যাওয়ার চেয়ে এটি অনেক ভালো।
বৈদ্যুতিক যানের মেকানিক ও প্রকৌশলী কার্লোস আলভারেজ (২৯) একটি ট্রাইসাইকেলে সোলার প্যানেল বসানোর সময় বলেন, হাভানার রাস্তায় দাঁড়ালে ১০ মিনিটও যাবে না যেখানে আপনি অসংখ্য ট্রাইসাইকেল চলতে দেখবেন না।
তিনি জানান, ট্রাইসাইকেলে সোলার প্যানেল বসাতে প্রায় ৫০০ ডলার খরচ হলেও জ্বালানি সংকট ও ব্ল্যাকআউটের এই সময়ে সেই বিনিয়োগ দ্রুতই উসুল হয়ে যায়। নিজের সবজি ব্যবসার মালামাল টানতে ট্রাইসাইকেল ব্যবহার করা প্রকৌশলী রিকার্দো কুইন্তেরো তার যানের দিকে তাকিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই প্রযুক্তি এখানে স্থায়ী হতেই এসেছে।’
সূত্র: এপি

ইরানের বিরুদ্ধে ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডার’ দেওয়ার দাবি ট্রাম্পের, সিদ্ধান্ত নেবেন কে
লন্ডনকে টপকে আন্তর্জাতিক শিপিং সূচকে দ্বিতীয় স্থানে শাংহাই
সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে আছে বিপুল পরিমাণ ‘অদৃশ্য স্বর্ণ’






