দীর্ঘ ১১ মাস ধরে মনে করা হচ্ছিলো নভি মুম্বাইয়ের এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন। তবে পুলিশ এখন জানিয়েছে, তিনি স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হননি; বরং তার স্ত্রী ও প্রেমিক মিলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ তিন টুকরো করে বনে ফেলে দিয়েছিলেন। প্রায় এক বছর ধরে ধামাচাপা থাকা এই ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য অবশেষে উদঘাটিত হয়েছে।
গত এপ্রিল ২০২৬-এ ভুক্তভোগীর ভাই একটি নিখোঁজ ডায়েরি করার পর তদন্তে নামে পুলিশ। কল রেকর্ড বিশ্লেষণ এবং মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের সূত্র ধরে এমআইডিসি পুলিশ অভিযুক্ত সুনীতা কুশওয়াহা (৪০) এবং তার প্রেমিক রাহুল দশরথ প্রজাপতিকে (৩০) গ্রেফতার করে। স্থানীয় আদালত তাদের সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানায়, ৫০ বছর বয়সী স্বামী বলীরাম সূর্যনাথ কুশওয়াহা তার স্ত্রীর সঙ্গে রাহুলের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন। এর জের ধরেই তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট রাতে প্রথমে বলীরামের দুই সন্তানকে তাদের খালার বাড়িতে পাঠানো হয়। এরপর বলীরাম ঘুমিয়ে পড়লে সুনীতা ও রাহুল মিলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা কেটে পুরো দেহ তিন টুকরো করেন। প্রমাণ লোপাটের জন্য লাশের টুকরোগুলো আলাদা বস্তা ও বিছানার চাদরে মুড়িয়ে রাহুলের অটোরিকশায় করে নভি মুম্বাইয়ের উপকণ্ঠে গাভলি দেব পাহাড়ের বনের তিনটি ভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পর সুনীতা সন্তানদের নিয়ে ঘানসোলিতে চলে যান এবং রাহুলের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের কাছে তারা দাবি করেন যে বলীরাম বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।
নীতু নামের এক প্রতিবেশী গণমাধ্যমকে বলেন, আমি এখানে ছয় মাস ধরে থাকছি। মানুষ বলছে ঘটনাটি প্রায় ১১ মাস আগের। আমি ভুক্তভোগী সম্পর্কে খুব বেশি জানি না, তবে সবাই বলছে লোকটা ভালো ছিল। স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কের কারণেই তাকে খুন হতে হলো।
বলীরামের ভাইয়ের সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে হওয়া তদন্তে শেষ পর্যন্ত অপরাধ স্বীকার করে এই যুগল। বর্তমানে গাভলি দেব বনে বলীরামের কঙ্কাল ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

ইয়েমেনে হুথিদের ওপর সৌদি হামলার নেপথ্যে ট্রাম্প
বিয়ের পর একা ঘুরতে গেলে পাড়া-প্রতিবেশীর জ্বলে কেন






