‘মানুষ আসলেই কি মানুষকে ভালোবাসে’, প্রশ্ন রেখে নিজেকে শেষ করলেন কনস্টেবল সাইদুল

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৭ জুলাই ২০২৬, ২০:০১আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ২০:০১

রাজধানীর ডেমরা পুলিশ লাইনস ভবন থেকে মো. সাইদুল ইসলাম (২১) নামে এক কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হতাশা থেকে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সাইদুল ইসলাম ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া উত্তর চাঁদপুর গ্রামের মো. সাদেকের ছেলে। তিনি ৯ মাস আগে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে যোগ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ডেমরা পুলিশ লাইনে নিজের কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে বিছানার চাদর পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন সাইদুল। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আত্মহত্যার আগে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ একটি পোস্ট দেন সাইদুল। সেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার হতাশার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘তোমায় কেন্দ্র করে আমি যে জগৎ সাজিয়ে গুছিয়ে গড়ে তুলেছিলাম একটু একটু করে, হঠাৎ যেন সে জগৎটাকে দুইদিনেই চোখের সামনে ভেঙেচুরে চুরমার করে দিলে... মানুষ আসলেই কি মানুষকে ভালোবাসে?’

আরেক অংশে তিনি লেখেন, ‘জানো.? মাঝে মাঝে কেন জানি নিজেকে দেখলে নিজের অনেক মায়া লাগে... তোমারে ভালোবাসাটা অপরাধ? নাকি সব কিছু উপেক্ষা করে তোমাকে বিয়ে করাটা অপরাধ?... আমি হাজার বার সুযোগ দিয়েছি। কিন্তু তুমি প্রতিবারই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছো মানুষকে এতটাও বিশ্বাস করতে হয় না। যে বিশ্বাস করলে নিজেই আর বাঁচার সুযোগ থাকে না।’

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘হারিয়ে ফেলতে চাইনি বলেই আমাদের সম্পর্কের নাম দিয়েছি স্বামী-স্ত্রী... আমার কাছে এই সম্পর্ক কোনো সাময়িক অনুভূতি নয়, এটি আজীবনের অঙ্গীকার, বিশ্বস্ততা আর একে অপরকে পাশে থাকার নীরব শপথ ছিল। কিন্তু তুমি সব শেষ করে দিলা। আচ্ছা যদি যাওয়ারই ছিল, আসছিলাই কেন?’

পোস্টের শেষ দিকে তিনি লেখেন, ‘বহুকাল বয়ে বেড়াতে হবে হৃদয় ভাঙা এই ব্যথা, হয়তো এই জন্মে আর সেরে উঠবে না মৃত্যু ছাড়া। তাই আমি সেই পথেই গেলাম... তোমাকে বলেছিলাম না এটাই আমার শেষ শক্তি হয়তো তুমি, নয়তো আমি শেষ। নাও তারও প্রমাণ দিলাম।’

বাবা-মার উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘দুঃখিত আম্মু-আব্বু আপনাদের ছেলে আর নিতে পারছে না। আম্মু আর পারছি না, আর তিলে তিলে মরার শক্তি আমার নাই। মাফ করবেন আপনাদের অযোগ্য ছেলেকে। আমার যেন আর কিছুই করার নাই। একদম ভেঙেচুরে শেষ হয়ে গেলাম।’

ফেসবুক পোস্টের পাশাপাশি একটি ভিডিওও শেয়ার করেন সাইদুল। ভিডিওটির শুরুতে ‘দ্য এন্ড’ লেখা ভেসে ওঠে।

/এসএনকে/ইউএস/
সম্পর্কিত
বিচ্ছেদ হলে মানুষের আত্মহত্যা প্রবণতা কাজ করে কেন
সমান তালে বাড়ছে ডিম ও মুরগির দাম
আপনার বহু আগে আমি ছাত্রদল করেছি: এক নেতাকে কুমিল্লার এসপি
সর্বশেষ খবর
আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালে বিরতি কি বাড়ছে
আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালে বিরতি কি বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিকে ‘লালকার্ড’ প্রদর্শন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিকে ‘লালকার্ড’ প্রদর্শন
‘জয় বাংলা’ বলা এনসিপি নেতা বললেন, ‘জীবনেও আ.লীগ করিনি’
‘জয় বাংলা’ বলা এনসিপি নেতা বললেন, ‘জীবনেও আ.লীগ করিনি’
চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করলো যুক্তরাজ্য, বেইজিংয়ের প্রতিবাদ
চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করলো যুক্তরাজ্য, বেইজিংয়ের প্রতিবাদ
সর্বাধিক পঠিত
বুফে আর বাফেটের মধ্যে পার্থক্য কী
বুফে আর বাফেটের মধ্যে পার্থক্য কী
তিন ধরনের কেক-পাউরুটি বিক্রি বন্ধের নির্দেশ
তিন ধরনের কেক-পাউরুটি বিক্রি বন্ধের নির্দেশ
খেতাবপ্রাপ্ত ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন ভাতা নির্ধারণ
খেতাবপ্রাপ্ত ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন ভাতা নির্ধারণ
শহীদ আবু সাঈদের স্মরণসভায় লোক কম দেখে মন্ত্রী বললেন, ‘আমি হতাশ’
শহীদ আবু সাঈদের স্মরণসভায় লোক কম দেখে মন্ত্রী বললেন, ‘আমি হতাশ’
মাথার ওপর দিয়ে চলছে গাড়ি: ফ্লাইওভারের নিচে আবাসিক এলাকা, তবু খুশি বাসিন্দারা
মাথার ওপর দিয়ে চলছে গাড়ি: ফ্লাইওভারের নিচে আবাসিক এলাকা, তবু খুশি বাসিন্দারা