দিল্লির গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালের জরুরি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাথার ওপরে থাকা ফ্যান ভেঙে পড়ে মোহাম্মদ আকবর (৪২) নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাত ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটার প্রায় তিন ঘণ্টা পর ১২টা ১৬ মিনিটে মারা যান তিনি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যু সনদে আকস্মিক এই দুর্ঘটনা নয়, বরং পূর্ব থেকেই থাকা অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে দেখিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের দাবি, জরুরি ওয়ার্ড-২৭ এর সিলিং ফ্যানটি হঠাৎ আলগা হয়ে সরাসরি আকবরের পেটের ওপর এসে পড়ে। আকবরের পরিবার ও স্বজনেরা রক্ষণাবেক্ষণে চরম অবহেলার অভিযোগ তুলে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত দাবি করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী মুহাম্মদ আসলাম কোরেশী বলেন, রোগী ঘটনার আগে সুস্থই ছিলেন, কিন্তু ফ্যান পড়ার পরই তিনি মারা যান। চিকিৎসকেরা দাবি করছেন ফ্যান নাকি সেবিকার ওপর পড়েছে, কিন্তু আমি নিজে চোখে রোগীর ওপর পড়তে দেখেছি। এখানে রোগীদের জীবনের কোনও মূল্য নেই।
অন্যান্য স্বজনেরাও হাসপাতালের বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ওয়ার্ডের অনেক এসি নষ্ট থাকায় এই গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ফ্যানই ছিল একমাত্র ভরসা। এক স্বজন প্রশ্ন তোলেন, রোগীরা কি এই ধরনের চিকিৎসা পাবে? অন্য এক স্বজন অভিযোগ করেন, এর আগে তাঁর ভাইয়ের হাতে ভুল স্যালাইনের সুঁচ দেওয়া হয়েছিল, যা পরে কর্মীরা এসে বদলে দেয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, ১৮ জুলাই ভর্তি হওয়া আকবর উচ্চ রক্তচাপ, মেনিনগোএনসেফালাইটিস ও অ্যাসপিরেশন নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। ঘটনার পর গণপূর্ত বিভাগ ফ্যানটি মেরামত করেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, দুর্ঘটনায় এক পুরুষ নার্সও আহত হয়েছেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা নার্স আহত হওয়ার এই দাবিটি অস্বীকার করে বলেছেন, ওই নার্স কয়েক মাস আগের ভিন্ন এক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
ভয়ের মুখে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটরা







