এল নিনোর তাণ্ডবে রেকর্ড তাপমাত্রার শঙ্কা, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
০১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৬আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৮

জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় আরও তীব্র হতে চলেছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত ‘এল নিনো’র প্রভাবে সামনের দিনগুলোতে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড তাপমাত্রা বাড়ার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মতে, চলমান দাবানল ও চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া বিশ্ববাসীকে এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, দ্রুত তীব্রতর হতে থাকা এল নিনো আগামী মাসগুলোতে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার ধরনে আধিপত্য বিস্তার করবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পর্যায়ক্রমিক জলবায়ুগত ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, এই প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে চলমান বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘‘এল নিনো শুধু আমাদের দোরগোড়ায় নয়, এটি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে এবং তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি কেবল একটি প্রস্তুতি পর্ব। এল নিনো আরও শক্তিশালী হচ্ছে, যা ইতিমধ্যেই জ্বলতে থাকা অঞ্চলগুলোতে ইন্ধন যোগাচ্ছে।’’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বাড়তে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের জলের এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা আবহাওয়া ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করবে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

এল নিনোর প্রভাব মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মিলিত হওয়ায় গুতেরেস দেশগুলোকে জলবায়ু কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বিশেষভাবে জীবাশ্ম জ্বালানির সম্প্রসারণকে সংকট বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাস প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বিশ্বের প্রায় সব স্থলভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস দিয়েছে। এর সবচেয়ে তীব্র প্রভাব আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায় দেখা যেতে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেন, ‘এল নিনোর ওপর নিবিড় নজর রাখা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার ও মানবিক সংস্থাগুলোকে আগাম সতর্কবার্তাগুলো বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘পূর্বাভাস নিজে থেকে বিপদ প্রতিরোধ করে না; মানুষকেই সেটা করতে হয়। আজ আমরা যে সিদ্ধান্তগুলো নেব, তা-ই আগামীকালের প্রভাব নির্ধারণ করবে।’

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, এ বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো যখন চরমে পৌঁছাবে, তখন এর তীব্রতা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে কম্পিউটার মডেলের পূর্বাভাস এখনো অনিশ্চিত।

সূত্র: আল জাজিরা

/এনআই/
সম্পর্কিত
ড্রোন হামলায় সুয়েজপথে ঝুঁকি, বৈশ্বিক তেল সরবরাহে নতুন শঙ্কা
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বরখাস্ত হলেন আইসিসির চিফ প্রসিকিউটর 
ইউনিসেফের দফতরে বৈঠকে যে আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
সর্বশেষ খবর
হাওরে ডুবে গেলো অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা, নিখোঁজ ৪
হাওরে ডুবে গেলো অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা, নিখোঁজ ৪
মেসি ফিরলে আরও ভয়ংকর মায়ামি! 
মেসি ফিরলে আরও ভয়ংকর মায়ামি! 
আমস্টারডাম ও ভেনিসের গণ্ডি পেরিয়ে ইউরোপের ৬ মনোমুগ্ধকর খালনগরী
আমস্টারডাম ও ভেনিসের গণ্ডি পেরিয়ে ইউরোপের ৬ মনোমুগ্ধকর খালনগরী
রোহিঙ্গা সংকট কি যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই থাকবে?  
রোহিঙ্গা সংকট কি যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই থাকবে?  
সর্বাধিক পঠিত
রাশেদ খাঁনকে দুইবার কল দিয়ে নাসীরুদ্দীন বললেন ‘সব ফাঁস করে দেবো’
রাশেদ খাঁনকে দুইবার কল দিয়ে নাসীরুদ্দীন বললেন ‘সব ফাঁস করে দেবো’
ভিয়েতনামে বাংলাদেশিদের প্রতি দূতাবাসের সতর্কতা
ভিয়েতনামে বাংলাদেশিদের প্রতি দূতাবাসের সতর্কতা
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে যা জানালো ভারত
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে যা জানালো ভারত
আসিয়ান কাপে জায়গা না পেয়ে টনক নড়েছে বাফুফের, যোগাযোগ শুরু
আসিয়ান কাপে জায়গা না পেয়ে টনক নড়েছে বাফুফের, যোগাযোগ শুরু
পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিলেন নাহিদ ইসলাম  
পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিলেন নাহিদ ইসলাম