১৯৯৬ সালে কামরাঙ্গীরচরের ঝাউচরের ইটভাটা এলাকায় আকতার হোসেনকে ধরে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন চার আসামি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোসাদ্দেক মিনহাজ খালাসের রায় দেন। আদেশে বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইদুর রহমান জানান, খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন– জাকির হোসেন ওরফে মোতাবেক ওরফে নাসির, আশরাফ আলী, মালু, রফিক। তাদের মধ্যে আশরাফ আলী ও মালু আজ আদালতে হাজির হন। অপর দুই আসামি পলাতক রয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে, পূর্বশত্রুতার জেরে ১৯৯৬ সালের ৫ মে রাত ৮টার দিকে আসামিরা আকতারকে ডেকে নিয়ে কামরাঙ্গীরচরের ঝাউচরের ইটভাটা এলাকায় নিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। রফিক হাত-পা বাঁধে এবং জাকির চাকু দিয়ে পাড় মারে। আশপাশের লোকজন ঘটনা টের পেলে তারা পালিয়ে যায়। আতকারকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে নেওয়া হয় সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলে হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ মে মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাই বেবিটেক্সি চালক বাবুল মিয়া ১৪ মে লালবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন। লালবাগ থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির উল্লাহ ১৯৯৯ সালের ২৪ জুন চার জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০০১ সালের ১৯ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ আদালত থেকে আসামিদের খালাসের রায় এলো। আদেশে বিচারক বলেছেন, আসামিদের কারও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেই। তাদের কাছ থেকে মামলার কোনও আলামত উদ্ধার হয়নি। সার্বিক আলোচনা সাপেক্ষে এটা প্রতীয়মান হয়, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি।









