যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে স্বীকৃত জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার সীমিত করার উদ্দেশ্যে দ্বিতীয়বার উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবৈধ অভিবাসী ও স্থায়ীভাবে বসবাস না করা বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য তার একটি ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনা সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় তিনি এই পদক্ষেপ নিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ট্রাম্প দুটি পৃথক নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। এসব আদেশের লক্ষ্য হলো সংবিধানে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার অযোগ্যদের তালিকা আরও বিস্তৃত করা এবং তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তানের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা। তবে এই দুটি আদেশই আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি খুব কাছাকাছি ব্যবধানের হলেও তা ছিল খুবই দুর্ভাগ্যজনক। বিষয়টি সম্পূর্ণ অন্যায্য হওয়ায় আমরা এতে কিছু সংশোধন আনছি।
নতুন আদেশ অনুযায়ী, যেসব শিশু জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবে না, তাদের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউজের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী স্টিফেন মিলার বলেন, নতুন আদেশের আওতায় ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের’ সদস্যদের সন্তান এবং বিদেশি সরকারের পক্ষে তদবির ও কাজ করা বড় একটি শ্রেণির মানুষের সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে শেষোক্ত শ্রেণিতে কারা পড়বেন, তা স্পষ্ট নয়।
এছাড়া বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সন্তানদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যতিক্রমের পরিধি বাড়িয়ে আরও বেশি বিদেশি সরকারি কর্মচারীর সন্তানকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের এমন অঞ্চল বা আঞ্চলিক জলসীমায় জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদেরও অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ফেডারেল আইনে নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান নেই। বর্তমানে এর মধ্যে রয়েছে কেবল আমেরিকান সামোয়া। আদেশে আরও বলা হয়েছে, যেসব শিশুর বাবা-মা নাগরিকত্ব পেতে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন, তাদেরও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না।
দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকাতে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে এ ধরনের ভ্রমণের আয়োজনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, কোনও প্রমাণ উপস্থাপন না করেই লাখ লাখ মানুষ এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছে।
তিনি বলেন, তারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টিকে একটি তামাশায় পরিণত করেছে। একে কেন্দ্র করে ব্যবসার প্রসার ঘটিয়েছে। কিন্তু ব্যবস্থাটি এভাবে কাজ করার কথা নয়। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। তারা অর্থ দিয়ে নাগরিকত্ব কিনে নিচ্ছে এবং আমরা এটি আর হতে দেব না।
অবশ্য অভিবাসন সংক্রান্ত গবেষণা সংস্থা মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট-এর আদমশুমারিভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর এই বার্থ ট্যুরিজমের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ২২,০০০ থেকে ২৬,০০০। অন্যদিকে ২০২৪ সালের সরকারি তথ্যে বিদেশি ঠিকানা ব্যবহার করে শিশু জন্ম দেওয়ার সংখ্যা পাওয়া গেছে মাত্র ৯,৬০০, যা যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক মোট জন্ম নেওয়া শিশুর ১ শতাংশেরও কম।
বর্তমান আইন অনুযায়ী, পর্যটনের ভান করে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ভিসা ব্যবহার করা ভিসা জালিয়াতি হিসেবে গণ্য হয় এবং এটি ইতোমধ্যেই অবৈধ। ফলে নতুন আদেশ বাস্তবে বিদ্যমান আইনের বাইরে কী পরিবর্তন আনবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বারবার সময়সীমা পেরোলেও অনড় ট্রাম্প, ইরানের সঙ্গে চুক্তি ‘শিগগিরই’
ট্রাম্পকে হামলা থেকে বিরত না রাখলে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের







