রাজধানীতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখনও দীর্ঘ যানবাহনের সারি কাটেনি। পর্যাপ্ত চাপের অভাব এবং নির্ধারিত সময়ে গ্যাস না পাওয়ায় দিন-রাত ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সিএনজি অটোরিকশা, বাস ও প্রাইভেট কার চালকদের।
ফলে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি নাগরিক জীবনে মারাত্মক চাপ তৈরি করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর মহাখালী, তেজগাঁও, কল্যাণপুর, শ্যামলী ও গাবতলী এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সংকট অব্যাহত রয়েছে। মাঝেমধ্যে গ্যাস আসলে স্টেশনগুলো যানবাহনে দিচ্ছেন, আবার চলে গেলে বসে থাকতে হচ্ছে। গতরাতে আসা গ্যাস প্রায় সকাল পর্যন্ত ছিল। কিন্তু সকালের পর অনেক স্টেশনে গ্যাস নেই।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে টানা এ গ্যাসের সংকট চলছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই গ্যাসের লাইনে এসে দাঁড়ান চালকরা, যা অনেক সময় দুপুর কিংবা বিকাল পর্যন্ত গড়ায়। চালকদের অভিযোগ, স্টেশনে গ্যাসের প্রেসার বা চাপ এতই কম যে, একটি গাড়িতে গ্যাস নিতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগছে। এতে করে সারাদিনের সিংহভাগ সময় লাইনেই কেটে যায়, যা তাদের দৈনিক আয়ে বড় ধরনের ধস নামিয়েছে।
তেজগাঁও আকিজ সিএনজি পাম্পের বিক্রয়কর্মী তারেক বলেন, ‘‘রাত সাড়ে ৯ টার দিকে গ্যাসের সরবরাহ আসে। তখন আমরা গ্যাস দেওয়া শুরু করি। কিন্তু ভোর থেকে লাইনে আর কোনও গ্যাস নেই।’’
চলমান এমন পরিস্থিতি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস ও সিএনজি অটোরিকশা আটকে থাকায় রাস্তায় গণপরিবহনের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অফিস খোলা দিনগুলোতে যাওয়া-আসা এবং জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও যানবাহন না পেয়ে অনেকে হেঁটে বা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
এদিকে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় এবং লাইনে স্বল্প চাপ থাকায় গ্রাহকদের দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রেসার না থাকলে পাম্পের কমপ্রেসর চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যার ফলে স্বাভাবিক সময়ে যে পরিমাণ গাড়িতে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হতো, এখন তার অর্ধেক গাড়িতেও দেওয়া যাচ্ছে না।
জ্বালানি সংকটের এই প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও পকেটে। চালক ও মালিক উভয় পক্ষই অতি দ্রুত সিএনজি স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত চাপসহ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

এক দিনের ব্যবধানে আবারও কমলো স্বর্ণের দাম







