বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার পদত্যাগে দলটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদটি শূন্য হয়ে পড়লো। এই পদে বিএনপি কাকে আনবে এ নিয়ে চলছে আলোচনা। বিএনপির নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের প্রশ্ন পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন? এই সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘মহাসচিব কে হচ্ছেন এই বিষয়ে অপেক্ষা করেন, পরে জানানো হবে।’
তবে দলের একাধিক সূত্র বলছে, মহাসচিবের পদ শূন্য হলে পদাধিকার বলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আপাতত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর বা আগামী জানুয়ারিতে দলীয় কাউন্সিল হতে পারে। সেখানে তাকে ভারমুক্ত করে পূর্ণ মহাসচিব করা হতে পারে। যদিও তার বাইরেও সাবেক ছাত্র নেতৃত্ব থেকে বিএনপিতে আসা কয়েকজন নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে। এক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে। কোনও কারণে এই দুই জনের কেউ মহাসচিব না হলে—আরও দুই সাবেক ছাত্রনেতার মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেওয়া হতে পারে। তারা হলেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি কিংবা যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
রাজপথের অভিজ্ঞতা ও ক্লিন ইমেজেরে কারণে ঘুরেফিরে এই চার জনের নামই মহাসচিব পদে আলোচনায় আসছে। তবে এর বাইরেও অন্য কেউ মহাসচিব হতে পারেন এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি কেউই।
কেন জোরেশোরে দুই নাম
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হয়ে গেলে মহাসচিব পদে তার উত্তরসূরি হিসেবে একাধিক নেতা আলোচনায় থাকলেও এর মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদ ও রুহুল কবির রিজভীর সম্ভাবনা বেশি হওয়ার পেছনে একাধিক কারণকে বিবেচ্য হিসেবে দেখছে হাইকমান্ড।
সূত্র জানায়, তারা ছাত্রজীবন থেকেই আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতা।
এর মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে তার দক্ষতা এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, গুমের শিকার হওয়া এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে তার তথ্যপূর্ণ বাগ্মিতার কারণেও মহাসচিব হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন তিনি। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবেও সালাহউদ্দিন আহমদের সম্ভাবনা বেশি বলে দাবি সূত্রটির।
মহাসচিব পদে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। দীর্ঘদিন দলের দফতর ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বিগত দেড় দশকে মামলা-হামলা উপেক্ষা করেই নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করেন তিনি। রাজপথে মিছিল করতে গিয়ে বাধার মুখেও পিছপা হননি। অনেক সময় হামলায় রক্তাক্ত হয়েছেন। বারবার কারাগারে গেছেন। তারপরও তখন নয়াপল্টনই যেন ছিল তার ঘরবাড়ি। এমনকি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হলেও নয়াপল্টন কার্যালয়ে তার যাতায়াত কোনোভাবেই কমেনি। তাই একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষনেতাদের গুডবুকে তার নামও আছে।
আলোচনায় আরও দুই যুগ্ম মহাসচিব
বিএনপির আরেকটি সূত্র জানায়, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে সালাহউদ্দিন আহমদ এবং রিজভীর বাইরেও আলোচনায় রয়েছেন আরও দুই যুগ্ম মহাসচিব। তারা হলেন শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও হাবিব উন নবী খান সোহেল।
এর মধ্যে শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের পাশাপাশি বর্তমান সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রদল থেকে রাজনীতির হাতেখড়ি, রাজপথেও ছিলেন সক্রিয়। বিগত দিনে কারা-নির্যাতিত হয়েছেন। ক্লিন ইমেজের কারণে লক্ষ্মীপুর থেকে বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সব কিছু বিবেচনায় তিনিও মহাসচিব হতে পারেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলও মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান একাধিক নেতা। ছাত্রদল-স্বেচ্ছাসেবক দল সামলিয়ে মূল দল বিএনপির দুর্দিনেও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তিনি। সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে বারবার গ্রেফতার হয়েছেন। দলের অনেক নেতা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও সরকারে কোনও পদ পাননি তিনি। এমনকি গত নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নও পাননি। তবে দলের আনুগত্য লঙ্ঘন করেননি। অনেকের ধারণা, দল হয়তো তাকে নিয়ে বড় চিন্তা করছে। তাই সরকারের কোনও পদে রাখা হয়নি। সেক্ষেত্রে আগামীতে বিএনপির মহাসচিব পদে তাকে দেখা গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।
জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তীকালে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচন করা হবে।’ আপাতত এর বাইরে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।









