রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন- জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী (১৪) ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ।
পুলিশ জানিয়েছে, নগরের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া গ্রামের তিনতলা ভবন থেকে জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েসহ চার জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
খবর পেয়ে ওই বাসা ঘিরে রেখেছে পুলিশ ও সিআইডি। রংপুর সিআইডির পরিদর্শক আবু হাসান কবির বলেন, পুরো ভবনে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের কেউ হত্যা করেছে কয়েকদিন আগে। আজ স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছে পুলিশ। ভবনের দ্বিতীয় তলায় পুরো পরিবার থাকতো তাদের। ঘটনার তদন্ত চলছে।
রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, দুই-তিন দিন আগে ওই হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
রংপুর সিআইডির দায়িত্বরত কর্মকর্তা ইনচার্জ সুমিত চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের রাত ১টার দিকে বলেন, ‘আপাতত আমরা যা দেখলাম, তাতে মনে হচ্ছে ডাকাতির ঘটনা। মনে হচ্ছে ৩-৪ দিন আগের ঘটনা। বাসার বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল বিচ্ছিন্ন। টাকাপয়সা যেখানে থাকে, সবকিছু ভেঙে ফেলা হয়েছে। গলায় রশি কিংবা গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’
রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, তাদের খুন করা হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। তাদের গলায় দড়ি প্যাঁচানো রয়েছে। তাদের পুরো ঘরবাড়ি তছনছ অবস্থায় রয়েছে। আমরা ধারণা করছি, এটা ডাকাতি হতে পারে।
পুলিশ বলছে, গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী ও কন্যার লাশ পাওয়া যায় ছাদের সিঁড়িতে। প্রীয়ম চক্রবর্তীর লাশ পাওয়া যায় বিছানার নিচে। আর গণপতি চক্রবর্তীর লাশ পাওয়া যায় ছাদের এক প্রান্তে।
বাসার ভেতর লাশ পঁচার তীব্র গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। মেঝেতে কাপড়-চোপড় ও গয়নার বাক্স পড়ে ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, শহরের কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর দোতলা বাড়ির কাজ এখনও শেষ হয়নি। সেই বাড়ির দোতলায় সম্প্রতি পরিবার নিয়ে থাকা শুরু করেছিলেন গণপতি চক্রবর্তী। বাড়ির নিচতলাটা ফাঁকাই। তারা নতুন এসেছেন বলে এখনও প্রতিবেশীদের সঙ্গে তেমন একটা পরিচয় হয়নি বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, শনিবার রাতে প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী এসে ডাকাডাকি করেন। বাড়ির ভেতর থেকে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে ফটক বন্ধ দেখে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে ডাকে। ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতে সহায়তা করে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজন ও প্রতিবেশীরা সেখানে ভিড় করেন। কেউ আহাজারি করছিলেন, কেউ তাদের সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন।
রাত দেড়টা পর্যন্ত সেখানে গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকটি দল কাজ করছিল।

১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও ব্যাংক কর্মকর্তারা, প্রতিবাদ জানাতে এসে অজ্ঞান ব্যবসায়ী






