একসময় কেবলই ‘সেক্স ট্যুরিজম’ বা যৌন পর্যটনের জন্য কুখ্যাত ছিল থাইল্যান্ডের রিসোর্ট শহর পাতায়া। তবে সেই পুরোনো কলঙ্কজনক পরিচয় পেছনে ফেলে শহরটি এখন অনেকটা পারিবারিক ও মার্জিত রূপ ধারণ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ও উত্তেজনাপূর্ণ সফর শেষে সম্প্রতি বিশ্রামের জন্য মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর প্রায় পাঁচ হাজার সেনাসদস্য এসে নেমেছেন বদলে যাওয়া এই পাতায়ায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন নাবিকদের এই সফর নিয়ে বিভিন্ন রসিকতা হলেও সম্প্রতি ভ্রমণ করা পর্যটকরা বলছেন, পুরোনো পাতায়াকে ঢেকে দিয়েছে এখনকার পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্রগুলো। তবে স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এই সফরে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে থাই পুলিশের সঙ্গে মাঠে নেমেছে মার্কিন শোর টহল দল। থাইল্যান্ডের আইনে পতিতাবৃত্তি নিষিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিচার সংহিতায় অর্থের বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্ক দণ্ডনীয় অপরাধ।
পাতায়ার এই ইতিহাস বহু পুরোনো। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় সেখানে অবস্থানরত ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনার বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবেই একসময়ের শান্ত জেলেপল্লি পাতায়া রাতের আলোর বিনোদন শহরে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালের একটি আইন নাইটক্লাব ও বারগুলোতে এই ব্যবসাকে একধরনের ছাড় দেয়। ১৯৭৬ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর প্যাকেজ ট্যুর ও সস্তা বিমানভাড়ার যুগে শহরটি থাইল্যান্ডের দরিদ্র অঞ্চলের তরুণ-তরুণীদের কাজের বড় ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। ১৯৯০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সেখানে শুরু হয় রুশ পর্যটকদের আনাগোনা। সে সময় সাইরিলিক ভাষার সাইনবোর্ডে ঢেকে যায় পুরো শহর। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে পালিয়ে থাকা গ্যাংস্টার ও মাফিয়াদের আশ্রয়স্থল বলেও পরিচিতি পায় পাতায়া।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সফলভাবেই নিজেদের ব্র্যান্ডিং বদলে ফেলেছে শহরটি। কার্টুন নেটওয়ার্কের থিমভিত্তিক ওয়াটার পার্ক, সুবিশাল নং নুচ ট্রপিক্যাল বোটানিক্যাল গার্ডেন, ১০০ মিটারের বেশি উঁচু কাঠের তৈরি ট্রুথ মিউজিয়াম, গলফ কোর্স ও বিভিন্ন দ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ নিয়ে পাতায়ায় এখন থাই পরিবারসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশের বিপুল পর্যটক আসছেন। অবশ্য শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ওয়াকিং স্ট্রিট-এ রাতের বেলায় ঢুঁ মারলে এখনও কিছুটা হলেও সেই পুরোনো ঝাঁজালো পাতায়াকে খুঁজে পান ভ্রমণপিপাসুরা।
সূত্র: এপি

একসঙ্গে আসছে ৫ হাজার মার্কিন সৈন্য, বড় বিপদে যৌনকর্মীরা






