ছোটবেলা থেকেই সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে সুস্থ ও নিরাপদ খাবারের বিকল্প সব জায়গায় সহজে মেলে না। নিজের সন্তানের জন্য সঠিক ও নির্ভরযোগ্য খাবারের এই খোঁজে এক মা তার ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যারিয়ার ছেড়ে বেবি ফুডের ব্যবসা শুরু করেন। সেই উদ্যোগ আজ বছরে ১ কোটি রুপির বেশি রাজস্ব আয় করছে।
জ্যোতি শ্রীবাস্তব নামের এই তরুণী একসময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য রকেট ডিজাইনের কাজ করতেন। পরবর্তীকালে ২০২২ সালে তিনি গড়ে তোলেন লিটল চেরি মম নামের একটি ব্র্যান্ড। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে ঝটপট ডোসা মিক্স, বাজরার আটা, চিনি ও গুড়-মুক্ত লাড্ডু এবং শিশুদের জন্য খাকরার মতো নানা ধরনের পুষ্টিকর স্ন্যাক্স তৈরি করা হয়।
সন্তানের জন্মের পর স্তন্যপান করানোর ক্ষেত্রে কিছু জটিলতার মুখোমুখি হন জ্যোতি। তাই সন্তানকে শক্ত খাবার দেওয়া শুরু করার সময় তিনি কোনও ভুল করতে চাননি। ব্র্যান্ডটির ওয়েবসাইটে তিনি লিখেছেন, আমরা লিটল চেরি মম শুরু করেছিলাম কারণ আমরা আমাদের নিজেদের সন্তানের জন্য বিশ্বাসযোগ্য কোনও খাবার খুঁজে পাচ্ছিলাম না, যেখানে থাকবে না কোনও গোপন ময়দা, পরিশোধিত চিনি কিংবা কৃত্রিম স্বাদ।
তিনি দেখতে পান, বাজারে অনেক ব্র্যান্ড ‘প্রাকৃতিক’ ও ‘স্বাস্থ্যকর’ দাবি করলেও উপাদানের তালিকায় চিত্রটা ছিল ভিন্ন। তাই দুই সন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনও আপস না করতে উত্তর প্রদেশের মিরাটে নিজস্ব এই ব্যবসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
তবে পথচলা সহজ ছিল না। হেলথশটস-কে জ্যোতি জানান, আমি ইউনিসেফ থেকে ইনফ্যান্ট অ্যান্ড ইয়ং চাইল্ড ফিডিং-এর ওপর একটি সার্টিফাইড কোর্স করি। এটি আমাকে শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান, খনিজ ও ভিটামিনের ভূমিকা বুঝতে সাহায্য করেছে।
এ ছাড়া শিশুদের বিকাশে ঔষধি ভেষজের ভূমিকা বুঝতে তিনি বেশ কিছু আয়ুর্বেদ গ্রন্থও অধ্যয়ন করেন।
মাতৃত্বকালীন ছুটির পর আবার ক্যারিয়ার শুরু করা এবং প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সব বাধা পেরিয়ে তিনি সফল হয়েছেন। বর্তমানে পুরো ভারতে তার প্রতিষ্ঠানের ৭০ হাজারের বেশি গ্রাহক রয়েছে এবং তিনি শার্ক ট্যাংক ইন্ডিয়া’র ৫ নম্বর সিজনেও অংশ নিয়েছেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটি কেন বারবার ইরানের নিশানায়?
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেভাবে চীনের কাছ থেকে অস্ত্র ও পণ্য কিনছে ইরান







