মিলান থেকে নিউয়ার্কগামী ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মদ পরিবেশনে রাজি না হওয়ায় উড়োজাহাজের কর্মীদের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছেন এক নারী যাত্রী। এ সময় তিনি এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে লাথি মারেন ও কামড়ে দেন। এমনকি তিনি উড়োজাহাজের পেছনের দরজা খোলার চেষ্টা পর্যন্ত করেন। পরে বিমানের কর্মী ও অন্য যাত্রীরা মিলে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গত ৮ সেপ্টেম্বর ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ১৮ নম্বর ফ্লাইটে এই ঘটনা ঘটে। এফবিআইয়ের ১৫ পৃষ্ঠার অ্যাফিডেভিটের ভিত্তিতে জানা যায়, উক্ত নারী বারবার বিমানের পেছনের গ্যালারিতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ দাবি করছিলেন। কর্মীরা নতুন করে মদ দিতে অস্বীকার করলে তিনি তাদের ধারণ করা ভিডিও করা শুরু করেন।
উচ্ছৃঙ্খল আচরণের একপর্যায়ে তিনি এক পার্সারের পেটে সজোরে লাথি মারেন। লাথির আঘাতে সেই পার্সার অন্য এক যাত্রীর ওপর গিয়ে পড়েন এবং কাঁধে আঘাত পান। পরে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। নারী যাত্রীটি ডিউটিতে না থাকা এক পাইলটকেও আঁচড়ে জখম করেন। শেষমেশ চার-পাঁচজন মিলে তাকে মেঝেতে ফেলে বাঁধতে বাধ্য হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানটি ব্যাঙ্গর বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করিয়ে তাকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জিজ্ঞাসাবাদ করলে ওই নারী জানান, তিনি অতিরিক্ত মদ্যপ থাকায় অনেক কিছুই মনে করতে পারছেন না। তিনি তিন গ্লাস রেড ওয়াইন এবং এক গ্লাস হুইস্কি কোলা খেয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন। বিমানের কর্মীদের বিরুদ্ধে রূঢ় আচরণের অভিযোগ এনে তিনি জানান, কাউকে কামড়ানো বা দরজায় হাত দেওয়ার কথা তার মনে নেই। তবে মাতাল থাকায় ভুলবশত কারও গায়ে আঁচড় লেগে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি উড়োজাহাজে এমন অদ্ভুত ঘটনার প্রবণতা বেশ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকান এয়ারলাইনসের এক নারী যাত্রী চলন্ত বিমানে পোশাক খুলে ফেলে অসংলগ্ন আচরণ শুরু করেন। এর কিছুদিন আগেই অন্য একটি ফ্লাইটে এক পুরুষ যাত্রী সহযাত্রীকে গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করায় তাকে কসটেপ দিয়ে সিটের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল।
সূত্র: উইয়ন নিউজ

ঝড়ের মুখে তিনবার অবতরণের ব্যর্থ চেষ্টা, মাঝআকাশে আতঙ্কে যাত্রীরা
‘সুপার-আর্থ’কে গ্রাস করেছে সূর্য, দাবি বিজ্ঞানীদের






