বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরাতে বিশেষ স্কিম অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। স্কিম অনুযায়ী, ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল আমানত পুরোপুরি ফেরত দেওয়া হবে। এর বেশি আমানত থাকলে নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ফেরত পাবেন আমানতকারীরা।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আমানত থাকলে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ, ১ কোটি থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত ৮০ লাখ এবং দেড় কোটি থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত আমানত থাকলে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হবে। ২ কোটি টাকার বেশি আমানত থাকলেও ফেরতের সীমা ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
স্কিমের আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো আভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। প্রতিষ্ঠান চারটির খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে।
চার প্রতিষ্ঠানে মোট আমানত রয়েছে ১২ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্সে ৫ হাজার ৩৬৮ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৩ হাজার ১২ কোটি, এফএএস ফাইন্যান্সে ১ হাজার ২৪৬ কোটি এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৪৪৯ কোটি টাকা।
গত ৯ আগস্ট প্রতিষ্ঠান চারটির পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত ও এমডির পদ শূন্য ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ, দায়, ঋণ ও আমানতের হিসাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এর আগে গত বছরের মে মাসে আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ ২০টি এনবিএফআইয়ের লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের বিষয়ে মামলা-সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্য চার প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক পরিস্থিতি উন্নতির জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ), বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) ও প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স। তিন মাসের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তাদের বিরুদ্ধেও বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে।