গত বুধবার দুপুর ১টার দিকে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পরিবারকে ভিডিও কল দিয়েছিলেন সুরজ যাদব। জাহাজের জীবন কেমন হয়, তা দেখানোর জন্য ২২ বছরের এই তরুণ ছিলেন অত্যন্ত উৎফুল্ল। ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতগামী জাহাজে দাঁড়িয়ে তিনি তার কাজের জায়গা, শোয়ার ঘর এবং খাবারের ব্যবস্থা একে একে দেখাচ্ছিলেন স্বজনদের।
ভিডিও কল শেষ হওয়ার ঠিক ৩০ মিনিট পর জাহাজটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়, এতে নিহত হন সুরজ। ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওরিয়া জেলায় অবস্থানরত তার পরিবার কয়েক ঘণ্টা পর এই মৃত্যুর খবর পায়।
সুরজের ৩৭ বছর বয়সী চাচা অবধেশ যাদব বলেন, জাহাজটি দেখে বাড়ির সবাই ভীষণ রোমাঞ্চিত ছিল। আমাদের পরিবার, এমনকি পুরো গ্রামের মধ্যেই সুরজ প্রথম ব্যক্তি, যে বাণিজ্যিক জাহাজে কাজ পেয়েছিল। সে যখন সব ঘুরে দেখাচ্ছিল, আশপাশের প্রতিবেশীরাও এসে ভিড় করেছিল। কল শেষ হওয়ার ঠিক পর পরই যে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা জেনে আমরা স্তব্ধ হয়ে গেছি।
মুম্বাইভিত্তিক শিপিং কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা পরিবারটিকে সুরজের মৃত্যুর খবর জানান। অবধেশ যাদব জানান, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে জাহাজের কর্মীদের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র আসার সংকেত দিলে তারা সাগরে লাফ দেন। ২৮ জন আরোহী থাকা ওই জাহাজে বিস্ফোরণে একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তার ধ্বংসাবশেষ সুরজের মাথায় লাগলে তার মৃত্যু হয়।
দেওরিয়ার কর্মজিৎপুর গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, সুরজ তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। গত জানুয়ারিতে জেনারেল পারপাস (জিপি) রেটিং কোর্স শেষ করে গত ১৯ আগস্ট তিনি ওয়াইপার হিসেবে ওমান থেকে প্রথমবার জাহাজে যোগ দেন। ওমান থেকে দুবাই ও বার্লিন হয়ে জাহাজটি ভারতের সুরাটে ফিরছিল। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে পরিবার।
ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক্সে জানিয়েছে, ভারত অভিমুখে যাওয়ার সময় এমভি কেপ ডাও নামের বাণিজ্যিক জাহাজটি হামলার শিকার হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহন ও পানিপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানান, বাকি ১৯ জন ভারতীয় নাগরিকসহ জীবিত সব ক্রুকে ওমানের রয়্যাল নেভি নিরাপদে উদ্ধার করেছে। সোনোয়াল এক্সে লিখেন, সরকার নিশ্চিত করবে যেন সুরজ যাদবের মরদেহ পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয় এবং তার পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়।
গত জুলাই মাসে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর কেন্দ্রীয় সরকার সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিফেয়ারার-ফার্স্ট উদ্যোগ গ্রহণ করে। এর আগে গত জুনে ওমান উপকূলে এক হামলায় দেওরিয়ারই আরেক নাবিক শিবানন্দ চৌরসিয়া নিহত হয়েছিলেন।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
কঠোর অভিবাসী নীতি জাপানের, সংকটে পড়বে কারা?
জুরিখ-দিল্লি ফ্লাইটের আগে মাতাল এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট