সাত মাসের যুদ্ধ অবসানে দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলেও বুধবার তেহরানের কর্মকর্তারা জবাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে সেই জবাবে ঠিক কী রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে সরকারের মুখপাত্র ফাতেমে মহাজেরানি জানান, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশন থেকে ফিরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মন্ত্রিসভার বৈঠকে মার্কিন বার্তাটি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে হস্তান্তর করেছেন। বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা চুক্তিটি বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের চেষ্টা করবো এবং ইরানি জনগণের অধিকারের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবো। এই চুক্তিটি এখন উভয়পক্ষের জন্য সমান লাভজনক কৌশলের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে।
এর আগে আরাঘচি হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা, মার্কিন বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার, ফ্রিজ করা সম্পত্তি মুক্ত করা এবং তেল বিক্রির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্তে এক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব দেন। ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে তা নাকচ করে দিলেও মধ্যস্থতাকারীরা পর্দার অন্তরালে একটি চুক্তি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধির পথেই হাঁটছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় ইরান, হংকং ও পাকিস্তানে অবস্থিত ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এদের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য অস্ত্র ও উপাদান সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। অব্যাহত যুদ্ধের প্রভাবে মঙ্গলবার ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মান সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়, যেখানে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য ২৫ লাখ রিয়াল ছাড়িয়ে গেছে। এর জবাবে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ইরান খুব খারাপভাবে ব্যর্থ হচ্ছে এবং যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে।
অন্য এক ঘটনায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশজুড়ে হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনে সহিংসতা ও চার নিরাপত্তা কর্মীকে হত্যার অভিযোগে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড বুধবার সকালে কার্যকর করেছে ইরান। বিচার বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পর মাশহাদ শহরে তা কার্যকর করা হয়।
সূত্র: এপি