কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে পৃথক দুটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ অস্ত্রের আঘাতে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একটি কনটেইনার জাহাজ এবং একটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ ডুবে গেছে। বুধবার সামুদ্রিক কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এতে একটি জাহাজের একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। অন্য জাহাজটির ২১ নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জিএফএস প্রাইড নামের ছোট কনটেইনার জাহাজটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় ডুবে যায়। জাহাজটির ধারণক্ষমতা ছিল ২ হাজার ৮২৪ টিইইউ বা ২০ ফুট সমতুল্য কনটেইনার।
বুধবার এক বিবৃতিতে সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষ (এমপিএ) জানায়, মঙ্গলবার প্রণালি অতিক্রমের সময় জিএফএস প্রাইড ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। পরে এটি ডুবে যায়। জাহাজটির ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কেউ আহত হননি।
অন্যদিকে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী কেপ দাও নামের আরেকটি জাহাজ হরমুজ প্রণালির কাছে ডুবে গেছে। জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর জাহাজটি ডুবে যায়।
সামুদ্রিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওই হামলায় জাহাজটির একজন নাবিক নিহত হন। বাকি নাবিকদের হামলার পরপরই সরিয়ে নেওয়া হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক জাহাজটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান পিওনিস শিপম্যানেজমেন্ট এফজেডইর সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে জিএফএস প্রাইডের সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান জিএফএস শিপ ম্যানেজমেন্ট এফজেডইর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
আইএমও-এর দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জিএফএস প্রাইড এবং কেপ দাউ হলো দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডুবে যাওয়া জাহাজ।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের হামলা বিনা উসকানিতে চালানো হচ্ছে, এর কোনও যৌক্তিকতা নেই এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মারিস্কস বুধবার বলেছে, সর্বশেষ ঘটনাগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য অব্যাহত হুমকির বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, এই হুমকি শুধু তেলবাহী ট্যাংকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কনটেইনার জাহাজ ও বাল্ক ক্যারিয়ারও গুরুতর ক্ষতির শিকার হচ্ছে।
‘দেশটাকে কেন ধ্বংস করছেন’, দিল্লি বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার ককরোচ পার্টির দিপকে
যুক্তরাজ্যের আদালতে বোরকা-নিকাব পরে হাজির অভিবাসনবিরোধী ব্যক্তি