এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে টানা দুই ম্যাচে গোল করেছেন ফর্টিস এফসির ফরোয়ার্ড রাফায়েল টুডু। তবে নিজের গোলের চেয়ে বাংলাদেশের কোনও ক্লাব হিসেবে ফর্টিসের প্রথম জয়কেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ২৫ বছর বয়সী ফুটবলার।
এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে ফর্টিসের হয়ে বদলি নেমে দুটো গোল করে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে টুডু বলেন, ‘সত্যিই খুব ভালো লাগছে। গোল করে যতটা ভালো লাগছে, তার চেয়ে বড় ভালো লাগছে বাংলাদেশের কোনও ক্লাব ফর্টিস এফসি প্রথমবারের মতো এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে এসে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে। এটার জন্য আরও বেশি ভালো লাগছে।’
দুই ম্যাচে দুই গোল করে নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্ট টুডু। বিশেষ করে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে গোল করার ধারাটা আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ধরে রাখতে পেরে খুশি তিনি।
বদলি হিসেবে নেমে নিয়মিত গোল করার রহস্য জানতে চাইলে টুডু বলেন, ‘আমার পুরো কনফিডেন্স থাকে। এর আগে গত মৌসুমে মোহামেডানেও ছিলাম। মোহামেডানে দুই গোল করেছিলাম, সাবস্টিটিউট হিসেবেই গোল করেছিলাম। ফর্টিসে লিগেও দুই গোল করেছি সাবস্টিটিউট হিসেবে। তো এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও আমি সাবস্টিটিউট হয়ে দুই গোল করছি।’
সুযোগ পেলেই কাজে লাগানোর মানসিকতাই তার মূল শক্তি বলে জানান এই ফরোয়ার্ড। কোচ যখনই তাকে মাঠে নামার সুযোগ দেন, সেই সময়টাকে কাজে লাগাতে চান তিনি।
টুডুর ভাষায়, ‘আমার টার্গেটই থাকে, যখনই কোচ আমাকে সুযোগ দেন, ওই সুযোগে যেন আমি ভালো কিছু করতে পারি, গোল করতে পারি।’
বাংলাদেশের ছেলে হয়ে দেশের একটি ক্লাবের জার্সিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে টানা দুই ম্যাচে গোল— স্বাভাবিকভাবেই মুহূর্তটি টুডুর কাছে বিশেষ। তবে এই সাফল্যের পেছনে ছিল নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্যও।
মোহামেডানে থাকাকালীনই এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ খেলার স্বপ্ন দেখেছিলেন টুডু। সেই লক্ষ্য থেকেই ফর্টিসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘এএফসির এত বড় মঞ্চে খেলা আমার নিজের জন্যও অনেক বড় ব্যাপার। আমি যখন মোহামেডানে ছিলাম, তখন আলাদা একটা টার্গেট নিয়েছিলাম— এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ খেলার জন্য ফর্টিস এফসিতে যাবো। আমাকে যখন ফর্টিসের কথা বলা হয়, তখনই ভাবছিলাম, যদি যাই ফর্টিসে যাবো। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে বিদেশের মাটিতে খেলবো, প্রথম ম্যাচ জিতবো— এই আশা করেই আমি ফর্টিস ক্লাবে প্রথম সাইন করেছিলাম।’
রাজশাহীর গোদাগারির ছেলে রাফায়েলের স্বপ্ন এখন আরও বড়। নিজেই জানালেন, ‘ঘরোয়া ফুটবলে নিয়মিত খেলতে চাই। জাতীয় দলে খেলাও আমার স্বপ্ন। যদিও আমার পজিসন নম্বর নাইন। তবে ফর্টিসের হয়ে গোল পেয়েছি উইঙ্গার হয়ে।’