পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অঞ্চলের চরম অবহেলার জন্য পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকেই দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সুন্দরবনে এক প্রশাসনিক বৈঠক শেষে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখার সময় তিনি অভিযোগ করেন, তার সরকার এই অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার মানুষের কথা মাথায় রেখে বাজেটে এক হাজার ২০০ কোটি রুপির বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রথম পর্যায়ে ৫৫৩টি প্রকল্পের দরপত্র বা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও দুই হাজার ৬৪৯টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। এসব প্রকল্পের মধ্যে সড়ক নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, কালভার্ট, জেটি নির্মাণ, বিদ্যুৎচালিত নৌকা এবং মৎস্য ও কৃষি খাতের জন্য সহায়তামূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬০০ কোটি রুপি বরাদ্দের বিপরীতে মাত্র ২০০ কোটি রুপির কাজ হয়েছে। বরাদ্দের বাকি ৮০ শতাংশ অর্থই আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পূর্ববর্তী সরকার কী করেছিল তা আপনারা সবাই জানেন। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ অবহেলা করা হয়েছিল। বিজেপি সরকার বাজেটে বিশেষ এক হাজার ২০০ কোটি রুপির বরাদ্দ দিয়েছে। প্রথম ধাপে ৫৫৩টি কাজের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এসব প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, সুন্দরবনে এক হাজার ৪০৬ কোটি ৩৪ লাখ রুপি ব্যয়ে ১,১৬৯টি সড়ক প্রকল্প, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং ১১০টি কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দুর্গম দ্বীপগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পাঁচটি কংক্রিটের জেটি এবং যানবাহন ও পণ্য পরিবহনের জন্য আরও একটি জেটি নির্মাণ করবে সরকার। এছাড়া পর্যটন খাতের পরিবেশদূষণ কমাতে বিদ্যুৎচালিত নৌকার জন্য ১০০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নের বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মৎস্য খাতের জন্য ১৭ কোটি রুপি পৃথকভাবে রাখা হয়েছে এবং ১,৯৩১ জন মানুষকে কাঁকড়া মোটাতাজাকরণের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ১৩,৮৭৭ জন কৃষককে ব্যাটারিচালিত স্প্রেয়ার দেওয়া হবে।
মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু নিয়ে পূর্ববর্তী সরকার মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, ২০২৯ সালে আমি নিজেই এই সেতুর উদ্বোধন করব’। পরিকল্পিত এই প্রকল্প ও বাজেট বরাদ্দ সুন্দরবনের অবকাঠামো, যোগাযোগ, পর্যটন, মৎস্য ও কৃষি খাতকে পুরোপুরি বদলে দেবে বলে জানান তিনি।
যে কাতার বাংলাদেশকে এলএনজি দিতো, তারাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতা