গত এক দশকের মধ্যে প্রথমবার দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানাজি বে এলাকায় একটি বড় প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়ার কথা ঘোষণা করেছে তাঞ্জানিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান তাঞ্জানিয়া পেট্রোলিয়াম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (টিপিসিডি) এবং ফরাসি জ্বালানি প্রতিষ্ঠান মরেল অ্যান্ড প্রম-এর যৌথ মালিকানাধীন কাসা-১এক্স এসটি২ কূপে এই গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়।
এক অনুষ্ঠানে তাঞ্জানিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী জুমা হোমেরা জানান, নতুন আবিষ্কৃত এই ক্ষেত্রে আনুমানিক ২২৩ বিলিয়ন ঘনফুট (৬.৩ বিলিয়ন ঘনমিটার) গ্যাসের মজুদ রয়েছে। এটিকে তিনি পূর্ব আফ্রিকার দেশটির ছোট তেল ও গ্যাস খাতের উন্নয়নে এক বড় মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। আগামী মাসের শুরুর দিকেই এই কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হবে, যা স্থানীয় সরবরাহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, শিল্পের বিকাশ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার এই সময়ে সাশ্রয়ী মূল্যে নির্ভরযোগ্য, পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ জ্বালানি নিশ্চিত করতে এই আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৪ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তাঞ্জানিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। এছাড়া যানবাহন জ্বালানি হিসেবে কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। দেশে বর্তমানে ৫৭.৫৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুদ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে সংগো সংগো দ্বীপে তাঞ্জানিয়ায় প্রথম প্রাকৃতিক গ্যাস আবিষ্কৃত হয়েছিল এবং ১৯৮২ সালে মানাজি বে-তে দ্বিতীয় ক্ষেত্রের সন্ধান মেলে। ২০০৪ সালে এই গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার শুরু হয় এবং ২০১৬ সালে সেখানে ২.৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছিল।
সূত্র: বিবিসি
ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে বিশ্ববাজারে ‘ভয়াবহ’ প্রভাব পড়বে: ইরান