২৩ বছর ধরে অধরা আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফি। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটানোর স্বপ্ন নিয়েই আজ বৃহস্পতিবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসরে অভিযান শুরু করছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে প্রথম ম্যাচেই তাদের প্রতিপক্ষ ভুটান। বৃহস্পতিবার জাতীয় স্টেডিয়ামে রাত ৮টায় শুরু হবে ম্যাচটি। দেখাবে টি স্পোর্টস।
একই ভেন্যুতে বিকেল সাড়ে ৩টায় মাঠে নামবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান।
আট বছর পর বাংলাদেশে ফিরেছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। দেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা, ২০০৩ সালে সর্বশেষ জেতা শিরোপা আবারও ঘরে তুলবে বাংলাদেশ। তবে সেই লক্ষ্যে প্রথম পরীক্ষা কঠিন হতে পারে। ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচে নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে কোচ থমাস ডুলির দলকে।
২০০৫ সালে রানার্সআপ হলেও এরপর আর আগের সাফল্যের ধারেকাছে যেতে পারেনি বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ থাকায় শিরোপার স্বপ্ন দেখছে লাল-সবুজ দল। তবে সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপও সামলাতে হবে ফুটবলারদের।
তবে প্রথম ম্যাচে দলের অন্যতম তারকা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। ক্লাবের ব্যস্ততার কারণে ভুটানের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না তিনি। তার অনুপস্থিতিতে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে দলের অন্য খেলোয়াড়দের, বিশেষ করে মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের ফুটবলারদের।
বাংলাদেশের আরেকটি দুশ্চিন্তা প্রস্তুতির ঘাটতি। স্বল্প সময়ের অনুশীলন ক্যাম্পে পূর্ণাঙ্গ কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজন করতে পারেনি দল। ফলে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের আবহে খেলোয়াড়দের সমন্বয় ও একাদশের কার্যকারিতা যাচাইয়ের সুযোগ কম পেয়েছেন কোচিং স্টাফ।
অন্যদিকে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত ভুটান। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাদের। সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী একটি দলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের পাশাপাশি সেশেলস ও মরিশাসের বিপক্ষেও খেলেছে তারা। সংগঠিত ফুটবল ও জয়ের তাড়না দিয়ে বাংলাদেশকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে দলটি।
সাফে বাংলাদেশ রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে, যেখানে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল উঠবে শেষ চারে। আগামী ১৪ নভেম্বর হবে সেমিফাইনাল, আর ফাইনাল ১৭ নভেম্বর।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের ম্যাচ মাত্র দুটি। তাই সেমিফাইনালে ওঠার পথ সহজ করতে প্রথম ম্যাচ জয় দিয়ে শুরু করাটা গুরুত্বপূর্ণ।