২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এখন সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে। শুরুতে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং ইরানের ওপর দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপের কারণে যুদ্ধটি দ্রুত একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাবে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সামরিক হামলা, পাল্টা হামলা, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘাত, অর্থনৈতিক অবরোধ, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং ব্যর্থ সমঝোতার ধারাবাহিকতায় যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে কোনও পক্ষই স্পষ্ট বিজয় দাবি করতে পারছে না।
বরং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘাত আবার নতুন করে তীব্র হয়েছে। আগস্টের শেষ এবং সেপ্টেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধরনের সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের রাডার, বিমান প্রতিরক্ষা ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি— হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল ও মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি হওয়ায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অপরদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক অবস্থান এবং মিত্র রাষ্ট্রগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে।
এই নতুন সামরিক উত্তেজনা প্রমাণ করেছে যে, যুদ্ধের মূল সমস্যাগুলো এখনও সমাধান হয়নি। একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নয়—সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই বাস্তবতাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
যুদ্ধের শুরু থেকে বর্তমান পর্যায়
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক অভিযান ইরানের সামরিক, ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে পরিচালিত হতে শুরু করে। ওয়াশিংটনের মূল যুক্তি ছিল— ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য পারমাণবিক অগ্রগতি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
ইরানের অবস্থান ছিল ভিন্ন। তেহরান এই হামলাকে তার সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করে এবং পাল্টা প্রতিরোধের ঘোষণা দেয়। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালিতে তার ভৌগোলিক অবস্থান দ্রুত সংঘাতকে— একটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত করে।
যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করতে সক্ষম হলেও ইরানকে দ্রুত রাজনৈতিকভাবে আত্মসমর্পণ করানো সম্ভব হয়নি। অপরদিকে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে পরাজিত করতে পারেনি। ফলে যুদ্ধটি দ্রুত একটি অচলাবস্থার সংঘাতে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্স লাইব্রেরির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে যে, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে উভয় পক্ষই সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে, কিন্তু যুদ্ধ শেষ করার জন্য কার্যকর আলোচনা এখনো শুরু হয়নি।
হরমুজ প্রণালি: যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র
বর্তমান সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত এই সমুদ্রপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
ইরান তার ভৌগোলিক অবস্থানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত শক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা প্রণালিতে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে। কিন্তু এই লক্ষ্যকে কেন্দ্র করেই সামরিক সংঘাত ও পাল্টা অবরোধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
আগস্টের শেষ সপ্তাহ এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম দিনগুলোতে হরমুজকে কেন্দ্র করে নতুন সামরিক উত্তেজনা দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালায় এবং ইরান পাল্টা আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করে। এই পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। ৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। বাজারের প্রধান উদ্বেগ হলো—হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত আরও বাড়লে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।
বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেলে খাদ্য, শিল্পপণ্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়তে পারে।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক মাত্রা
সাম্প্রতিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরাসরি সামরিক হামলার পাশাপাশি ওয়াশিংটন এখন ইরানের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক সম্পর্ক সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তথাকথিত ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা ও আর্থিক লেনদেনে যুক্ত দেশ ও প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়ানোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে ইরানের অর্থনীতি আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং দেশটি উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপের মুখোমুখি। তবে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—অর্থনৈতিক চাপ সব সময় রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ নিশ্চিত করে না। অনেক ক্ষেত্রে বহিরাগত চাপ একটি দেশের অভ্যন্তরীণ জাতীয়তাবাদ ও প্রতিরোধের মনোভাবকে আরও শক্তিশালী করে।
সুতরাং, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কৌশল ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে পারে, কিন্তু সেটি নিশ্চিত নয়। বরং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক যুদ্ধ মানবিক সংকট ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়াতে পারে।
ব্যর্থ কূটনীতি এবং শান্তির সুযোগ
জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারক বা মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যার্ন্ডি’’ -এর মাধ্যমে যুদ্ধ থামানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ চেষ্টা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করা।
কিন্তু এই সমঝোতা স্থায়ী শান্তিতে পরিণত হয়নি। পারস্পরিক অবিশ্বাস, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মতবিরোধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক নিরাপত্তা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে আলোচনা কার্যকরভাবে এগোয়নি। পাকিস্তান, কাতার, ওমানসহ বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করলেও এখনও একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি হয়নি।
এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—এই যুদ্ধ কি সামরিকভাবে শেষ করা সম্ভব? সম্ভবত নয়। যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে শক্তিশালী হলেও ইরানের মতো বৃহৎ, জনবহুল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রকে শুধু বিমান হামলা ও অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। অপরদিকে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে পরাজিত করতে পারবে না। অর্থাৎ উভয় পক্ষের সামরিক সক্ষমতা রয়েছে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার, কিন্তু কোনও পক্ষেরই সহজে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের বাস্তব সম্ভাবনা নেই।
মানবিক মূল্য: যুদ্ধের সবচেয়ে করুণ বাস্তবতা
যুদ্ধের আলোচনায় প্রায়ই সামরিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান প্রতিরক্ষা এবং তেলের বাজার গুরুত্ব পায়। কিন্তু যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দেয় সাধারণ মানুষ। সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হতাহতের খবর আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ইরান এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছে— যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে যে, তাদের লক্ষ্য ছিল সামরিক অবকাঠামো। এ ধরনের ঘটনা যুদ্ধের মানবিক বিপর্যয় এবং ভুল তথ্য বা ভুল লক্ষ্যবস্তুর ভয়াবহতা সামনে নিয়ে আসে।
যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, তত বেশি সাধারণ মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে, অর্থনৈতিক সংকট বাড়বে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম সংঘাতের প্রভাব বহন করবে।
মক্কা চুক্তির প্রভাব ও নতুন আঞ্চলিক বাস্তবতা
এই যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো— মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আঞ্চলিক কূটনৈতিক সমীকরণের সৃষ্টি। বিভিন্ন মুসলিম ও আঞ্চলিক রাষ্ট্র এখন উপলব্ধি করছে যে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়— এটি সমগ্র অঞ্চলের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
এই প্রেক্ষাপটে মক্কা চুক্তি বা মক্কাকেন্দ্রিক আঞ্চলিক সমঝোতার ধারণা নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। এর মূল তাৎপর্য হলো— মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের সমাধানে বাইরের শক্তির সামরিক প্রতিযোগিতার পরিবর্তে আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ, পারস্পরিক নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার কাঠামো গড়ে তোলা।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণেও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আঞ্চলিক জোট ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে প্রচলিত শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
তবে কোনও আঞ্চলিক চুক্তি তখনই কার্যকর হবে, যখন সেটি বাস্তব নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধান করতে পারবে। শুধু রাজনৈতিক ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মতো গভীর সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
শান্তির জন্য কী প্রয়োজন?
এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে কয়েকটি বাস্তব পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, অবিলম্বে সামরিক উত্তেজনা কমাতে হবে। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
দ্বিতীয়ত, সামরিক হামলা ও অর্থনৈতিক অবরোধকে আলোচনার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। অর্থনৈতিক চাপ আলোচনার পথ খুলতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ শান্তির পরিবর্তে নতুন সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে।
তৃতীয়ত, একটি ধাপে ধাপে সমঝোতা প্রয়োজন। প্রথম ধাপে যুদ্ধবিরতি, দ্বিতীয় ধাপে হরমুজে নিরাপদ নৌ চলাচল, তৃতীয় ধাপে বন্দি ও মানবিক বিষয় এবং পরবর্তী পর্যায়ে পারমাণবিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
চতুর্থত, মধ্যস্থতাকারী দেশের সংখ্যা সীমিত করে একটি কার্যকর শান্তি কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। পাকিস্তান, কাতার, ওমান এবং অন্যান্য গ্রহণযোগ্য আঞ্চলিক রাষ্ট্রের সমন্বয়ে একটি স্থায়ী মধ্যস্থতা কাঠামো তৈরি হতে পারে।
পঞ্চমত, মক্কাকেন্দ্রিক আঞ্চলিক সমঝোতার ইতিবাচক ধারণাকে কাজে লাগাতে হবে। মুসলিম বিশ্বের প্রধান রাষ্ট্রগুলোর যৌথ রাজনৈতিক উদ্যোগ সংঘাতের পক্ষগুলোর ওপর শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
পরিশেষে
সাত মাসের যুদ্ধ একটি কঠিন সত্য স্পষ্ট করেছে— সামরিক শক্তি দিয়ে শত্রুর অবকাঠামো ধ্বংস করা সম্ভব, কিন্তু রাজনৈতিক সমস্যা ধ্বংস করা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। ইরানও প্রমাণ করেছে যে, অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপে থেকেও সে দীর্ঘ সময় প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে সক্ষম। ফলে যুদ্ধটি এখন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে সামরিকভাবে কেউ পুরোপুরি জিতছে না, কিন্তু সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক নতুন হামলা ও পাল্টা হামলা দেখাচ্ছে যে, সাময়িক যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন একটি বিশ্বাসযোগ্য, আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত এবং আঞ্চলিকভাবে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমঝোতা।
আজ সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন কে জিতবে নয়, বরং কত দ্রুত এই যুদ্ধকে এমন একটি রাজনৈতিক পথে নেওয়া যাবে— যেখানে যুক্তরাষ্ট্র তার নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলা করতে পারবে, ইরান তার সার্বভৌমত্বের নিশ্চয়তা পাবে এবং হরমুজ প্রণালি আবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপদ পথ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
শান্তির পথ অবশ্যই কঠিন। কিন্তু সাত মাসের যুদ্ধের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো— এই সংঘাতের কোনও টেকসই সামরিক সমাধান নেই। আলোচনার টেবিলই শেষ পর্যন্ত একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ।
লেখক: হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ