সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক পরিবার বাড়ি ফিরে যাওয়ায় আল-ফারুক, আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র এরই মধ্যে ফাঁকা হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু আশ্রয়কেন্দ্রে নারীদের উপস্থিতি থাকলেও পুরুষের উপস্থিতি একেবারেই কম। উপস্থিত নারীরা জানালেন, কাজের খোঁজেই পুরুষরা বেরিয়ে গেছেন। সন্ধ্যার আগে তারা আশ্রয়কেন্দ্রে ফিরবেন না।
এদিকে, বান্দরবানের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নানামুখী সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে আশ্রয় নেওয়াদের। থাকার জায়গার যেমন সংকট রয়েছে, তেমনি রান্নার জন্যও সুবন্দোবস্ত নেই এসব আশ্রয়কেন্দ্রে। বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা রাজিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার বাড়ি একদম মাটির নিচে ঢুকে গেছে। তাই এখানে থাকছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের বাড়ি যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে এখানে থাকার কষ্ট আছে, রান্নার কষ্ট আছে। তাই অনেকেই ঝুঁকি নিয়েও চলে গেছে বাড়িতে।’
আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা আনোয়ারা বলেন, ‘এখানে রান্নার জন্য কোনও চুলা নাই। কাপড় রাখার কোনও জায়গা নাই। অনেকজনকে একসঙ্গে থাকতে হয়। এতে কাপড় হারিয়ে যায়, অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়।’
বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সম্প্রতি পাহাড় ধসে বান্দরবানে কয়েকজন মারা গেছেন, আহত হয়েছেন অনেকে। এর আগে ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে বান্দরবানের লামা, আলিকদমসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মোরার আঘাতের পর টানা বৃষ্টি মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে। তবে আমাদের প্রস্তুতি ছিল। সে কারণেই আমাদের ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে। আমরা সবগুলো আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দিয়েছি। আমাদের ১২টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২২শ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘পাহাড়ে বসবাসকারীরা সেভাবে প্রস্তুতি নিয়েই বসবাস করেন। তবে কিছু মানুষ অন্য জায়গা থেকে এসে অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি তৈরি করে থাকছেন। এটা একটা সমস্যা। আমরা পাহাড়গুলোর অবকাঠামো সংস্কার করে আশ্রয়ণ প্রকল্প করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আশা করছি, এ বর্ষায় যারা ঝুঁকিতে আছে তাদেরও আমরা নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে পারব।’
আরও পড়ুন-
বস্তা থেকে উদ্ধার হলেন ইউপি সদস্য!
রাঙামাটির আশ্রয়কেন্দ্রে বিশুদ্ধ পানি ও শিশুখাদ্যের সংকট
নীলফামারী-ঢাকা আন্তঃনগর ট্রেনে ছাপানো টিকিট না থাকায় যাত্রীরা বিড়ম্বনায়
আবারও বৃষ্টি: বান্দরবানের পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে
/টিআর/