কক্সবাজারের রামুর পেঁচারদ্বীপে এক অস্ট্রেলিয়ান নারীকে ধর্ষণচেষ্টার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর আলোচনায় এসেছে ঘটনাস্থল ‘গুড ভাইব কটেজ’। পর্যটক সেবার নামে সেখানে অবৈধভাবে মাদক সরবরাহ থেকে শুরু করে দেহ ব্যবসাও চালিয়ে আসার অভিযোগ রয়েছে কটেজের মালিক শামিমুল হক স্যামের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা এসব বিষয়ে আলোচনা করলেও আগে কেউ সাহস করে মুখ খোলেননি। তবে অস্ট্রেলিয়ান পর্যটকের ওই ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্যামকে আটক করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান পর্যটককে ধর্ষণের চেষ্টায় তিন জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও পাঁচ-ছয় জনকে আসামি করে পুলিশ মামলা করেছে। পর্যটন শিল্পের স্বার্থ বিবেচনা করে পুলিশ এ বিষয়ে ‘হার্ডলাইনে’ রয়েছে বলে জানান কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোছাইন।
রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল খায়ের জানান, ‘অস্ট্রেলিয়ান পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় রামু থানার পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এ ঘটনায় আটক কটেজের দুই কর্মচারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কটেজের মালিক শামিমুল হক স্যামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।’ কটেজের দুই কর্মচারীকে বুধবার সকালে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কক্সবাজার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোছাইন বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ান পর্যটকের সঙ্গে এই ঘটনা নিয়ে আমরা হার্ডলাইনে। একদিকে বিদেশি তরুণী, অন্যদিকে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প। সব মিলিয়ে পুলিশ গুরুত্ব সহকারে দেখছে বিষয়টি। কারণ, জেলা পুলিশ থেকে শুরু করে জেলার সব প্রশাসন কক্সবাজারের পর্যটক সেবায় কাজ করছে। সেখানে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক।’
এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মারমেইড বিচ রিসোর্টের মালিক আনিসুল হক সোহাগের আপন ভাই শামিমুল হক স্যাম যৌথ সংসারে বসবাস করে আসছেন। বছর দেড়েক আগে বড় ভাই আনিসুল হক সোহাগের অনুমতিতেই মারমেইডের পাশে স্যাম গড়ে তোলেন গুড ভাইব কটেজ। কিন্তু কটেজটি গড়ে তোলার পর থেকে রাতদিন সেখানে চলে আসছে অসামাজিক কার্যকলাপ। পর্যটক সেবার নামে অবৈধ মাদক থেকে শুরু করে দেহ ব্যবসাও চালিয়ে আসছিল কটেজের মালিক শামিমুল হক স্যাম। সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ান পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টার সময় সে কটেজেই অবস্থান করছিল। কিন্তু ঘটনার পর দুই কর্মচারীকে সামনে ঠেলে দিয়ে সে গাঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে এ বিষয়ে কটেজের কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি।
উল্লেখ্য, গত রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) রাতে গুড ভাইব কটেজে অস্ট্রেলিয়ান এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। তখন ওই নারী ৯৯৯ কল করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। ওই রাতেই কটেজ থেকে দুই কর্মচারী পেঁচারদ্বীপ এলাকার কলিম উল্লাহর ছেলে আনছার উল্লাহ (২৪) ও আবদুল মুনাফের ছেলে আব্দুল গফুরকে (২০) গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বেলাল উদ্দিন (২৫) নামে একজন পলাতক রয়েছে।
আরও পড়ুন- কক্সবাজারে অস্ট্রেলিয়ান পর্যটককে ধর্ষণের চেষ্টা, আটক ২