ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যা: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সাক্ষ্য গ্রহণ

মামলার দুই হাজতি আসামি গোলাম রব্বানী ও হাসান ফিরোজকুড়িগ্রামে জেএমবি সদস্যদের হাতে নিহত ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যা মামলায় মরদেহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল মান্নানের আদালতে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক দলের সদস্য ডা. নজরুল ইসলামের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। কুড়িগ্রাম পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্রাহাম লিংকন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পিপি জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় দুই হাজতি আসামিসহ চার আসামিকে হাজির করা হয়। আসামিদের উপস্থিতিতে তাদের আইনজীবী ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক দলের সদস্য ডা. নজরুল ইসলামকে জেরা করেন। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৮ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ মামলায় আসামি পক্ষে জেরা করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ও অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান।

এর আগে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মামলার দুই হাজতি আসামি গোলাম রব্বানী ও হাসান ফিরোজকে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগার থেকে আদালতে নেওয়া হয়। এছাড়াও জামিনে মুক্ত দুই আসামি মাহাবুব হাসান মিলন ও আবু নাসির রুবেল আদালতে হাজিরা দেন।

জামিনে মুক্ত দুই আসামি মাহাবুব হাসান মিলন ও আবু নাসির রুবেল প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২২ মার্চ কুড়িগ্রাম শহরের গাড়িয়াল পাড়া এলাকায় সকালে নিজ বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ধর্মান্তরিত খ্রিস্টান মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলীকে। এসময় হত্যাকারীরা ককটেল ফাটিয়ে মোটরসাইকেল করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রাহুল আমিন আজাদ বাদী হয়ে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার ১০ আসামির মধ্যে চার জেএমবি সদস্য গোলাম রব্বানী, আবু নাসির রুবেল, মাহবুব হাসান মিলন এবং হাসান ফিরোজকে গ্রেফতার করে কুড়িগ্রাম পুলিশ।

জাহাঙ্গীর ওরফে রাজীব গান্ধী নামে আরও এক আসামি ঢাকায় হলি আর্টিজানে হামলার মামলায় গ্রেফতার রয়েছে। এদের মধ্যে দুই আসামি মাহাবুব হাসান মিলন ও আবু নাসির রুবেল আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন। এছাড়া অন্য তিন আসামি ইতোপূর্বে হোলি আর্টিজানে খায়রুল ইসলাম বাঁধন, শোলাকিয়ার ঘটনার আসামি হিসেবে নান্দাইলে আবু মোকাদিল ওরফে ডন এবং রাজশাহীতে নজরুল ইসলাম ওরফে আবুল বাশীর ওরফে বাইক হাসান পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। বাকি দুই আসামি রিয়াজুল ইসলাম ওরফে মেহেদী এবং সাদ্দাম হোসেন ওরফে চঞ্চল ওরফে রাহুল এখনও পলাতক রয়েছে। হত্যা মামলা ছাড়াও এ ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে আরও একটি মামলা হয়েছে যা বিচারাধীন রয়েছে।

 

আরও পড়ুন:

ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হত্যার এক বছর: দ্রুত বিচার চায় পরিবার

ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার চার্জশিট প্রদান

ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি জঙ্গি রাজীব

ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যা: জেএমবি সদস্যের জবানবন্দি