নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ-অগ্নিসংযোগ

নড়াইল সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়নের বিলডুমুরতলা এলাকায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন মোল্লার বাড়িতে পেট্রোল বোমা মেরে প্রতিপক্ষ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নির্বাচন নিয়ে বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ড. এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ এবং কলস প্রতীকের বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলামের পরাজয়ের পর থেকেই তাদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। তারই জের ধরে সোমবার সন্ধ্যার দিকে বাগডাঙ্গা বাজারে হবখালী ইউনিয়ন বিএনপি সাবেক সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম টিংকু এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সৈয়দ আতিয়ার রহমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে আশরাফুল শেখ নামে টিংকু গ্রুপের এক যুবক আহত হন।

ওই ঘটনার পর রাত পৌনে ৮টার দিকে দ্বিতীয়বার প্রতিপক্ষের ওপর হামলার ঘটনায় ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আতিয়ার রহমানসহ তার পক্ষের আরও পাঁচ জন আহত হন। তাদের মধ্যে শওকত আলম, খিজির হোসেন ও মাহিন আলীকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরে রাত ১টার দিকে হবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন মোল্লার বাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। হুমায়ুনের অভিযোগ, নির্বাচনে কলস প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ধানের শীষের সমর্থকরাই তার ঘরে আগুন দিয়েছেন। আগুনে ধান, রবি শস্যসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে, ঘরে কোনও লোক ছিলেন না।

তবে, এ অভিযোগ অস্বীকার করে ধানের শীষের সমর্থক হবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম টিংকু বলেন, ‘বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কলস প্রতীকের সমর্থকরা ষড়যন্ত্র করে আগুন দিয়ে আমাদের লোকজনের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’

এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ওসি ওলি মিয়া বলেন, ‘আগুনের বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’