রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মায় বাস ট্র্যাজেডির ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন আবুল কালাম নামে এক বাসযাত্রী। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকালে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পানিতে পড়ার দুই মিনিট আগে তিনি বাসটি থেকে নেমে পড়েছিলেন। ওদিকে, বাসে থাকা ব্যাগে তার মূল্যবান জিনিসপত্র ছিল। পরে সেই ব্যাগ ফেরত পেয়েছেন তিনি, কিন্তু প্রাণ হারানো যাত্রীদের জন্য করছেন আক্ষেপ।
আবুল কালাম দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সৈদাল পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
জানা যায়, ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে ঢাকার বাড্ডা এলাকায় ফিরছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা আবুল কালাম। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে তিনি সৌহার্দ্য পরিবহন নামে ওই বাসে উঠেছিলেন। তখন ঘাটে বাসটি ফেরিতে ওঠার অপেক্ষা করছিল। কালাম বাসে উঠে ১০-১৫ মিনিট বসেছিলেন। সিট না পেয়ে ইঞ্জিন কাভারের উপর বসে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ইঞ্জিন গরম হয়ে যাওয়ায় বসতে অসুবিধা হচ্ছিল। এ জন্য তিনি দুর্ঘটনার দুই মিনিট আগে বাস থেকে নেমে নিচে দাঁড়ান। এরপর হঠাৎ তিনি দেখতে পান, বাসটি সরাসরি পন্টুনের উপর দিয়ে নদীতে পড়ে যাচ্ছে।
আবুল কালাম বলেন, ‘আমার সামনেই বাসটি ধীরে ধীরে নদীতে তলিয়ে যায়। তখন আমি কী করবো বুঝতে পারছিলাম না। অনেকটা হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। বাসের মধ্যে ব্যাগে আমার শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদপত্র, এনআইডি, কোরিয়া যাওয়ার প্রস্তুতির কাগজপত্র এবং নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা ছিল।’
তিনি বলেন, ‘যদি দুই মিনিট আগে বাস থেকে না নামতাম, তাহলে হয়তো আমার লাশ আজ নদীতে থাকতো বা পরিবার পেতো।’
বাসটি উদ্ধারের কালাম তার ব্যাগ ফিরে পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যাত্রীসহ যখন বাসটি ডুবে গেলো, আমি ভাবতেও পারিনি ব্যাগ ফেরত পাবো। তারপরও আশা করেছিলাম, হয়তো পাবো।’
জানা গেছে, বিকাল ৫টার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে আসে। সে সময় ঘাটে থাকা একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অল্পের জন্য তাতে উঠতে না পারায় অপর ফেরির জন্য বাসটি অপেক্ষা করছিল। সোয়া ৫টার দিকে ওই ঘাটে হাসনা হেনা নামে একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে সজোরে পন্টুনে আঘাত করে। ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।