বরিশালে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী গণটিকাদান কর্মসূচির তৃতীয় দিনে মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) টিকাকেন্দ্রে প্রচুর ভিড় দেখা গেছে। প্রথম দুই দিন গণমাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম দেখে এবং কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় উদ্বুদ্ধ হয়ে টিকা নিতে এসেছেন অনেকেই।
আর টিকাদান কার্যক্রমের শর্ত শিথিল করায় সম্মুখ যোদ্ধা ছাড়াও ৪০ বছরের বেশি বয়সী সাধারণ জনগণ টিকা নিতে ভিড় করছেন। অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াও স্পট রেজিস্ট্রেশন করে তাৎক্ষণিক টিকা পাওয়ার ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব।
এ পর্যন্ত বিভাগের ছয় জেলায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষ অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বিভাগীয় সহকারী স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল।
গত রবিবার প্রথম দিনে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪৩ কেন্দ্রে কোভিশিল্ড টিকা নিয়েছেন ১ হাজার ৪শ’ ১২জন। সোমবার দ্বিতীয় দিন টিকা নিয়েছেন ১ হাজার ৫শ’ ৪৪ জন। গত দুই দিনের টিকা প্রদান কার্যক্রমের চিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখে এবং কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার খবর না পেয়ে আজ তৃতীয় দিনে প্রতিটি কেন্দ্রে ভিড় করেছেন অনেক আগ্রহী। আজ টিকাগ্রহণকারীর সংখ্যা ৪ হাজার ১৮১ জন, যা গত দুদিনের দ্বিগুণ।
তারা বলছেন, টিকা গ্রহণের সময় তেমন কোনও ব্যথা পাওয়া যায় না। নেই কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও। কোভিড টিকা নিয়ে করোনা থেকে নিজেদের সুরক্ষিত করেছেন তারা।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব জানান, বরিশাল সিটি এলাকাসহ বিভাগের ৬ জেলায় টিকা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৫৪০টি টিম রয়েছে। অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াও সাধারণ জনগণের জন্য স্পট রেজিস্ট্রেশন করে তাৎক্ষণিক টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের ১৮ বছর ঊর্ধ্ব সদস্য ছাড়াও ৪০ বছর ঊর্ধ্ব যে কোনও সাধারণ নাগরিক চাইলেই করোনার টিকা নিতে পারবেন।
প্রথম দিন টিকা নেওয়া শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন ও মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. মনিরুজ্জামান শাহিন বলেন, টিকা গ্রহণের সময় তেমন কোনও ব্যথা পাওয়া যায় না। নেই কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও। নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সকলকে কোভিড টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
বরিশাল সিটি এলাকায় ৭টি এবং জেলার ৯ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯টিসহ মোট ১৬টি বুথে দেওয়া হচ্ছে করোনার টিকা।