মোটরসাইকেলযোগে ফার্মেসিতে অক্সিমিটার কিনতে যাচ্ছিলেন করোনা রোগী। পথিমধ্যে তাকে থামান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এরপর অক্সিমিটারের ব্যবস্থা করে তাকে বাসায় পাঠিয়ে দেন।
শুক্রবার (২ জুলাই) বেলা সোয়া ১১টার দিকে বরিশালের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই করোনা রোগীর নাম মেহেদী হাসান। তিনি একটি ব্যাংকে চাকরি করেন এবং নগরীর কাশীপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তার পরিবারের লোকজন থাকেন গৌরনদী টরকী বন্দর এলাকায়।
মেহেদী হাসান বলেন, ‘কিছুদিন ধরে আমি অসুস্থ। এরপর নমুনা পরীক্ষা করা হলে গতকাল বৃহস্পতিবার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ঘরে বসেই চিকিৎসা নিচ্ছি। তবে শুক্রবার সকাল থেকে শ্বাস-প্রশ্বাসে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। পরিবারের লোকজনও ছিল না। ভাড়া বাসায় একা থাকায় কিছুটা অস্বস্তি লাগছিল। এরপর অক্সিজেনের লেভেল দেখার জন্য অক্সিমিটার প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাসার কাছাকাছি কোনও ফার্মেসিতে অক্সিমিটার না পাওয়ায় মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা অতিক্রমকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মুশফিকুর রহমান গতিরোধ করেন। কী কারণে বের হয়েছি জানতে চাইলে জানাই, আমি করোনা পজিটিভ, অক্সিমিটার আনতে যাচ্ছি। সঙ্গে সঙ্গে নথুল্লাবাদ এলাকায় দাঁড় করিয়ে লোক পাঠিয়ে অক্সিমিটার আনার ব্যবস্থা করে দেন ম্যাজিস্ট্রেট। অক্সিমিটার পাওয়ার পর আমি বাসায় চলে আসি। ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তিনি যে উপকার করেছেন, তা আমার জন্য অনেক কিছু।’
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুশফিকুর রহমান বলেন, করোনা পজিটিভ শোনার সঙ্গে সঙ্গে তার কী প্রয়োজন জেনে, তা এনে দেওয়ার ব্যবস্থা করে বাসায় পাঠিয়েছি। তার আরও কিছু দরকার হলে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার সকাল থেকে নগরীর রূপাতলী হয়ে নথুল্লাবাদ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কেউ অপ্রয়োজনে রাস্তায় বের হলে কাউন্সেলিং করে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পাঁচ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। আর পুলিশ দুপুর ১২টা পর্যন্ত নথুল্লাবাদ পয়েন্টে চারটি ও রূপাতলী পয়েন্টে দুটি মামলা করেছে।