২৫ বছরেও সংস্কার হয়নি যে ব্রিজ

সংস্কারের অভাবে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার সরকারি গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন খালের উপরের বেইলি ব্রিজটি এখন স্থানীয়দের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরাজীর্ণ ব্রিজটি দিয়ে যানবাহন এবং গ্রামবাসীদের চলাচল অসম্ভব হয়ে উঠছে। কারণ ব্রিজটিতে হরহামেশাই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। বিশেষ করে দুর্ঘটনায় শরীরে বিভিন্ন স্থানে জখম হলে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে ব্রিজটি সংস্কারের জন্য এলাকাবাসী ইউএনও’র কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা উজ্জল হোসেন বলেন, স্থানীয় বয়স্কদের কাছে জেনেছি ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে বরিশাল সড়ক ও জনপথ দফতর থেকে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের পর একদিনের জন্য ব্রিজটি সংস্কার করা হয়নি। বিভিন্ন মাধ্যমে সংস্কারে আবেদন জানানো হলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি। এ কারণে মরিচায় ব্রিজটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

উজ্জল আরও বলেন, মরিচার কারণে ব্রিজটিতে ছোট-বড় গর্তে চলাচলরতদের পা আটকে পরে এবং যানবাহনের চাকা আটকে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্রিজের ওপর দুর্ঘটনায় আহতরা। মরিচার কারণে ক্ষতস্থানে ইনফেকশন হয়ে যাচ্ছে। এরপর চিকিৎসার জন্য তাদের খরচ অনেক বেড়ে যায়। এছাড়া ব্রিজটির বিভিন্ন জয়েন্টের নাটগুলো ঢিলে হয়ে গেছে। ব্রিজের ওপরে উঠলে দুলতে থাকে পুরো ব্রিজ। এতে যেকোনও সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বর্তমানে ব্রিজটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, করোনার আগে ব্রিজটি দিয়ে সরকারি গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গৈলা আদর্শ শিশু নিকেতন, গৈলা শিশু শিক্ষা বিদ্যালয়, গৈলা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা চলাচল করতো। এছাড়া প্রতিনিয়ত গৈলা বাজারের ব্যবসায়ী-পথচারীসহ যানবাহন চলাচল করছে। বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না থাকায় জরাজীর্ণ ব্রিজের উপর দিয়েই তাদের চলাচল করতে হয়। 

ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী করতে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও আবুল হাশেম জানান, সেতুটি সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব ব্রিজটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার আশ্বাস দেন তিনি।

এ বিষয়ে বরিশাল সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী অরুন কুমার বিশ্বাস বলেন, ব্রীজটি আমাদের দপ্তরের হলেও সড়কটি আমাদের নয়। এই ব্রিজটি আমাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে মানবিক কারণে সেতুটি অপসারণ করা হয়নি। এরপর সেতুটি সংস্কারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান তিনি।