বরিশালে স্পিকার

আগামীতে কোনও স্বৈরশাসক প্রভাব বিস্তার করতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘সংসদ থেকে ওয়াকআউট করা বিরোধী দলের অধিকার। আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম তখন আমরাও অনেক ওয়াকআউট করেছি। এটি একটি রাজনৈতিক চর্চা। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সংসদ বয়কট করলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জনগণ আবার তাদের অধিকার হারিয়ে ফেলবে।’

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউজে চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। 

সম্মিলিত ঐক্যের মাধ্যমে দেশ ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার বলেন, ‘অনেক দিন পর আমরা গণতন্ত্রে পদার্পণ করেছি। আমাদের জীবন থেকে মূল্যবান ১৭টি বছর কেড়ে নেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্র চর্চা ব্যাহত হয়েছে। গণতন্ত্র না থাকায় হত্যা, লুট, রাষ্ট্রীয় সম্পদ পাচার হয়ে বিদেশে চলে গেছে। জাতীয় জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময় ছিল বিগত ১৭ বছর। যেখানে নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। মানুষের কোনও অধিকার ছিল না। মানবাধিকার বিদায় নিয়েছে। অবশেষে ছাত্র, তাদের অভিভাবক, সাধারণ মানুষের আত্মদানের ফলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আশা করবো, গণতন্ত্র আর কোনোদিন হারিয়ে যাবে না। কোনও দল গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠানোর চেষ্টা করবে না। আগামী দিনে কোনও স্বৈরশাসক বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তার করবে বা করতে পারবে বলে কোনও সম্ভাবনা আমি দেখতে পাচ্ছি না। কারণ বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রের প্রতি সচেতন এবং গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী।’

বিরোধী দল ও সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘বিরোধী দলের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে তারা যেন কারণে-অকারণে ওয়াকআউট না করে। আর সরকারি দলের প্রতি আহ্বান, তারা যেন বিরোধী দলকে একোমোডেট করার চেষ্টা করে। বিরোধী দলকে তাদের কাজ করার জায়গা যাতে দেয়। বিশেষ করে যেসব দল স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে একত্রে রাজপথে আন্দোলন করেছে তারা যেন নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখে। তা না হলে বিদেশে যারা পালিয়ে আছে, তারা আবার ফিরে এসে দেশে দুঃশাসন কায়েম করবে। কাজেই নিজ দলের ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জনগণের অধিকার যাতে হনন না হয়, সে ব্যাপারে সরকারি ও বিরোধী দল উভয়ে যত্নবান থাকবে বলে আশা প্রকাশ করছি।’ 

এর আগে বেলা ১১টার দিকে ভোলা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্পিকার। সেখানে তিনি জানান, ভোলায় এলেই তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। লালমোহন থানায় তার জন্ম এবং তার পিতা এখান থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ভোলার মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘ ৪০ বছরের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এবার স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি গণতন্ত্রের বিজয় দেখছেন।