ফেনীতে পিস স্কুলের সাইনবোর্ড উধাও!

সাইনবোর্ড শূন্য পিস স্কুল ভবনফেনীতে হঠাৎ করেই পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাইনবোর্ড ও  বিলবোর্ডগুলো উধাও হয়ে গেছে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত স্কুলের নিজ জায়গায় সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ডগুলো দেখা গেলেও বৃহস্পতিবার সকালে আর সেগুলোর দেখা পাননি শহরবাসী। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।

একটি সূত্রে জানা গেছে,ফেনী পিস স্কুলের নাম পরিবর্তন করে প্রেসিডেন্সি স্কুল অ্যান্ড কলেজ করা হবে। শুক্রবারের মধ্যে স্কুল প্রাঙ্গণে লাগানো হবে নতুন সাইনবোর্ড।

সূত্রে আরও জানা গেছে,বছর কয়েক আগে শহরের জামায়াত শিবিরের এলাকা নামে পরিচিত শান্তি কোম্পানী সড়কে একটি দোতলা ভবনে পিস স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরু থেকে তারা স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলের সন্তানদের শিক্ষার্থী হিসেবে টার্গেট করে। এতে ব্যাপক সাড়াও  পায়। পরে ফেনী পুলিশের  ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা,জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তাসহ আওয়ামী লীগের অনেক স্থানীয় নেতার সন্তানেরা এ স্কুলটিতে ভর্তি হয়। একই সঙ্গে তারা জেলার প্রায় সব জায়গায় পোস্টার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড স্থাপন করে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপক মহড়া চালায়।

বৃহস্পতিবার পিস স্কুল এলাকায় সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে স্থানীয় কয়েকজন দোকানি জানান, এই স্কুলে প্রায় প্রতিদিনই কিছু অচেনা লোকজনকে দেখা যেত। তাদের সঙ্গে দেখা যায় জামায়াতের কিছু নেতাকে। স্কুলের মূল গেট সবসময় বন্ধ রাখা ছিল। পেছনের একটি গেট দিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ অচেনা লোকেজন চলাফেরা করতো।

মতুর্জা নামে স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধা বলেন, জাকির নায়েক পরিচালিত টেলিভিশন চ্যানেল পিস টিভির নামানুসারে স্কুলটি স্থাপিত হলেও এর গোটা নিয়ন্ত্রণই ছিল জামায়াত নেতাদের। স্কুলে কী পড়াশুনা করানো হতো তা নিয়ে শুরু থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ ছিল। তবে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের সন্তানেরা স্কুলটির শিক্ষার্থী হওয়ায় স্থানীয়রা এ নিয়ে কথা বলার সাহস পেত না।

এদিকে বৃহস্পতিবার পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ নোটিশ বোর্ডে টাঙানো হয় একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি। এতে প্রতিষ্ঠানটির  সভাপতি মো. হানিফ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ম্যানেজিং কমিটির এক বিশেষ সভায় সবার সম্মতিতে সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ফেনী বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনা অনুসারে স্কুলের সব ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের ঠিক রেখে শুধু নাম পরিবর্তনের এমন সিদ্ধান্তকে ফেনীর মানুষ  প্রতারণা হিসেবে দেখছেন।

স্কুলটির অধ্যক্ষ  মো. হানিফ স্কুলের নতুন নামকরণ নিয়ে কোনও কথা বলতে রাজি হননি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী স্কুলটির সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন- 

গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গিদের সেই হামলার প্রথম দিকের ভিডিও

যে কারণে অলস পড়ে আছে ৬শ’ কোটি টাকা
সাবেক জঙ্গি বললো, বাংলাদেশে এজেন্ট পাঠিয়েছে আইএস

/এআর/এফএস/