বন্দর নগরীর বাসিন্দাদের জন্য রবিবার (৩১ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে আসছে ৪ লাখ ৫৬ হাজার করোনা ভ্যাকসিন। কোল্ড চেইন বজায় রেখে ৩৮ কার্টনে করে এসব ভ্যাকসিন চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।
বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ভ্যাকসিনগুলো এনে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই স্টোরে রাখা হবে। পরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নগরী ও জেলার তালিকাভুক্তদের মাঝে এই টিকা প্রদান করা হবে। চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে এবং উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও’র তত্ত্বাবধানে টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। টিকা গ্রহণকারীদের রেজিস্ট্রেশনের ওপর ভিত্তি করে ইপিআই স্টোর থেকে মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে টিকা সরবরাহ করা হবে।
প্রাথমিকভাবে নগরীর ১৫ টি টিকাদান কেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে চসিক করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কমিটি। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নগরীর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম সেনানিবাস হাসপাতাল, চট্টগ্রাম পুলিশ হাসপাতাল, সিটি করপোরেশন জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম নৌ-বাহিনী হাসপাতাল, চট্টগ্রাম বিমান বাহিনী হাসপাতাল, চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতাল, চসিক বন্দরটিলা হাসপাতাল, চসিক মোস্তফা হাকিম মাতৃসদন হাসপাতাল, চসিক ছাপা মোতালেব মাতৃসদন হাসপাতাল, ইউএসটিসি হাসপাতাল, সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে।
অন্যদিকে, উপজেলা পর্যায়ে ১৪ টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার টিকা দেওয়া হবে। সেখানে ২টি করে টিম টিকাদান কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকবে।
ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে পারে। এজন্য আজ ৩০ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে টিকাদানে নিয়োজিতদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে উপজেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, ইপিআই কর্মসূচির মতো করেই করোনার টিকা প্রদান কর্মসূচি পরিচালিত হবে। করোনার টিকাদানে নিয়োজিত থাকবে মোট ৪২ টি টিম। টিকাদানকারী হিসেবে ২ জন মিড ওয়াইফ, স্টাফ নার্স বা সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং ৪ জন স্বেচ্ছাসেবকের সমন্বয়ে প্রতিটি টিমে ৬ জন করে সদস্য থাকবেন।
প্রসঙ্গত, টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। টিকা প্রদানে কোথাও কোনও সমস্যা হলে তা দেখভাল করবে বিভাগীয় কমিটি। যার নেতৃত্বে থাকবেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার। এছাড়া চসিক প্রশাসকের নেতৃত্বে সিটি করপোরেশনের কমিটি, জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা পর্যায়ের কমিটি এবং ইউএনওর নেতৃত্বে উপজেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটি কাজ করবে।