চট্টগ্রামে প্রথম টিকা নেবেন শিক্ষা উপমন্ত্রী

সারা দেশের সঙ্গে একযোগে রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামে শুরু হচ্ছে করোনা টিকাদান কর্মসূচি। এদিন সকাল ১০টায় টিকা নেওয়ার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে খোলা বুথে তিনি এই করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, রবিবার সকাল ১০টায় শিক্ষা উপমন্ত্রী করোনা টিকা গ্রহণের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এই উপলক্ষে আমরা যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। করোনা ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য হাসপাতালে চারটি বুথ খোলা হয়েছে। রবিবার এসব বুথে একযোগে করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলার পাশাপাশি মহানগরে টিকাদানে ১৫টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুরুতে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এ টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা জানিয়েছেন, রবিবার চমেক হাসপাতালের চার তলায় (আইসিইউর পাশে) চারটি বুথে করোনার টিকা দেওয়া হবে। সকাল ১০টায় উদ্বোধনের পর পর্যায়ক্রমে অন্তত একশ’ জনকে প্রথম দিন টিকা দেওয়ার টার্গেট রয়েছে হাসপাতাল প্রশাসনের।

চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীসহ অগ্রাধিকার তালিকাভুক্তদের মধ্য থেকে রেজিস্ট্রেশনধারীদের এ টিকা দেওয়া হবে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, টিকাদানে এরইমধ্যে ১০টি টিম গঠন করা হয়েছে। চারটি বুথে এই টিকা দেওয়া হবে। টিকা গ্রহণকারীকে আধ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। কোনও জটিলতা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তা দেখার জন্যও মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত থাকবে। এর জন্য ‘অ্যাডভার্জ ইফেক্ট ইমুনাইজেশন’ নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি কাজ করবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত চমেক হাসপাতলে করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য ২০০টির মতো আবেদন পড়েছে। রবিবার আমরা ১০০ জনকে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। আবেদনকারী বেশি উপস্থিত থাকলেও সমস্যা হবে না। উপস্থিত সবাইকে ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে।

বন্দর নগরীর বাসিন্দাদের জন্য গত রবিবার (৩১ জানুয়ারি) চার লাখ ৫৬ হাজার করোনা ভ্যাকসিন ডোজ চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়েছে। ওইদিন কোল্ড চেইন বজায় রেখে ৩৮ কার্টনে করে এসব ভ্যাকসিন চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয় বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ভ্যাকসিনগুলো এনে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই স্টোরে রাখা হয়। এরপর সেখান থেকে মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে টিকা সরবরাহ করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশনের ওপর ভিত্তি করে টিকা গ্রহণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের এসব টিকা প্রদান করা হবে। মহানগর এলাকায় সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে এবং উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওর তত্ত্বাবধানে টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

প্রাথমিকভাবে নগরীর ১৫টি টিকাদান কেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে চসিক করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কমিটি। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নগরীর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম সেনানিবাস হাসপাতাল, চট্টগ্রাম পুলিশ হাসপাতাল, সিটি কর্পোরেশন জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম নৌ-বাহিনী হাসপাতাল, চট্টগ্রাম বিমান বাহিনী হাসপাতাল, চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতাল, চসিক বন্দরটিলা হাসপাতাল, চসিক মোস্তফা হাকিম মাতৃসদন হাসপাতাল, চসিক ছাপা মোতালেব মাতৃসদন হাসপাতাল, ইউএসটিসি হাসপাতাল, সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মা ও শিশু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং মেরিন সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে।

অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ে ১৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার টিকা দেওয়া হবে। সেখানে দুটি করে টিম টিকাদান কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকবে।

ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, ইপিআই কর্মসূচির মতো করেই করোনার টিকা প্রদান কর্মসূচি পরিচালিত হবে। করোনার টিকাদানে নিয়োজিত থাকবে মোট ৪২টি টিম। টিকাদানকারী হিসেবে দুই জন মিড ওয়াইফ, স্টাফ নার্স বা সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং চার জন স্বেচ্ছাসেবকের সমন্বয়ে প্রতিটি টিমে ছয় জন করে সদস্য থাকবেন।

প্রসঙ্গত, টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। টিকা প্রদানে কোথাও কোনও সমস্যা হলে তা দেখভাল করবে বিভাগীয় কমিটি। যার নেতৃত্বে থাকবেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার। এছাড়া চসিক প্রশাসকের নেতৃত্বে সিটি করপোরেশনের কমিটি, জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা পর্যায়ের কমিটি এবং ইউএনওর নেতৃত্বে উপজেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটি কাজ করবে।