তিন দিনে চট্টগ্রামে করোনা ভ্যাকসিন নিলেন ১১ হাজার ৩৭ জন

রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম শুরুর পর গত তিন দিনে চট্টগ্রামে ১১ হাজার ৩৭ জন ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৬ হাজার ১৩৩ জন চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে ভ্যাকসিন নিয়েছেন। বাকি ৪ হাজার ৯০৪ জন চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন নিয়েছেন। সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি এ তথ্য জানান।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম শুরুর পর এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ৪৯ হাজার ৯৩১ জন করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এদের মধ্যে ১১ হাজার ৩৭ জন করোনা ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম দিন নিয়েছেন এক হাজার ৯০ জন, দ্বিতীয় দিন নিয়েছেন ৩ হাজার ৮৮৮ জন এবং সর্বশেষ আজকে নিয়েছেন ৬ হাজার ৫৯ জন।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার ক্ষেত্রে নগরীর বাসিন্দারা এগিয়ে। চট্টগ্রামে নেওয়া ১১ হাজার ৩৭ জনের মধ্যে ৬ হাজার ১৩৩ জন চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে ভ্যাকসিন নিয়েছেন। বাকিরা চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিয়েছেন।’

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) করোনা ভ্যাকসিন নেওয়া ৬ হাজার ৫৯ জনের মধ্যে ৩ হাজার ৩২ জন নগরীর বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে নিয়েছেন। বাকি ৩ হাজার ২৭ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ভ্যাকসিন নেন। এর মধ্যে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়েছেন ৩৯৯ জন, লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১০ জন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪০ জন, মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  ২৯০ জন, রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৬০ জন, ফটিকছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ জন, বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১০ জন, আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫৩ জন, সীতাকুণ্ড  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০৭ জন, সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২৯ জন, চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪৬ জন, বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮৯ জন, সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯০ জন এবং পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৫৪ জন করোনা ভ্যাকসিন নিয়েছেন।

এর আগে গত রবিবার (৩১ জানুয়ারি) চার লাখ ৫৬ হাজার ডোজ করোনার ভ্যাকসিন চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। বেক্সিমকো ফার্মার একটি গাড়িতে করে ঢাকা থেকে পাঠানো ওই ভ্যাকসিনগুলো ওইদিন সকাল ৭টায় চট্টগ্রামে এসে পৌঁছায়। এরপর ভ্যাকসিনগুলো সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই স্টোরে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ভ্যাকসিন প্রেরণ করা হয়। এরপর গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই টিকাদান কেন্দ্রে টিকাদান শুরু হয়।

সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, প্রাথমিকভাবে নগরীর ১৫টি টিকাদান কেন্দ্রে করোনার ভ্যাকসিন প্রদান করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে ১৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে।

নগরীর ১৫টি টিকাদান কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে—নগরীর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম সেনানিবাস হাসপাতাল, চট্টগ্রাম পুলিশ হাসপাতাল, সিটি করপোরেশন জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম নৌ-বাহিনী হাসপাতাল, চট্টগ্রাম বিমান বাহিনী হাসপাতাল, চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতাল, চসিক বন্দরটিলা হাসপাতাল, চসিক মোস্তফা হাকিম মাতৃসদন হাসপাতাল, চসিক ছাপা মোতালেব মাতৃসদন হাসপাতাল, ইউএসটিসি হাসপাতাল, সাউদার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মা ও শিশু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং মেরিন সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।