ঘরে বসে করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণের ঘটনায় জড়িত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) স্বাস্থ্যকর্মী বিষু দেকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনায় সোমবার (৯ আগস্ট) মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন খুলশী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আফতাব আহমেদ।
বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ঘরে বসে টিকা গ্রহণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই মামলায় চসিকে স্বাস্থ্যকর্মী বিষু দেসহ আরও দুই জনকে আসামি করা হয়। ওই দুই আসামিকে গ্রেফতারে আমরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এখনও তাদের দুই জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তারা দুই জন পলাতক রয়েছেন।
ঘরে বসে করোনার টিকা গ্রহণ, ব্যাংকারসহ আটক ২
এর আগে, গত ৭ আগস্ট নগরীর খুলশী থানার জাকির হোসেন রোডে একটি বাসায় বেআইনিভাবে ভ্যাকসিন নেওয়ার এই ঘটনা ঘটে। পরদিন রবিবার ঘরে বসে টিকা নেওয়ার ছবি ও সহযোগিতাকারীকে ধন্যবাদ দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন মো. হাসান। হাসান ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। অশেষ ধন্যবাদ বন্ধু মো. মোবারক আলীকে কোভিড ভ্যাকসিন প্রদানে সহায়তা করার জন্য। আলহামদুলিল্লাহ মডার্নার প্রথম ডোজ সম্পন্ন।’
তার এই পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হলে হাসান পোস্টটি ডিলিট করে দেন। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে খুলশী থানা পুলিশ তার বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে টিকার ব্যবস্থা করে দেওয়া তার বন্ধু মোবারক আলীকে আটক করে পুলিশ। এরপর সোমবার বিকালে আটক দুই জনসহ এই ঘটনায় জড়িত চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সিটি করপোরেশনের জোনাল কর্মকর্তা তপন কুমার চক্রবর্তী। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে দুই জনকে সোমবার সন্ধ্যায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে ছবি দেখে চসিকের স্বাস্থ্যকর্মী বিষু দেকে শনাক্ত করে সংস্থাটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
খুলশী থানার ওসি মো. শাহীনুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঘরে বসে টিকা গ্রহণের ঘটনায় চসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তপন কুমার চক্রবর্তী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় আটক দুই জনসহ চার জনকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর আমরা আটক দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছি। অপর দুই আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
মামলার চার আসামি হলেন মো. হাসান, মোবারক আলী, সাজ্জাদ ও বিষু দে। এদের মধ্যে বিষু দে চসিকের মোস্তফা হাকিম মাতৃসদন হাসপাতালে ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করছেন। ভাইরাল হওয়া ছবিতে তাকে করোনা টিকা পুশ করতে দেখা গেছে।
মামলার এজহারে সরকারি ভ্যাকসিন আত্মসাৎ করে অবৈধভাবে ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৭৯, ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এজাহারে বলা হয় মোবারক আলী তার পূর্ব পরিচিত বিষুকে বাসায় নিয়ে অবৈধভাবে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য ঠিক করেন। প্রতি ডোজ এক হাজার টাকার বিনিময়ে বিষু নগরীর জাকির হোসেন রোডে মোবারক আলীর বাসায় গিয়ে হাসান ও সাজ্জাদকে ভ্যাকসিন দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তপন কুমার চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘরে বসে টিকা দেওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর মামলাটি দায়ের করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছি। বিষু দে কাট্টলী সার্কেলে কর্মরত ছিলেন। আপনি কাট্টলী সার্কেলের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুমন তালুকদারের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’
এদিকে অভিযুক্ত বিষু দে যেহেতু মোস্তফা হাকিম মাতৃসদন হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। তাই ধারণা করা হচ্ছে, মোস্তফা হাকিম মাতৃসদন থেকেই এই টিকা জাকির হোসেন সড়কের ওই বাসায় নিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করতে পারলে এটি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তার সঙ্গে চসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আর কেউ জড়িত আছে কিনা এটিও বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে জানতে মোস্তফা হাকিম মাতৃসদন হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাট্টলী সার্কেলের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুমন তালুকদারকে একাধিকবার কলা করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। এসএমএস পাঠিয়েও তার কোনও প্রতিক্রিয়া পওয়া যায়নি।