কুমিল্লায় কাঁঠালিয়া নদীতে জেগে ওঠা চর দখল নিয়ে পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে এক নারী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬০ জন।
রবিবার (২৬ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে মেঘনা উপজেলার চর বিনোদপুর এবং তিতাস উপজেলার নন্দীরচর, দুধঘাটা, নতুন বাটেরা, পুরাতন বাটেরা গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে নিহত নারীর নাম কোহিনুর আক্তার (৩৫)। তিনি চরবিনোদপুর গ্রামের কাফিল মিয়ার স্ত্রী। ঘটনাস্থলে টেঁটাবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
একজন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তানভীর রাতে বলেন, বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৮ জনকে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে টেঁটাবিদ্ধদের টেঁটা খোলার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাত ১০টার পরও রোগী আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেঘনা উপজেলার চরবিনোদপুর গ্রামের পাশে কাঁঠালিয়া নদীতে সম্প্রতি চর জেগে ওঠে। চরবিনোদপুর গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, ২০ বছর ধরে ওই সব জমির খাজনা তারা পরিশোধ করেছেন। ফলে এখন তারাই জমির মালিক। কিন্তু রবিবার নন্দীর চরের দুই জন বাসিন্দা কাঁঠালিয়া নদীতে জেগে ওঠা চরের জমি খারিজ করতে যান। এতে আলীপুর ও চরবিনোদপুর গ্রামের লোকজন বাধা দেন।
চরবিনোদপুর গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, এরপর ওই দুই জন গ্রামে ফিরে আশপাশের চার গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে বিনোদপুর গ্রামবাসীর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীরা টেঁটা নিক্ষেপসহ পিটিয়ে গ্রামের কমপক্ষে ৬০ জন বাসিন্দাকে আহত করেন।
চরবিনোদপুর গ্রামের এক কৃষক নাম প্রকাশ না করে বলেন, তারা নিরাপত্তহীনতার মধ্যে আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন।
তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহ আলম এবং দুধঘাটা গ্রামের মাদ্রাসাশিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, চর দখল নিয়ে মূলত মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চরবিনোদপুর গ্রামের এবং তিতাস উপজেলার নতুন বাটেরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে কয়েক মাস ধরে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবারের সংঘর্ষের ঘটনা তিতাসের নতুন বাটেরা এবং মেঘনার চরবিনোদপুর গ্রামবাসীর মধ্যে হয়েছে। সংঘর্ষে মেঘনার আলীপুর গ্রামের লোকজনও যুক্ত হয়েছেন, হতাহত হয়েছেন। নতুন বাটেরা গ্রামের কমপক্ষে পাঁচ জন আহত হয়েছেন বলে শুনেছেন।
মেঘনা থানার ওসি শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নিহত কোহিনুর আক্তার টেঁটাবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। কোহিনুর আক্তারের লাশ সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশ টেঁটাবিদ্ধ। খবর পেয়ে রাতে তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। এ বিষয়ে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।