মাদক সেবনের পর হত্যা, পরে বাবার কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

আটক দুই জনহত্যার দেড় মাস পর মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দশম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল ইসলামের (১৬) ‘নিখোঁজ’ রহস্য উদঘাটন হলো। একসঙ্গে মাদক সেবনের পর আশরাফুলের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ কালীগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। আর তার ব্যবহৃত সুজুকি মোটরসাইকেলটি বিক্রি করা হয়। এরপর বিদেশে থাকা তার বাবা মোহাম্মদ আলীর কাছে ইমোর মাধ্যমে কল করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়।

মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর  বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে ইব্রাহিম হোসেন ও আরিফ হোসেন ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে এসব কথা জানায়। ওই কিলিং মিশনে আরও চার জন অংশ নেয় বলেও তারা জানিয়েছে।

জবানবন্দিতে তারা জানায়, আশরাফুলের বাবা বিদেশে থাকেন। তাই তাদের টার্গেট ছিল অপহরণ করে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় করা। ঘটনার দিন কৌশলে আশরাফুলকে সঙ্গে নিয়ে তার মোটরসাইকেলে করে ইব্রাহিম  উত্তর জামশা গ্রামে যায়। সেখানে আশরাফুলসহ চার জন আলমের বাড়িতে মাদক সেবন করে। এরপর রাতে তারা আশরাফুলকে নিয়ে ইউনুসের বাঁশ ঝাড়ে যায়। আসামিরা আশরাফুলকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ কালিগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়। ওই রাতেই আশরাফুলের মোবাইল দিয়ে ইমোর সাহায্যে তার প্রবাসী বাবার কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং কয়েকটি বিকাশ নম্বর দেয় টাকা পাঠানোর জন্য।

ঘটনার কয়েকদিন পর আশরাফুলের মোটরসাইকেলটি রাজবাড়ী জেলার সাজ্জাদ হোসেনের কাছে ৪০ হাজার টাকা বিক্রি করে ওই টাকা তারা ভাগ করে নেয়। মোটরসাইকেলটি শুক্রবার সিলেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

অপর  চার আসামির মধ্যে একজন সম্প্রতি বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। বাকি তিন জনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) হানিফ সরকার জানান, ৬ আগস্ট  বিকালে  কাফাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল প্রাইভেট পড়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। ঘটনার পরের দিন তার দাদা নাজিম উদ্দিন মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে জিডিটি মামলা আকারের রেকর্ড করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রযুক্তির সাহায্যে ২৫ আগস্ট আশরাফুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় সিংগাইর আজিমপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করেন। মোবাইলের সূত্র ধরে  বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে কাফাটিয়া গ্রামে ইব্রাহিম ও সিংগাইরের জামশা গ্রামের আরিফকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য মোতাবেক শুক্রবার নিখোঁজ আশরাফুলের মরদেহ উদ্ধারের জন্য উত্তর জামশা এলাকায় কালীগঙ্গা নদীতে ডুবুরি দিয়ে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু লাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি।