প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন শিক্ষক জিয়াউর রহমান

শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমের সংকট দূর করতে কাজ করছিলেন প্রধান শিক্ষক জিয়াউর রহমান মামুন। ছাত্র-ছাত্রীদের কষ্ট তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে কথা বলতেও চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কীভাবে যে কি হয়ে গেলো, আমরা শিক্ষার্থীবান্ধব একজন শিক্ষককে হারালাম। এটি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। 

সহকর্মী হারানোর আক্ষেপ নিয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন টঙ্গী শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরুজ্জামান। 

বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) ভোরে গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার বড়বাড়ির বগারটেক এলাকার জয়বাংলা সড়কের পাশে নিজস্ব প্রাইভেটকার থেকে শিক্ষক জিয়াউর রহমান মামুন ও তার স্ত্রী শিক্ষক জলি আক্তারের লাশ উদ্ধার হয়। স্বজনদের দাবি তাদেরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

প্রাইভেটকারে শিক্ষক দম্পতির লাশ, স্বজনদের দাবি পরিকল্পিত হত্যা 

শিক্ষক নুরুজ্জামান বলেন, বুধবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে স্কুল থেকে বের হওয়ার সময় ভবন নির্মাণের জন্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাবেন বলে জানিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক জিয়উর রহমান। তিনি বলেছিলেন- ‘স্কুলের আরেকটি ভবন নির্মাণ দরকার। আমার স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে কষ্ট করে পড়াশোনা করে। শিক্ষার্থীদের কষ্ট আমি মেনে নিতে পারি না। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে নেতাকর্মীদের ভিড়ে কথা বলা যায় না। তাই একান্তভাবে কিছু বলার সুযোগ হয়ে উঠে না। বৃহস্পতিবার টঙ্গী প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের মিটিংয়ে লোক কম থাকলে স্কুলের ভবন নির্মাণের বিষয়ে কথা বলবো। তুমি তৈরি থেকো।’

শিক্ষক জলি আক্তার ও জিয়াউর রহমান মামুনতিনি আরও বলেন, স্কুলের শিক্ষক, পরিচালনা পরিষদের সদস্য এবং শিক্ষার্থীসহ সবার সঙ্গেই স্যারের ব্যবহার ও সম্পর্ক ভালো ছিল। এমন একজন ভালো মানুষ স্যারের এভাবে মৃত্যু হবে, তা মেনে নেওয়া যায় না। স্যারের মৃত্যুর পেছনে কেউ থাকলে অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। 

জানা যায়, ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান মামুন টঙ্গী শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি কালীগঞ্জের উনসই উচ্চ বিদ্যালয় এবং নারায়ণগঞ্জের পুলিশ লাইন্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রাইভেটকার থেকে শিক্ষক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার

টঙ্গী শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, টঙ্গী প্রেসক্লাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের সঙ্গে স্কুলের ভবন নির্মাণ বিষয়ে আলোচনার কথা ছিল প্রধান শিক্ষক জিয়াউর রহমান মামুনের। কিন্তু তা আর হলো না। জিয়াউর রহমান শুধুমাত্র একজন দক্ষ শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি মূল্যবোধ সম্পন্ন প্রকৃত একজন মানুষ ছিলেন। 

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, শিক্ষক জিয়াউর রহমান বিভিন্ন সময় স্কুলের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতেন। বেঁচে থাকলে আজও আগের মতো হয়তো আসতেন। তার মৃত্যুতে আমার কাছের একজন মানুষকে হারালাম। আমি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে তার মৃত্যুর বিষয়ে সৃষ্ট রহস্যের পর্দা উঠবে। 

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক দম্পতির মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যঘেরা। বিষক্রিয়া থেকে তাদের মৃত্যু, না কোনও পূর্ব শত্রুতা থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।