ফারাক্কা বাঁধ খুললেও পদ্মায় বাড়েনি পানি, বন্যার আশঙ্কা নেই

ভারতের বিহারের গঙ্গায় পানির স্তর অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেটের সবগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এতে বাংলাদেশের পদ্মা অববাহিকায় আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা নেই। ফারাক্কার বাঁধের সব গেট খুলে দেওয়ার পরও তা দিয়ে খুব বেশি পানি আসবে না। ফারাক্কার উজানে গঙ্গা অববাহিকায় বৃষ্টি বাড়লেও তা স্বাভাবিক অবস্থায় আছে।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) বিকাল ৫টা পর্যন্ত পানির প্রভাব পড়েনি রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে। বরং এখানে পানি কমেছে। প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার নিচ দিয়ে। রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে এখানে পদ্মা নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে।’ 

পাউবোর এই কর্মকর্তা বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১১ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে পানি ৬ সেন্টিমিটার কমেছে। এখানে পানির বর্তমান লেভেল ৬ দশমিক ৮৮ মিটার। বিপদসীমা ৮ দশমিক ২২ মিটার। এছাড়া জেলার কালুখালি উপজেলার মহেন্দ্রপুর পয়েন্টে গত ৯ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। এখানে বর্তমান লেভেল ৮ দশমিক ৫ মিটার। বিপদসীমা ৯ দশমিক ৭৫ মিটার। অর্থাৎ দুটি পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বন্যার কোনও আশঙ্কা নেই।’

প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন আরও বলেন, ‘ফারাক্কা বাঁধের পানি রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে আসতে দুই-তিন দিন সময় লাগতে পারে। তবে তা বন্যা হওয়ার মতো হবে না। আমাদের বিভাগীয় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বার্তায় আগামী পাঁচ দিন পদ্মার তীরবর্তী এলাকায় বন্যার কোও আশঙ্কা নেই। তাই ফারাক্কার বাঁধ খুলে দিলেও জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানাই।’

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, ‘ইতিমধ্যে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এ জন্য উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সব দফতর, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। সাতটি আশ্রয়কেন্দ্র, ২৪টি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে ১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জনসাধারণকে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।’