প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি ও রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের অভিযোগে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার সিফাত আব্দুল্লাহ (২৫) জামিন না মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর মেট্টোপলিটন আদালত-৫ এর বিচারক রাকিবুল হাসানের আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করেন।
সিফাত আব্দুল্লাহ (২৫) গাজীপুর মহানগরীর (৩৮ নম্বর ওয়ার্ড) টিনের মসজিদ এলাকার সিকান্দর আলীর ছেলে। তিনি রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।
সিফাতের আইনজীবি রাশেদুল ইসলাম বলেন, সোমবার সকালে সিফাত আব্দুল্লাহর জামিনের জন্য গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালত-৫ আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধিতায় সিফাতের জামিন নামঞ্জুর হয়। এখন আমরা সেশন কোর্টে যাবো।
মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গ্রেফতার সিফাত ফ্যাসিবাদের দোসর। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। আজ তার পক্ষে আইনজীবীরা জামিন চায়, তবে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেছেন। সিফাত পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের এজেন্ডা হিসেবেই কাজ করেছে। তিনি ৫ আগস্টের আগে থেকেই ফ্যাসিস্টদের হয়ে কাজ করেছেন, তা এখন অব্যাহত রেখেছেন।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারকে নিয়ে ফেসবুকে গালিগালাজ ও কটূক্তির জেরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলার পর গ্রেফতার সিফাতকে কারাগারে পাঠান আদালত। বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিফাত বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও লেখালেখি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সবশেষ বৃহস্পতিবার তিনি ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে গালিগালাজ করতে দেখা যায় তাকে।
ভিডিওতে সিফাত দাবি করেন, তার বাসায় চলতি মাসে চার হাজার টাকা এবং আগের মাসে পাঁচ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে। তার দাবি, এই বিদ্যুৎ বিল স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে তাকে আটক করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলার গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন।